জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৭
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
শিক্ষক ব্যবহারিক ক্লাসে রুইমাছের ব্যবচ্ছেদপূর্বক সংকোচন প্রসারণশীল বিশেষ একটি অঙ্গকে দেখিয়ে বললেন— এটি রক্ত সংবহনের প্রাণকেন্দ্র । তিনি আরও বললেন— “মাছের ক্ষেত্রে এই সংবহন প্রক্রিয়াটি এক চক্রীয় প্রকৃতির।”
- ক)(1)
রিওট্যাক্সিস কী?
- খ)(2)
ইমপ্ল্যান্টেশন বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিশেষ অঙ্গটির চিত্রসহ গঠন বর্ণনা করো ।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত শিক্ষকের শেষ উক্তিটি বিশ্লেষণ করো ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পানির স্রোতের উদ্দীপনার প্রতি সাড়া দিয়ে প্রাণীর যে অভিমুখী চলন ঘটে, তাকে রিওট্যাক্সিস (Rheotaxis) বলে। যেমন: রুই মাছ স্রোতের প্রতিকূলে সাঁতার কাটে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নিষেক বা ফার্টিলাইজেশনের পর জাইগোট ক্রমাগত বিভাজিত হয়ে ব্লাস্টোসিস্ট দশায় পরিণত হয়। নিষেকের প্রায় ৬-৯ দিন পর এই ব্লাস্টোসিস্ট মাতৃজরায়ুর অ্যান্ডোমেট্রিয়ামে প্রবিষ্ট বা সংস্থাপিত হওয়াকে ইমপ্ল্যান্টেশন (Implantation) বা গর্ভধারণ বলা হয়। এর মাধ্যমে ভ্রূণ জরায়ুর প্রাচীর থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও অক্সিজেন গ্রহণ করে এবং বৃদ্ধি পেতে থাকে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত রক্ত সংবহনের প্রাণকেন্দ্র বিশেষ সংকোচন-প্রসারণশীল অঙ্গটি হলো রুই মাছের হৃৎপিণ্ড।
রুই মাছের হৃৎপিণ্ডের গঠন:
রুই মাছের হৃৎপিণ্ড পেরিকার্ডিয়াল গহ্বরে অবস্থিত এবং পেরিকার্ডিয়াম নামক দ্বিস্তরী পর্দা দ্বারা আবৃত। এর প্রধান প্রকোষ্ঠ দুটি (একটি অলিন্দ ও একটি নিলয়) এবং উপপ্রকোষ্ঠ একটি (সাইনাস ভেনোসাস)। গঠন নিম্নে আলোচনা করা হলো:১. সাইনাস ভেনোসাস (Sinus venosus): এটি হৃৎপিণ্ডের পৃষ্ঠদেশে অবস্থিত একটি পাতলা প্রাচীরবিশিষ্ট উপপ্রকোষ্ঠ। সারা দেহ থেকে সংগৃহীত ডিঅক্সিজেনেটেড রক্ত ডাক্টাস কুভিয়ের মাধ্যমে এখানে প্রবেশ করে। এটি সাইনো-অ্যাট্রিয়াল ছিদ্রের মাধ্যমে অলিন্দে উন্মুক্ত হয়, যা কপাটিকা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।
২. অলিন্দ বা অ্যাট্রিয়াম (Atrium): এটি সাইনাস ভেনোসাসের সম্মুখে অবস্থিত পাতলা প্রাচীরযুক্ত একটি বৃহৎ প্রকোষ্ঠ। সাইনাস ভেনোসাস থেকে রক্ত এতে আসে এবং এটি অ্যাট্রিও-ভেন্ট্রিকুলার ছিদ্রের মাধ্যমে নিলয়ে রক্ত প্রেরণ করে। ছিদ্রটিতে অ্যাট্রিও-ভেন্ট্রিকুলার কপাটিকা থাকে।
৩. নিলয় বা ভেন্ট্রিকল (Ventricle): এটি অলিন্দের অঙ্কীয় দেশে অবস্থিত এবং হৃৎপিণ্ডের সবচেয়ে পুরু ও পেশিবহুল প্রকোষ্ঠ। এটি থেকে রক্ত বাল্বাস আর্টারিওসাসে পরিবাহিত হয়।
৪. বাল্বাস আর্টারিওসাস (Bulbus arteriosus): এটি প্রকৃতপক্ষে নিলয় থেকে সৃষ্ট অঙ্কীয় মহাধমনির গোড়ার স্ফীত অংশ (এটি হৃৎপিণ্ডের প্রকৃত প্রকোষ্ঠ নয়)। এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে ফুলকা ধমনিতে রক্ত পাঠায়।
[চিত্রের বিবরণ: রুই মাছের হৃৎপিণ্ডের উল্লম্বচ্ছেদ অঙ্কন করে সাইনাস ভেনোসাস, সাইনো-অ্যাট্রিয়াল কপাটিকা, অলিন্দ, অ্যাট্রিও-ভেন্ট্রিকুলার কপাটিকা, নিলয় এবং বাল্বাস আর্টারিওসাস চিহ্নিত করতে হবে।]
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে শিক্ষকের শেষ উক্তিটি ছিল— “মাছের ক্ষেত্রে এই সংবহন প্রক্রিয়াটি এক চক্রীয় প্রকৃতির।” উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ। নিচে এর বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:
যে সংবহন প্রক্রিয়ায় হৃৎপিণ্ডের ভেতর দিয়ে একবার রক্ত সঞ্চালনের জন্য রক্ত কেবল একবারই হৃৎপিণ্ডে প্রবেশ করে এবং একবারই বের হয়ে যায়, তাকে এক চক্রীয় (Single circulation) রক্ত সংবহন বলে।
১. রুই মাছের সারা দেহ থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইডযুক্ত (ডিঅক্সিজেনেটেড) রক্ত বিভিন্ন প্রধান শিরার মাধ্যমে এসে সাইনাস ভেনোসাসে জমা হয়।
২. এরপর এই রক্ত অলিন্দে এবং অলিন্দ থেকে নিলয়ে পৌঁছায়।
৩. নিলয়ের সংকোচনের ফলে রক্ত বাল্বাস আর্টারিওসাসের মধ্য দিয়ে অঙ্কীয় মহাধমনিতে প্রবেশ করে এবং অন্তর্বাহী ফুলকা ধমনির সাহায্যে ফুলকায় প্রেরিত হয়।
৪. ফুলকায় গ্যাসের বিনিময় ঘটে এবং রক্ত অক্সিজেনযুক্ত হয়। এই অক্সিজেনযুক্ত রক্ত কিন্তু পুনরায় হৃৎপিণ্ডে ফেরত আসে না; বরং বহির্বাহী ফুলকা ধমনি ও পৃষ্ঠীয় মহাধমনির মাধ্যমে তা সরাসরি দেহের বিভিন্ন টিস্যু ও কোষে পরিবাহিত হয়।
৫. কোষে শ্বসনের ফলে রক্ত পুনরায় কার্বন ডাই-অক্সাইডযুক্ত হয়ে আবার হৃৎপিণ্ডে ফিরে আসে।যেহেতু রুই মাছের হৃৎপিণ্ডের মধ্য দিয়ে সারা দেহে একবার সঞ্চালনের সময় রক্ত কেবলমাত্র একবারই প্রবাহিত হয় এবং এই রক্ত সর্বদা কার্বন ডাই-অক্সাইডযুক্ত থাকে (যে কারণে একে 'শিরা হৃৎপিণ্ড' বা Venous heart-ও বলা হয়), তাই মাছের রক্ত সংবহন প্রক্রিয়াটি নিঃসংশয়ে 'এক চক্রীয় প্রকৃতির'। সুতরাং শিক্ষকের উক্তিটি সঠিক ও তাৎপর্যপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও