বাংলা ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৯
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
মাদক গ্রহণের অপরাধ মাথায় নিয়ে পুলিশ ভ্যানে উঠে বসল সাজিদ। মা-বাবা, পাড়া-প্রতিবেশী কেউ কল্পনা করতে পারেনি এমন দৃশ্য তাদের দেখতে হবে। শুধু ভালো ছাত্র হিসেবে নয়, তার মতো সাহসী, প্রতিবাদী, পরোপকারী সর্বগুণের অধিকারী একটি ছেলেও খুঁজে পাবে না কেউ বয়স্করা বলতেন, ‘আহা! এমন সোনার টুকরা যদি সবার ঘরে জন্মাত।' কান্নাজড়িত কণ্ঠে সাজিদের মা বলেন, 'কিছুদিন ধরে অচেনা একটা ছেলে ওর সাথে দেখা করতে আসত। ভাবতে পারিনি এত বড় সর্বনাশ হবে আমার ছেলের।’
- ক)(1)
‘আকাল' সুকান্ত ভট্টাচার্যের কী ধরনের রচনা?
- খ)(2)
‘তবু আঠারোর শুনেছি জয়ধ্বনি'— সপ্রসঙ্গ পক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
'এ বয়সে কানে আসে কত মন্ত্রণা'- উক্তিটি সাজিদের ক্ষেত্রে কীভাবে প্রযোজ্য? বুঝিয়ে দাও ।
- ঘ)(4)
'আহা! এমন সোনার টুকরা যদি সবার ঘরে জন্মাত!'— 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার শেষ পক্তির আলোকে উক্তিটি মূল্যায়ন করো ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
‘আকাল’ সুকান্ত ভট্টাচার্যের একটি সম্পাদিত কাব্যগ্রন্থ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
চরণটিতে আঠারো বছর বয়সের নেতিবাচক ও বিপজ্জনক দিক সত্ত্বেও এর ইতিবাচক ও কল্যাণমুখী শক্তির প্রতি কবির গভীর আস্থার প্রকাশ ঘটেছে।
আঠারো বছর বয়স যেমন দুর্যোগ, দুর্বিপাক আর বিভ্রান্তির শিকার হতে পারে, তেমনই এ বয়সেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার অপরাজেয় শক্তি সঞ্চারিত হয়। তারুণ্যই দেশ ও জাতির মুক্তি সংগ্রামে এবং আত্মত্যাগে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। তাই কবি সমস্ত ভয় ও বিপদের ঊর্ধ্বে তারুণ্যের এই অমিত শক্তি ও মহৎ চেতনাকে স্বাগত জানিয়ে আঠারোর জয়ধ্বনি শুনেছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাজিদের বিপথগামী হওয়ার ঘটনাটি 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার "এ বয়সে কানে আসে কত মন্ত্রণা" চরণের ভাবের সাথে সম্পূর্ণ সংগতিপূর্ণ।
'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য উল্লেখ করেছেন যে, আঠারো বছর বয়সে তরুণদের রক্তে যেমন বিপ্লবের জোয়ার আসে, তেমনই এ বয়সে বিভিন্ন ক্ষতিকর ও বিভ্রান্তিকর প্ররোচনা বা কুপ্রভাবও তাদের পথভ্রষ্ট করতে পারে। অনভিজ্ঞতা ও আবেগের আতিশয্যে তরুণরা অনেক সময় অসৎ সঙ্গ বা ভুল পরামর্শে কান দিয়ে ধ্বংসের মুখে পতিত হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সাজিদ অত্যন্ত মেধাবী, সাহসী, পরোপকারী এবং সৎ স্বভাবের ছেলে হওয়া সত্ত্বেও কিছুদিন ধরে এক অচেনা ছেলের সঙ্গ লাভ করে মাদকের করাল গ্রাসে নিমজ্জিত হয় এবং শেষ পর্যন্ত পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। অচেনা ছেলেটির অসৎ পরামর্শ ও কুপ্রভাবই সাজিদকে বিপথে চালিত করেছিল। কবিতার চরণে বর্ণিত তারুণ্যের ভুল মন্ত্রণায় বিভ্রান্ত হয়ে স্খলন ঘটার দিকটি সাজিদের এ করুণ পরিণতিতে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'আঠারো বছর বয়স' কবিতার শেষ পঙ্ক্তি "এ দেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে"-র ভাবনার আলোকে উদ্দীপকের উক্তিটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও যথার্থ।
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার ইতিবাচক বৈশিষ্ট্যগুলো—যেমন সাহসিকতা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, পরার্থপরতা এবং নবপ্রাণ সঞ্চারের শক্তি—সমগ্র জাতির মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন কবিতার শেষ চরণে। এ দেশের বুকে আঠারোর অপরাজেয় তারুণ্য ও প্রাণশক্তি নেমে এলে দেশ সমস্ত অন্যায় ও জরাজীর্ণতা থেকে মুক্ত হবে বলে কবি বিশ্বাস করেন।
উদ্দীপকে সাজিদের পূর্ববর্তী চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলো ছিল অনন্য। সে ছিল ভালো ছাত্র, সাহসী, অন্যায়ের প্রতিবাদকারী এবং পরোপকারী এক সোনার টুকরো ছেলে। পাড়া-প্রতিবেশী ও বয়স্কদের মুখে "এমন সোনার টুকরা যদি সবার ঘরে জন্মাত" আক্ষেপের মাধ্যমে সাজিদের সেই চারিত্রিক গুণাবলির প্রতি শ্রদ্ধা ও সমাজের ঘরে ঘরে এমন যুবকের প্রত্যাশা ফুটে উঠেছে। কবিতার শেষ চরণে কবি যেমন তারুণ্যের কল্যাণমুখী চেতনাকে ঘরে ঘরে ও দেশের বুকে সঞ্চারিত দেখতে চেয়েছেন, উদ্দীপকের প্রবীণরাও সাজিদের মতো সাহসী ও কল্যাণব্রতী যুবককে প্রতিটি ঘরে দেখতে চেয়েছিলেন। তবে সাজিদের শেষ পরিণতির মতো স্খলন নয়, বরং তারুণ্যের যে ইতিবাচক শক্তিতে সমাজ আলোকিত হয়, সেই শক্তি কাম্য করার দিক দিয়ে উদ্দীপকের উক্তিটি কবিতার শেষ চরণের মূল ভাবসত্যকেই সমর্থন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও