সমাজকর্ম ২য় পত্র • সমাজকর্ম অনুশীলন ও মাঠকর্ম • Combined Board • চট্টগ্রাম, বরিশাল, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭

সমাজকর্ম ২য় পত্র প্রশ্ন

সাব্বির একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজকর্ম বিষয়ের উপরসম্মান কোর্সে অধ্যয়ন করছে। তাকে তার শ্রেণি শিক্ষক পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য কোনো একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে প্রেরণ করেন এবং কিছু পরামর্শ দেন যা তাকে তার লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য অবশ্যই পালন করতে হবে। পরামর্শগুলো হলো- সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তিকে সাদরে গ্রহণ করবে,
ক্লায়েন্টদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবে,
ক্লায়েন্টদের সাথে সু-সম্পর্ক স্থাপন করবে,
ক্লায়েন্টদের সাথে ব্যক্তিগত সম্পর্ক স্থাপন করবে না
এবং ক্লায়েন্টদের প্রয়োজনীয় তথ্য প্রকাশ করবে না।

  1. ক)

    কখন থেকে কেস ম্যানেজমেন্টের ব্যবহার শুরু হয়?

    (1)
  2. খ)

    মাঠকর্ম বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে সাব্বিরকে যে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে সমাজকর্মের ভাষায় তাকে কী বলে? পরামর্শগুলো কী কী? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    একজন সমাজকর্মীকে তার দক্ষতা অর্জনের জন্য উক্ত পরামর্শ ছাড়া আর কী কী নিয়ম মেনে চলতে হয় বলে তুমি মনে কর?

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বিংশ শতাব্দীর সত্তরের দশক (১৯৭০-এর দশক) থেকে সমাজকর্মে আনুষ্ঠানিকভাবে কেস ম্যানেজমেন্টের ব্যবহার ব্যাপকভাবে শুরু হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মাঠকর্ম (Fieldwork) হলো সমাজকর্ম শিক্ষার একটি ব্যবহারিক ও অপরিহার্য অংশ, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে অর্জিত তাত্ত্বিক জ্ঞানকে বাস্তব ক্ষেত্রে কোনো সামাজিক সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানে সরাসরি প্রয়োগ করে পেশাগত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অর্জন করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে সাব্বিরকে যে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, সমাজকর্মের ভাষায় সেগুলোকে 'সমাজকর্মের নীতিমালা' বা 'পেশাগত মূল্যবোধ ও নীতিমালা' (Principles of Social Work) বলা হয়।

    পরামর্শগুলো সমাজকর্মের সুনির্দিষ্ট নীতিমালার সাথে সম্পর্কিত, যা নিম্নরূপ:
    ১. সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তিকে সাদরে গ্রহণ করা: এটি সমাজকর্মের 'গ্রহণ নীতি' (Principle of Acceptance)।
    ২. ক্লায়েন্টদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা: এটি ব্যক্তির মর্যাদা ও মূল্যের স্বীকৃতি বা ব্যক্তিস্বাতন্ত্রীকরণ নীতি (Principle of Individualization)।
    ৩. ক্লায়েন্টদের সাথে সু-সম্পর্ক স্থাপন করা: এটি 'পেশাগত সম্পর্ক স্থাপন নীতি' বা র‍্যাপো (Rapport) তৈরি।
    ৪. ক্লায়েন্টদের সাথে ব্যক্তিগত সম্পর্ক স্থাপন না করা: এটি 'পেশাগত সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণ ও অনিরপেক্ষতার পরিহার' নীতি।
    ৫. ক্লায়েন্টদের প্রয়োজনীয় তথ্য প্রকাশ না করা: এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ 'গোপনীয়তার নীতি' (Principle of Confidentiality)।

    এই নীতিগুলো একজন পেশাদার সমাজকর্মীকে ক্লায়েন্টের সাথে কার্যকরভাবে কাজ করতে ও সমস্যা সমাধানে পথনির্দেশ দেয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    একজন সমাজকর্মীকে তার পেশাগত দক্ষতা অর্জনের জন্য উদ্দীপকে উল্লিখিত নীতিমালা ছাড়াও আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সমাজকর্মের নিয়ম ও নীতিমালা মেনে চলতে হয় বলে আমি মনে করি। সেগুলো হলো:

    ১. আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার নীতি (Principle of Self-determination): ক্লায়েন্টের নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়ার অধিকার রয়েছে। সমাজকর্মী ক্লায়েন্টের ওপর কোনো সমাধান জোর করে চাপিয়ে দেবেন না, বরং তাকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবেন।

    ২. যোগাযোগ নীতি (Principle of Communication): সমাজকর্মী ও ক্লায়েন্টের মধ্যে অবাধ, স্পষ্ট এবং অর্থপূর্ণ দ্বি-পাক্ষিক যোগাযোগ থাকতে হবে।

    ৩. বিচারহীন মনোভাবের নীতি (Principle of Non-judgmental Attitude): সমাজকর্মী কখনো ক্লায়েন্টের অতীতের ভুলত্রুটি, আচরণ বা নৈতিক স্খলন নিয়ে তাকে অভিযুক্ত বা বিচারকসুলভ দৃষ্টিভঙ্গিতে বিচার করবেন না।

    ৪. সহানুভূতির পরিবর্তে সমানুভূতি প্রকাশ (Empathy): সমাজকর্মী ক্লায়েন্টের সমস্যার গভীরে গিয়ে তার অবস্থান থেকে সমস্যাটি উপলব্ধি করবেন, তবে অন্ধ আবেগে প্রভাবিত হবেন না।

    ৫. সম্পদের সদ্ব্যবহার নীতি: প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ এবং সামাজিক সম্পদের সর্বোচ্চ ও সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে ক্লায়েন্টকে স্বাবলম্বী করার চেষ্টা করা।

    ৬. ধারাবাহিকতা ও মূল্যায়ন: সাহায্যদান প্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়মিত মূল্যায়ন ও পর্যালোচনা করা।

    এই নিয়মগুলো সঠিকভাবে অনুসরণের মাধ্যমে একজন সমাজকর্মী তাত্ত্বিক জ্ঞানের সাথে ব্যবহারিক দক্ষতার সমন্বয় ঘটিয়ে সফল পেশাজীবী হয়ে উঠতে পারেন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন