বাংলা ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯

বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ লেখো:

12.1.

বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য

12.2.

কর্মমুখী শিক্ষা

12.3.

স্বদেশপ্রেম

12.4.

মানবকল্যাণে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

12.5.

মাদকাসক্তি ও তার প্রতিকার

উত্তর ও ব্যাখ্যা

AI-তৈরি নমুনা উত্তর

মানবকল্যাণে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

ভূমিকা:
আধুনিক মানবসভ্যতার অপর নাম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি। অন্ধকার গুহাবাসী আদিম মানুষ থেকে শুরু করে বর্তমান মহাকাশচারী আধুনিক মানুষের যে উত্তরণ, তার মূলেই রয়েছে বিজ্ঞান। মানবজীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে, চিন্তায় ও কর্মে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উপস্থিতি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িয়ে রয়েছে। আধুনিক পৃথিবী বিজ্ঞানেরই এক পরম বিস্ময়কর রূপায়ণ।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির পারস্পরিক সম্পর্ক:
বিজ্ঞান হলো প্রাকৃতিক জগতের বিভিন্ন ঘটনা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে লব্ধ সুসংবদ্ধ ও পরীক্ষিত জ্ঞান। আর প্রযুক্তি হলো সেই বৈজ্ঞানিক জ্ঞানকে বাস্তব জীবনের প্রয়োজনে ফলপ্রসূভাবে প্রয়োগ করার কৌশল। বিজ্ঞানের তাত্ত্বিক আবিষ্কার প্রযুক্তির মাধ্যমে বাস্তব রূপ লাভ করে মানবকল্যাণে নিয়োজিত হয়।

চিকিৎসাক্ষেত্রে বিজ্ঞান:
মানবকল্যাণে বিজ্ঞানের সবচেয়ে বড় অবদান চিকিৎসাক্ষেত্রে। পূর্বে যেসব মহামারী (যেমন: কলেরা, গুটিবসন্ত, প্লেগ) লাখ লাখ মানুষের প্রাণ কেড়ে নিত, আজ বিজ্ঞানের কল্যাণে তা নির্মূলের পথে। এক্স-রে, সিটি স্ক্যান, এমআরআই, আল্ট্রাসনোগ্রাফি ইত্যাদির সাহায্যে রোগ নির্ণয় সহজ হয়েছে। জিন প্রকৌশল, জটিল অঙ্গ প্রতিস্থাপন এবং আধুনিক অ্যান্টিবায়োটিক ও ভ্যাকসিনের উদ্ভাবন মানুষের গড় আয়ু বহুগুণ বৃদ্ধি করেছে।

কৃষি ও খাদ্য উৎপাদনে অবদান:
বিশ্বের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্যের জোগান দিতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনন্য ভূমিকা পালন করেছে। আধুনিক সেচব্যবস্থা, উচ্চফলনশীল বীজ, রাসায়নিক সার, কীটনাশক এবং বায়োটেকনোলজির ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষিতে 'সবুজ বিপ্লব' সাধিত হয়েছে। ফলে খাদ্য ঘাটতি দূর হয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন সম্ভব হচ্ছে।

যোগাযোগ ও যাতায়াত ব্যবস্থায় বিপ্লব:
বিজ্ঞান দূরকে করেছে নিকট এবং পরকে করেছে আপন। স্থলপথে দ্রুতগতির বুলেট ট্রেন, মেট্রো রেল, জলপথে আধুনিক জাহাজ এবং আকাশপথে উড়োজাহাজ যাতায়াতকে করেছে অত্যন্ত দ্রুত ও আরামদায়ক। অন্যদিকে টেলিযোগাযোগ, স্যাটেলাইট ও ইন্টারনেটের অভাবনীয় প্রসারের ফলে সমগ্র বিশ্ব আজ 'গ্লোবাল ভিলেজ' বা বিশ্বগ্রামের রূপ ধারণ করেছে।

শিক্ষা ও গবেষণায় প্রযুক্তি:
বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রযুক্তি অবিচ্ছেদ্য অংশ। কম্পিউটার, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম এবং ই-লার্নিংয়ের মাধ্যমে শিক্ষার আলো প্রত্যন্ত অঞ্চলেও পৌঁছে যাচ্ছে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের গবেষণাপত্র মুহূর্তের মধ্যে অধ্যয়ন করা সম্ভব হচ্ছে।

নৈমিত্তিক ও গৃহস্থালি জীবনে বিজ্ঞান:
মানুষের দৈনন্দিন আরাম-আয়েশ বাড়াতে প্রযুক্তি অপরিহার্য। বিদ্যুৎ, ফ্যান, রেফ্রিজারেটর, ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওভেন ইত্যাদি গৃহস্থালি কাজকে করেছে অত্যন্ত সহজ ও সময়সাশ্রয়ী।

প্রযুক্তির অপব্যবহার ও ক্ষতিকর দিক:
বিজ্ঞানের কল্যাণকারী রূপের পাশাপাশি এর ধ্বংসাত্মক রূপও অত্যন্ত ভয়াবহ। মারণাস্ত্র, পারমাণবিক বোমা এবং জলবায়ু দূষণের কারণে মানবজাতি আজ অস্তিত্ব সংকটের সম্মুখীন। এছাড়া ইন্টারনেটের অপব্যবহার, সোশ্যাল মিডিয়ায় আসক্তি এবং সাইবার অপরাধের ফলে তরুণ প্রজন্মের মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

উপসংহার:
বিজ্ঞান কোনো ভালো বা মন্দ সত্তা নয়, এর ভালো বা মন্দ রূপ নির্ভর করে মানুষের ব্যবহারের ওপর। তাই মানবকল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিজ্ঞানের সুফলকে গ্রহণ এবং এর অপব্যবহার ও বিধ্বংসী প্রয়োগকে কঠোরভাবে বর্জন করতে হবে। বিজ্ঞানের আলোয় শুভবুদ্ধির বিকাশ ঘটলেই এই পৃথিবী আরও সুন্দর ও শান্তিময় হয়ে উঠবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন