জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৭

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

মানুষের বক্ষগহ্বরে দুই ফুসফুসের মাঝে মোচাকৃতির একটি অঙ্গ আছে- যা রক্ত সংবহনের কেন্দ্র বিন্দু । এই অঙ্গটি স্নায়ু উদ্দীপনা ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যসম্পাদনে সক্ষম।

  1. ক)

    অ্যান্টিজেন কী?

    (1)
  2. খ)

    রুই মাছ স্থির পানিতে ডিম পাড়ে না কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত অঙ্গটির লম্বচ্ছেদের চিহ্নিত চিত্র অংকন করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত বিশেষ অঙ্গটি সম্পর্কিত শেষ উদ্ধৃতিটি যুক্তি সহকারে ব্যাখ্যা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অ্যান্টিজেন হলো এমন এক ধরণের বহিরাগত বা জৈব অণু (সাধারণত প্রোটিন বা পলিস্যাকারাইড), যা দেহে প্রবেশ করলে প্রতিরক্ষাতন্ত্রকে উদ্দীপিত করে নির্দিষ্ট অ্যান্টিবডি উৎপাদনে উৎসাহিত করে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    রুই মাছ সাধারণত বদ্ধ বা স্থির পানিতে (যেমন পুকুর বা ডোবা) ডিম পাড়ে না, কারণ এদের প্রজনন ও ডিম ছাড়ার জন্য অনুকূল প্রাকৃতিক পরিবেশ দরকার হয়। বর্ষাকালে নদী বা তীব্র স্রোতযুক্ত প্রবাহমান পানিতে প্রচুর দ্রবীভূত অক্সিজেন থাকে, পানির তাপমাত্রা ও নির্দিষ্ট ঘোলাটে ভাব প্রজনন হরমোন নিঃসরণে উদ্দীপনা জোগায়। স্থির পানিতে অক্সিজেনের ঘাটতি থাকে এবং প্রাকৃতিক উদ্দীপনা না পাওয়ায় হরমোনের ক্রিয়া স্বাভাবিকভাবে ঘটে না, ফলে রুই মাছ স্থির পানিতে ডিম পাড়ে না।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত অঙ্গটি হলো মানুষের হৃদপিণ্ড।

    [পরীক্ষার্থীদের এখানে মানুষের হৃদপিণ্ডের লম্বচ্ছেদের একটি স্পষ্ট ও পরিষ্কার চিত্র অঙ্কন করতে হবে।]
    চিত্রে চিহ্নিত করার মতো প্রধান অংশসমূহ:
    ১. ডান অলিন্দ (Right atrium) ও বাম অলিন্দ (Left atrium)
    ২. ডান নিলয় (Right ventricle) ও বাম নিলয় (Left ventricle)
    ৩. ট্রাইকাসপিড ও বাইকাসপিড (মাইট্রাল) কপাটিকা
    ৪. সেমিলুনার কপাটিকা (অ্যাওর্টিক ও পালমোনারি কপাটিকা)
    ৫. ঊর্ধ্ব ও নিম্ন মহাশিরা (Superior and Inferior vena cava)
    ৬. পালমোনারি ধমনি ও পালমোনারি শিরা
    ৭. মহাধমনি (Aorta)
    ৮. আন্তঃঅলিন্দ ও আন্তঃনিলয় পর্দা (Septum)।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের শেষ উদ্ধৃতিটি হলো— "এই অঙ্গটি স্নায়ু উদ্দীপনা ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যসম্পাদনে সক্ষম।" অঙ্গটি হলো মানুষের হৃদপিণ্ড এবং এর এই বিশেষ বৈশিষ্ট্যকে 'মায়োজেনিক নিয়ন্ত্রণ' (Myogenic regulation) বলা হয়। নিম্নে এর যৌক্তিক ব্যাখ্যা দেওয়া হলো:

    ১. স্বয়ংক্রিয় ছন্দময় সংকোচন: হৃদপিণ্ডের প্রাচীরে অবস্থিত বিশেষায়িত কার্ডিয়াক পেশিকলা দ্বারা গঠিত জাংশনাল টিস্যু বাইরের কোনো স্নায়বিক উদ্দীপনা ছাড়াই স্বতঃস্ফূর্তভাবে অ্যাকশন পটেনশিয়াল তৈরি করে হৃদস্পন্দন সৃষ্টি ও পরিচালনা করে।
    ২. সাইনো-অ্যাট্রিয়াল নোড (SAN): ডান অলিন্দের প্রাচীরে অবস্থিত SAN-কে হৃদপিণ্ডের 'পেসমেকার' বলা হয়। এটি প্রতি মিনিটে নির্দিষ্ট হারে (৭০-৮০ বার) স্বতঃস্ফূর্ত বৈদ্যুতিক তরঙ্গ তৈরি করে হৃদস্পন্দনের সূচনা করে।
    ৩. উদ্দীপনা পরিবহন ব্যবস্থা: SAN থেকে সৃষ্ট উদ্দীপনা আন্তঃনোডাল ট্র্যাক্ট দিয়ে অ্যাট্রিও-ভেন্ট্রিকুলার নোড (AVN)-এ পৌঁছায়। সেখান থেকে বান্ডল অব হিজ এবং পার্কিনজি তন্তুর মাধ্যমে নিলয়ের প্রাচীরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে অলিন্দ ও নিলয়ের পর্যায়ক্রমিক সংকোচন (সিস্টোল) ও প্রসারণ (ডায়াস্টোল) ঘটে।
    ৪. স্নায়ুবিহীন কার্যক্ষমতা: দেহ থেকে হৃদপিণ্ডকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে উপযুক্ত পুষ্টি ও অক্সিজেনযুক্ত দ্রবণে রাখলেও এটি কিছু সময় স্পন্দিত হতে পারে, যা প্রমাণ করে এর সংকোচন অভ্যন্তরীণ পেশিজাত এবং স্নায়ুর ওপর প্রত্যক্ষভাবে নির্ভরশীল নয়।

    অতএব, হৃদপিণ্ড বাইরের কোনো স্নায়ু উদ্দীপনা ছাড়াই জাংশনাল টিস্যুর মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্পন্দিত হয়ে কার্যসম্পাদন করে— উক্তিটি সম্পূর্ণ যুক্তিযুক্ত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন