যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৭
যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
সহানুমানে ব্যবহৃত মধ্যপদের প্রতীক কী?
- খ)(2)
সহানুমানের সিদ্ধান্ত কীভাবে আশ্রয় বাক্য নির্ভর? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে প্রশ্নবোধক (?) চিহ্নিত স্থানে পাঠ্যবইয়ের আলোকে উপযুক্ত প্রতীক বসাও।
- ঘ)(4)
সহানুমানের ক্ষেত্রে উদ্দীপকে নির্দেশিত বিষয়টির গুরুত্ব বর্ণনা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সহানুমানে ব্যবহৃত মধ্যপদের প্রতীক হলো 'M' (Middle Term)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সহানুমানের সিদ্ধান্ত আশ্রয়বাক্যের উপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল, কারণ সহানুমানের মূল বৈশিষ্ট্যই হলো সিদ্ধান্তটি প্রদত্ত আশ্রয়বাক্য দুটি থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয়। আশ্রয়বাক্যে প্রধান পদ (P) এবং অপ্রধান পদের (S) সাথে মধ্যপদের (M) পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে পক্ষপদ ও সাধ্যপদের মধ্যে একটি সুনির্দিষ্ট সম্বন্ধ স্থাপিত হয়। আশ্রয়বাক্যের সত্যতা সিদ্ধান্তের সত্যতাকে নিশ্চিত করে এবং আশ্রয়বাক্যে যতটুকু ব্যক্ত থাকে সিদ্ধান্তের ব্যাপকতা তার চেয়ে বেশি হতে পারে না। ফলে আশ্রয়বাক্য ব্যতীত সিদ্ধান্তের কোনো স্বাধীন অস্তিত্ব বা বৈধতা থাকে না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে সহানুমানের চারটি সংস্থানকে (Figures of Syllogism) সাংকেতিক রেখাচিত্রের মাধ্যমে নির্দেশ করা হয়েছে। যেখানে প্রধান পদ = P, অপ্রধান পদ = S এবং মধ্যপদ = M।
পাঠ্যবইয়ের আলোকে '?' চিহ্নিত স্থানে উপযুক্ত প্রতীক বসিয়ে রূপরেখাগুলো নিচে দেখানো হলো:
১. প্রথম সংস্থান (১ম চিত্রে):
প্রধান আশ্রয়বাক্য: M — P
অপ্রধান আশ্রয়বাক্য: S — M
সিদ্ধান্ত: S — P
(এখানে মধ্যপদ প্রধান আশ্রয়বাক্যের উদ্দেশ্য এবং অপ্রধান আশ্রয়বাক্যের বিধেয় হিসেবে যুক্ত।)২. দ্বিতীয় সংস্থান (২য় চিত্রে):
প্রধান আশ্রয়বাক্য: P — M
অপ্রধান আশ্রয়বাক্য: S — M
সিদ্ধান্ত: S — P
(এখানে মধ্যপদ উভয় আশ্রয়বাক্যের বিধেয় স্থানে অবস্থিত। উদ্দীপকের রেখাচিত্রে প্রথম ও দ্বিতীয় আশ্রয়বাক্যের বিধেয়দ্বয় সংযুক্ত।)৩. তৃতীয় সংস্থান (৩য় চিত্রে):
প্রধান আশ্রয়বাক্য: M — P
অপ্রধান আশ্রয়বাক্য: M — S
সিদ্ধান্ত: S — P
(এখানে মধ্যপদ উভয় আশ্রয়বাক্যের উদ্দেশ্য স্থানে অবস্থিত। উদ্দীপকের চিত্রে প্রথম ও দ্বিতীয় আশ্রয়বাক্যের উদ্দেশ্যদ্বয় সংযুক্ত।)৪. চতুর্থ সংস্থান (৪র্থ চিত্রে):
প্রধান আশ্রয়বাক্য: P — M
অপ্রধান আশ্রয়বাক্য: M — S
সিদ্ধান্ত: S — P
(এখানে মধ্যপদ প্রধান আশ্রয়বাক্যের বিধেয় এবং অপ্রধান আশ্রয়বাক্যের উদ্দেশ্য স্থানে অবস্থিত।) - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নির্দেশিত বিষয়টি হলো সহানুমানের 'সংস্থান' (Figure)। সহানুমানের বৈধতা নির্ণয় এবং যুক্তির সঠিক রূপ বিশ্লেষণে সংস্থানের গুরুত্ব অপরিসীম।
সংস্থানের গুরুত্ব নিচে আলোচনা করা হলো:
১. যুক্তির আকার নির্ধারণ: আশ্রয়বাক্যদ্বয়ে মধ্যপদের অবস্থানের পরিবর্তনের ফলে সহানুমানের ভিন্ন ভিন্ন আকার বা সংস্থান গঠিত হয়। মধ্যপদ কীভাবে সাধ্যপদ ও পক্ষপদের সাথে সম্পর্কযুক্ত হবে, তা সংস্থান থেকেই স্পষ্ট হয়।২. বৈধ মূর্তি নির্ধারণ: সংস্থানের সাহায্যেই প্রতিটি সংস্থানের বিশেষ নিয়মাবলী এবং বৈধ মূর্তিগুলো (Valid Moods) নির্ণয় করা যায়। যেমন—প্রথম সংস্থানে ৪টি, দ্বিতীয় সংস্থানে ৪টি, তৃতীয় সংস্থানে ৬টি এবং চতুর্থ সংস্থানে ৫টি—মোট ১৯টি বৈধ মূর্তি সংস্থানভিত্তিক নিয়মের মাধ্যমেই পাওয়া যায়।
৩. যুক্তির বৈধতা বিচার: কোনো সহানুমান যুক্তি বৈধ নাকি অবৈধ, তা যাচাই করার জন্য সংস্থানের বিশেষ নিয়মাবলী প্রয়োগ অপরিহার্য। প্রতিটি সংস্থানের নিজস্ব নিয়ম লঙ্ঘিত হলে যুক্তিটিতে অনুপপত্তি (Fallacy) ঘটে।
৪. নিখুঁত প্রমাণ উপস্থাপন: এরিস্টটলের মতে, প্রথম সংস্থান হলো সর্বোত্তম এবং প্রত্যক্ষ সংস্থান, কারণ এটি যুক্তির বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিকে সবচেয়ে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে। অন্যান্য সংস্থানের যুক্তিকে রূপান্তরের (Reduction) মাধ্যমে প্রথম সংস্থানে এনে বৈধতা প্রমাণ করা হয়।
সুতরাং, সহানুমানের সিদ্ধান্ত গঠন, যুক্তির কাঠামো এবং বৈধতা মূল্যায়নে উদ্দীপকে প্রদর্শিত সংস্থানের গুরুত্ব মৌলিক ও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও