ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯
ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন
জনাব ফারহান তার পাওনাদার জনাব রিমনকে ০৪-০১-২০১৬ ইং তারিখে একটি চেক ইস্যু করে। তিনি উক্ত চেকের বাম কোণায় দুটি সমান্তরাল রেখা টেনে দেন। জনাব রিমনকে চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যেতে হয়। তাই তিনি জনাব ফারহানের নিকট হতে প্রাপ্ত চেকের টাকা উত্তোলনের জন্য ৪-৮-২০১৬ তারিখে ব্যাংকে উপস্থাপন করেন। ব্যাংক উক্ত চেকটি প্রত্যাখ্যান করে।
- ক)(1)
চেক কী?
- খ)(2)
বাহক চেক অধিক জনপ্রিয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত চেকটি কোন ধরনের দাগ কাটা চেক? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে ব্যাংক কর্তৃক চেক প্রত্যাখানের যথার্থতা মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
চেক হলো আমানতকারী কর্তৃক ব্যাংককে প্রদত্ত একটি শর্তহীন লিখিত নির্দেশপত্র, যাতে উল্লিখিত নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ চাহিবামাত্র চেকে প্রাপক বা তার আদেশানুসারে কোনো ব্যক্তিকে অথবা চেকের বাহককে প্রদান করার নির্দেশ থাকে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাহক চেক অধিক জনপ্রিয় কারণ এটি সহজে হস্তান্তরযোগ্য এবং ব্যাংকের কাউন্টারে উপস্থাপন করেই সরাসরি নগদ টাকা উত্তোলন করা যায়।
বাহক চেকে কোনো ব্যক্তির নাম লেখা থাকলেও 'অথবা বাহককে' কথাটি কাটা থাকে না। এর ফলে কোনো ধরনের পৃষ্ঠাঙ্কন (endorsement) ছাড়াই কেবল হস্তান্তরের মাধ্যমেই চেকটির মালিকানা বদল করা যায়। এছাড়া ব্যাংক হিসাবে জমা না দিয়ে ব্যাংকের কাউন্টার থেকেই সঙ্গে সঙ্গে টাকা তোলা যায় বলে সাধারণ লেনদেনে এটি বেশি জনপ্রিয় ও সুবিধাজনক।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত চেকটি একটি সাধারণ দাগ কাটা চেক (General Crossed Cheque)।
কোনো চেকের উপরিভাগে বাম কোণে আড়াআড়িভাবে দুটি সমান্তরাল সরলরেখা টেনে দিলে তাকে সাধারণ দাগ কাটা চেক বলা হয়। এই সমান্তরাল রেখাদ্বয়ের ভেতরে কোনো শব্দ লেখা থাকতেও পারে (যেমন- '& Co.', 'হিসাব প্রাপক মাত্র') অথবা কোনো শব্দ নাও থাকতে পারে। তবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যাংকের নাম লেখা থাকে না।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব ফারহান তার পাওনাদার জনাব রিমনকে চেক ইস্যু করে চেকের বাম কোণায় কেবল দুটি সমান্তরাল রেখা টেনে দেন এবং ছবিতেও কোনো ব্যাংকের নাম উল্লেখ ব্যতীত কেবল সমান্তরাল দাগ দেখা যাচ্ছে। যেহেতু রেখাদ্বয়ের মাঝে কোনো নির্দিষ্ট ব্যাংকের নাম লেখা হয়নি, তাই এটি সাধারণ দাগ কাটা চেক।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আলোকে ব্যাংক কর্তৃক চেকটি প্রত্যাখ্যান করার সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ যথার্থ এবং আইনসম্মত।
ব্যাংকিং নিয়ম ও হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন অনুযায়ী, একটি চেকের বৈধতার মেয়াদ সাধারণত ইস্যুর তারিখ থেকে পরবর্তী ৬ মাস (বা ১৮০ দিন) পর্যন্ত থাকে। ইস্যু করার তারিখ থেকে ৬ মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পর যদি কোনো চেক ব্যাংকে উপস্থাপিত হয়, তবে তাকে বাসি চেক বা তামাদি চেক (Stale Cheque) বলে। মেয়াদোত্তীর্ণ বা তামাদি চেকের বিপরীতে ব্যাংক অর্থ পরিশোধ করতে আইনত বাধ্য থাকে না এবং তা প্রত্যাখ্যান করে।
উদ্দীপকে জনাব ফারহান জনাব রিমনকে চেকটি ইস্যু করেছিলেন ০৪-০১-২০১৬ তারিখে। জনাব রিমন চিকিৎসার জন্য বিদেশে থাকায় তিনি চেকটি ব্যাংকে উপস্থাপন করেন ০৪-০৮-২০১৬ তারিখে। অর্থাৎ, চেক ইস্যুর তারিখ থেকে উপস্থাপনের তারিখ পর্যন্ত ৭ মাস অতিক্রান্ত হয়ে গেছে। ফলে চেকটির কার্যকারিতার মেয়াদ (৬ মাস) পার হয়ে এটি বাসি বা তামাদি চেকে পরিণত হয়েছে।
অতএব, মেয়াদোত্তীর্ণ বা তামাদি চেক হওয়ায় ব্যাংক কর্তৃক চেকটি প্রত্যাখ্যান করা যুক্তিযুক্ত ও বিধিসম্মত হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও