অর্থনীতি ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৭
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
মি. হাবিব নোয়াখালি জেলার একজন বৈদ্যুতিক মিস্ত্রি। সে কাজের সন্ধানে দুবাই যায়। একদিন সে একটি শপিংমলে প্রাণ আচার, চানাচুর ও RFL এর পণ্যসামগ্রী দেখে আনন্দ অনুভব করে। কিন্তু তা সামান্য মাত্র। শপিংমলের অন্যান্য দ্রব্যসামগ্রী চীন, জাপান, আমেরিকা ও ইংল্যান্ডের। দোকানদার হাবিবকে বলেন যে, তোমার দেশের উৎপাদিত পণ্যের মান নিম্ন, পরিবহন সমস্যা, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার জন্য আমরা কম পণ্য আমদানি করি।
- ক)(1)
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কী?
- খ)(2)
আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যের প্রধান দুটি পার্থক্য লিখ।
- গ)(3)
শপিংমলে হাবিবের দেশের পণ্য কম হওয়ার কারণ কী?
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে হাবিবের দেশের বেশি পণ্যসামগ্রী শপিংমলে দেখতে হলে কী করা প্রয়োজন?
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দুই বা ততোধিক স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের মধ্যে নিয়মমাফিক সম্পাদিত দ্রব্যসামগ্রী ও সেবাকর্মের ক্রয়-বিক্রয় বা বিনিময়কে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যের প্রধান দুটি পার্থক্য নিচে উল্লেখ করা হলো:
১. ভৌগোলিক বা রাজনৈতিক সীমানা: অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য একটি নির্দিষ্ট দেশের অভ্যন্তরীণ ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে পরিচালিত হয়; পক্ষান্তরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য দুই বা ততোধিক স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের ভৌগোলিক সীমানা পেরিয়ে সংঘটিত হয়।
২. মুদ্রা ও ব্যাংকিং ব্যবস্থা: অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যে দেশের নিজস্ব একই ধরনের মুদ্রা ও ব্যাংকিং ব্যবস্থা ব্যবহৃত হয়; কিন্তু আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিভিন্ন দেশের ভিন্ন ভিন্ন মুদ্রা ও আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ও বিনিময় ব্যবস্থা ব্যবহৃত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত শপিংমলে হাবিবের দেশের (বাংলাদেশ) পণ্য কম হওয়ার পেছনে প্রধান কারণসমূহ হলো পণ্যের নিম্নমান, দুর্বল পরিবহন ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা।
অর্থনীতি অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে পণ্যের গুণগত মান উন্নত, মূল্য প্রতিযোগিতামূলক এবং নিয়মিত ও দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করা আবশ্যক। উদ্দীপকে দেখা যায়, হাবিব দুবাইয়ের একটি শপিংমলে গিয়ে দেখে চীন, জাপান, আমেরিকা ও ইংল্যান্ডের উন্নত পণ্যের আধিক্য রয়েছে এবং বাংলাদেশের পণ্য অতি সামান্য। দোকানদারের বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের উৎপাদিত পণ্যের মান বিশ্বমানের তুলনায় নিম্ন, পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থা ত্রুটিপূর্ণ এবং ঘনঘন রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে সময়মতো পণ্য পৌঁছানো সম্ভব হয় না।
এসব প্রতিকূল উপাদানের কারণে আন্তর্জাতিক আমদানিকারকরা বাংলাদেশের পণ্য আমদানিতে নিরুৎসাহিত হন, যার ফলে উক্ত শপিংমলে হাবিবের দেশের পণ্যের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে হাবিবের দেশের (বাংলাদেশের) বেশি পণ্যসামগ্রী বিদেশি শপিংমলে দেখতে হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন:
১. পণ্যের গুণগত মান উন্নয়ন: রপ্তানি পণ্যের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড (ISO ও অন্যান্য মান নিয়ন্ত্রণ সনদ) নিশ্চিত করতে হবে। আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষ শ্রমিকের সাহায্যে গুণগত মানসম্পন্ন আকর্ষণীয় পণ্য উৎপাদন করতে হবে।
২. পরিবহন ও বন্দর ব্যবস্থার আধুনিকায়ন: পণ্য দ্রুত ও সুলভে পরিবহনের জন্য উন্নত নৌ, আকাশ ও স্থলপথের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ঘটাতে হবে। বিশেষ করে সমুদ্র ও বিমানবন্দরগুলোর কনটেইনার হ্যান্ডলিং ও শুল্কায়ন প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত করতে হবে।
৩. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকরণ: দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে হবে, যাতে হরতাল বা রাজনৈতিক সংকটে উৎপাদন ও সরবরাহ চেইন ব্যাহত না হয়।
৪. রপ্তানি প্রণোদনা ও পণ্যের বহুমুখীকরণ: শুধু স্বল্প কয়েকটি পণ্যের ওপর নির্ভর না করে বহুমুখী খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও হালকা প্রকৌশল সামগ্রী উৎপাদনে রপ্তানিকারকদের আর্থিক প্রণোদনা ও ঋণ সুবিধা প্রদান করতে হবে।
৫. বাজার গবেষণা ও আন্তর্জাতিক প্রচার: আন্তর্জাতিক ভোক্তাদের চাহিদা অনুযায়ী ডিজাইন ও প্যাকেজিংয়ে আধুনিকতা আনতে হবে এবং বিভিন্ন দেশে বাণিজ্য মেলার মাধ্যমে প্রচারণা বাড়াতে হবে।
উপরিউক্ত পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন করলে বাংলাদেশের পণ্যের আন্তর্জাতিক চাহিদা বৃদ্ধি পাবে এবং বিশ্ববাজারের নামী শপিংমলগুলোতে দেশের পণ্যের প্রাচুর্য দেখা যাবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও