বাংলা ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৩

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

অটোমান সাম্রাজ্যের পথ প্রদর্শক সুলতানা কোসেম। যখনই রাজ পরিবার বিপদগ্রস্ত হয়েছে, তখনই সুলতানা কোসেম মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন। এক সৈনিক শত্রুর সাথে হাত মেলালে প্রমাণ সাপেক্ষে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। এতে ঐ সৈনিকের পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সুলতানা ঐ পরিবারের দায়ভার ও তার ছেলে হাবিবের লেখাপড়ার দায়িত্ব নেন। কিন্তু হাবিব পিতৃহত্যার কথা জানতে পেরে মনে মনে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। সুযোগ পেয়ে কোসেমকে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করেন। এ যাত্রায় সুলতানা রক্ষা পেলে হাবিব নাবালক বলে তাকে ক্ষমা করেন এবং সংশোধনাগারে পাঠিয়ে দেন। দীর্ঘদিন সংশোধনাগারে রাখার পর হাবিবকে আবার সৈনিক হিসেবে নিয়োগ দেন। কিন্তু হাবিব সুযোগ পেয়ে সুলতানাকে হত্যা করেন।

  1. ক)

    সিরাজ কাকে আলিনগরের দেওয়ান নিযুক্ত করেন?

    (1)
  2. খ)

    "শুভ কাজে অযথা বিলম্ব করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়” - কে কী প্রসঙ্গে একথা বলেছিলেন?

    (2)
  3. গ)

    'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের মহম্মদী বেগ চরিত্রের সাথে উদ্দীপকে বর্ণিত হাবিব চরিত্রটির সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য তুলে ধর।

    (3)
  4. ঘ)

    "ক্ষমা প্রদর্শন করে কোসেম সুলতানার যে পরিণতি সিরাজউদ্দৌলা নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলারও একই পরিণতি হয়েছে”—যুক্তি দিয়ে বিচার কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সিরাজ মানিকচাঁদকে আলিনগরের দেওয়ান নিযুক্ত করেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "শুভ কাজে অযথা বিলম্ব করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়"—উক্তিটি ঘসেটি বেগম নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে সিংহাসনচ্যুত করার চক্রান্তে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রসঙ্গে করেছিলেন।

    নবাবের বিরুদ্ধে লর্ড ক্লাইভ, মীর জাফর, জগৎশেঠ ও ঘসেটি বেগমরা যখন গোপন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন, তখন ইংরেজ প্রতিনিধি ওয়াটস তাঁদের চুক্তির শর্তাবলী চূড়ান্ত করতে আসেন। নবাবের পতন ঘটিয়ে মীর জাফরকে মসনদে বসানোর পরিকল্পনাটি দ্রুত কার্যকর করার তাগিদ দিয়ে ঘসেটি বেগম এই মন্তব্যটি করেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের মহম্মদী বেগ এবং উদ্দীপকের হাবিব উভয়ই তাদের আশ্রয়দাতা বা উপকারীর প্রতি চরম বিশ্বাসঘাতকতা ও অকৃতজ্ঞতার সাদৃশ্যে একসূত্রে গাঁথা হলেও তাদের প্রতিশোধের পেছনের প্রেক্ষাপটে বৈসাদৃশ্য রয়েছে।

    সাদৃশ্য:
    হাবিব ও মহম্মদী বেগ—উভয়েই উপকারীর সাথে কৃতঘ্ন আচরণ করেছে এবং নিজ হাতে তাদের হত্যা করেছে। মহম্মদী বেগ নবাব আলীবর্দী খাঁ এবং সিরাজউদ্দৌলার পরিবারে আশ্রিত হিসেবে লালিত-পালিত হয়েছিল। সিরাজের পিতার অনুগ্রহে সে বড় হয়। অথচ সামান্য কিছু অর্থের লোভে সে বন্দি সিরাজউদ্দৌলাকে নির্মমভাবে হত্যা করে। উদ্দীপকের হাবিবও সুলতানা কোসেমের আশ্রয়ে লালিত-পালিত ও ক্ষমাপ্রাপ্ত হয়ে শেষ পর্যন্ত সুযোগ পেয়ে কোসেমকেই হত্যা করে। আশ্রয়দাতার বুকে ছুরি চালানোয় উভয় চরিত্রই বিশ্বাসঘাতকতার প্রতীক।

    বৈসাদৃশ্য:
    মহম্মদী বেগের সিরাজউদ্দৌলার প্রতি কোনো ব্যক্তিগত পারিবারিক আক্রোশ ছিল না; সে নিছক কিছু টাকা ও স্বার্থের লোভে বেইমানি করে সিরাজকে হত্যা করেছে। অন্যদিকে, হাবিবের ভেতরে ছিল তার পিতৃহত্যার প্রতিশোধস্পৃহা। পিতৃহত্যার ক্ষোভ থেকে সে কোসেমকে শত্রু গণ্য করে হত্যা করেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "ক্ষমা প্রদর্শন করে কোসেম সুলতানার যে পরিণতি, সিরাজউদ্দৌলা নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলারও একই পরিণতি হয়েছে"—উক্তিটি গভীর তাৎপর্যপূর্ণ এবং যথার্থ।

    উদ্দীপকে সুলতানা কোসেম তার ওপর প্রাণঘাতী আক্রমণকারী হাবিবকে নাবালক ভেবে ক্ষমা করে দেন এবং পরবর্তীতে আবার সৈনিকের পদে পুনর্বাসন করেন। কিন্তু এই অতিরিক্ত ক্ষমাশীলতা ও সুযোগ দেওয়ার ফলে হাবিব পুনরায় সুযোগ পেয়ে সুলতানাকে নির্মমভাবে হত্যা করে। সুলতানার ক্ষমাই তাঁর নিজের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়।

    'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকেও নবাব সিরাজউদ্দৌলা একই ধরনের দুর্বলতা ও অতিমাত্রিক ক্ষমাশীলতা প্রদর্শন করেছিলেন। প্রধান সেনাপতি মীর জাফর একের পর এক দেশদ্রোহী কর্মকাণ্ড ও নবাববিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হলেও নবাব তাকে কঠোর শাস্তি দেননি। বরং মীর জাফরের মুখে আনুগত্যের অঙ্গীকার ও পবিত্র কোরআন ছুঁয়ে শপথ করা দেখেই তাকে ক্ষমা করে সেনাপতি পদে বহাল রাখেন। পলাশীর প্রান্তরে মীর জাফর সেই ক্ষমার প্রতিদান দেয় বিশ্বাসঘাতকতার মাধ্যমে। নবাবের এই অতিরিক্ত নমনীয়তা ও ক্ষমাপ্রবণতাই নবাবের পরাজয়, পতন এবং শেষ পর্যন্ত মহম্মদী বেগের হাতে নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

    অতএব, দেখা যায় যে উদ্দীপকের কোসেম সুলতানা এবং ইতিহাসের নবাব সিরাজউদ্দৌলা—উভয়েই অযোগ্য ও চক্রান্তকারী শত্রুকে ক্ষমা প্রদর্শন করে চরম মূল্য দিয়েছেন এবং নিজের মর্মান্তিক পরিণতি ডেকে এনেছেন। কাজেই প্রশ্নোক্ত উক্তিটি সম্পূর্ণ সুপ্রমাণিত ও যুক্তিযুক্ত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন