কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র • মাঠ ও উদ্যান ফসল উৎপাদন • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, যশোর, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯

কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    রবি ফসল কী?

    (1)
  2. খ)

    বন্যার সময় কৃষকেরা স্থানীয় আমন জাতের ধান চাষ করে কেন?

    (2)
  3. গ)

    ছকের 'X' ও 'Y' এর মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে যার ভিত্তিতে শ্রেণিবিভাগ করা হয়েছে বাংলাদেশের কৃষিতে তার উপযোগিতা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যেসব ফসলের শারীরিক বৃদ্ধি ও ফুল-ফল ধারণের পুরো বা অধিকাংশ সময় রবি মৌসুমে (কার্তিক থেকে ফাল্গুন বা অক্টোবর/নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি/মার্চ) ঘটে, সেগুলোকে রবি ফসল বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বন্যার সময় সাধারণ উফশী বা আধুনিক জাতের ধান পানির নিচে তলিয়ে গেলে মারা যায়। কিন্তু স্থানীয় আমন জাতের ধান (যেমন- জাবরা, হিজলদীঘা ইত্যাদি বা জলি আমন) বন্যার পানির বৃদ্ধির সাথে সাথে দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে পানির উপরে ভেসে থাকতে পারে। এছাড়া এগুলো বেশি পানির গভীরতা ও জলাবদ্ধতা সহ্য করতে সক্ষম। তাই বন্যাপ্লাবিত বা নিচু এলাকায় ফসলহানি রোধ ও ফলন নিশ্চিত করতে কৃষকেরা স্থানীয় আমন জাতের ধান চাষ করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ছকে 'X' হলো রবি মৌসুম এবং 'Y' হলো খরিফ মৌসুম। নিচে এদের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করা হলো:

    ১. সময়কাল: আশ্বিন-কার্তিক থেকে ফাল্গুন-চৈত্র (১৬ অক্টোবর থেকে ১৫ মার্চ) হলো রবি মৌসুম ('X')। অন্যদিকে, চৈত্র-বৈশাখ থেকে ভাদ্র-আশ্বিন (১৬ মার্চ থেকে ১৫ অক্টোবর) হলো খরিফ মৌসুম ('Y')।
    ২. তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা: রবি মৌসুমে তাপমাত্রা, বায়ুর আর্দ্রতা এবং বৃষ্টিপাত কম থাকে ও দিন ছোট হয়। কিন্তু খরিফ মৌসুমে তাপমাত্রা, বায়ুর আর্দ্রতা ও বৃষ্টিপাত অনেক বেশি থাকে এবং দিন বড় হয়।
    ৩. সেচ ও পানির নির্ভরতা: রবি মৌসুম শুষ্ক হওয়ায় ফসলের জন্য কৃত্রিম সেচের ওপর বেশি নির্ভর করতে হয়। অপরদিকে খরিফ মৌসুম প্রধানত বৃষ্টিবহুল হওয়ায় সেচের প্রয়োজনীয়তা কম থাকে।
    ৪. রোগ ও পোকার আক্রমণ: রবি মৌসুমে রোগবালাই ও পোকা-মাকড়ের উপদ্রব তুলনামূলক কম হয়। কিন্তু খরিফ মৌসুমে আর্দ্র ও উষ্ণ আবহাওয়ার কারণে রোগবালাই ও পোকামাকড়ের উপদ্রব বেশি হয়।
    ৫. উৎপাদিত ফসল: রবি মৌসুমের প্রধান ফসল হলো গম, সরিষা, আলু, ফুলকপি, বাঁধাকপি ইত্যাদি। খরিফ মৌসুমের ফসল হলো আউশ ও আমন ধান, পাট, তিল, ঢেঁড়শ, চালকুমড়া ইত্যাদি।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে মৌসুমি জলবায়ুর (তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, আর্দ্রতা ও বায়ুর গতি) ওপর ভিত্তি করে ফসলের ঋতুকে রবি ও খরিফ মৌসুমে শ্রেণিবিভাগ করা হয়েছে। বাংলাদেশের কৃষিতে এই শ্রেণিবিভাগের উপযোগিতা অত্যন্ত ব্যাপক ও তাৎপর্যপূর্ণ।

    ১. সঠিক ফসল নির্বাচন: প্রতিটি ফসলের অঙ্কুরোদগম, দৈহিক বৃদ্ধি এবং ফুল-ফল ধারণের জন্য নির্দিষ্ট তাপমাত্রা, সূর্যালোক ও পানির প্রয়োজন হয়। এই ঋতুভিত্তিক শ্রেণিবিভাগের ফলে কৃষক জানতে পারেন কোন সময়ে গম, সরিষা বা আলুর মতো শীতকালীন রবি ফসল ফলাতে হবে এবং কোন সময়ে ধান, পাটের মতো আর্দ্রতাপ্রিয় খরিফ ফসল ফলাতে হবে।

    ২. জলবায়ু ঝুঁকির ব্যবস্থাপনা ও ফলন বৃদ্ধি: খরিফ মৌসুমে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত ও উচ্চ তাপমাত্রা থাকে, যা পাট ও আমন ধানের জন্য অনুকূল। অন্যদিকে শুষ্ক রবি মৌসুমের ঠান্ডায় গম, ডাল, তেলবীজ ও শাকসবজি ভালো জন্মে। ঋতুভিত্তিক উপযুক্ত ফসল নির্বাচনের মাধ্যমে কৃষক প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা বৈরী আবহাওয়া এড়িয়ে ফলন সর্বোচ্চ করতে পারেন।

    ৩. বাৎসরিক শস্য পর্যায় বা ক্রপিং প্যাটার্ন প্রণয়ন: ঋতুর শ্রেণিবিভাগ থাকায় কৃষকেরা তাদের জমিতে সারা বছর বিভিন্ন ফসলের সুনির্দিষ্ট চক্র (যেমন: সরিষা-বোরো-রোপা আমন) তৈরি করতে পারেন। এতে জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হয়।

    ৪. উপকরণ ও পরিচর্যা ব্যবস্থাপনা: রবি মৌসুমে সেচের ব্যবস্থা রাখা এবং খরিফ মৌসুমে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশন ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণের পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ করা সহজ হয়।

    অতএব, ঋতুভিত্তিক এই শ্রেণিবিভাগ বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কৃষকদের লাভবান করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত উপযোগী ও কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন