যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৪
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন
দৃশ্য-১: বিশিষ্ট পুষ্টিবিদ গবেষণা করে দেখলেন, আপেল, কমলা, পেয়ারা, আনারস ইত্যাদি পুষ্টিকর। এতে তিনি ধারণা করলেন যে, সব ফল হয় পুষ্টিকর।দৃশ্য-২: জাপানে অবস্থানকারী এক বাংলাদেশি জানালেন যে, তিনি এ যাবৎ যত জাপানি দেখেছেন তাঁরা সবাই পরিশ্রমী। তাই তিনি মনে করেন, সব জাপানি হয় পরিশ্রমী।
- ক)(1)
আরোহ কাকে বলে?
- খ)(2)
সাদৃশ্যানুমানকে প্রকৃত আরোহ বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
দৃশ্য-১ এ কোন প্রকারের আরোহ প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
দৃশ্য-১ ও দৃশ্য-২ এর মধ্যকার পার্থক্য নির্দেশ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিশেষ বিশেষ দৃষ্টান্তের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে একটি সার্বিক যুক্তিবাক্য প্রতিষ্ঠা করার মানসিক প্রক্রিয়াকে আরোহ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সাদৃশ্যানুমানে আরোহের প্রধান বৈশিষ্ট্য 'আরোহমূলক লম্ফ' উপস্থিত থাকে। এতে জ্ঞাত কয়েকটি সাদৃশ্যের ওপর ভিত্তি করে একটি অজ্ঞাত সাদৃশ্যে অর্থাৎ জানা থেকে অজানায় উত্তরণ ঘটে। লম্ফ উপস্থিত থাকায় যুক্তিবিদ মিল সাদৃশ্যানুমানকে একটি প্রকৃত আরোহ হিসেবে গণ্য করেছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্য-১ এ 'বৈজ্ঞানিক আরোহ' প্রতিফলিত হয়েছে।
প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ নিয়মের ওপর ভিত্তি করে কয়েকটি বিশেষ বস্তু বা ঘটনার পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সার্বিক সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য গঠন করার প্রক্রিয়াকে বৈজ্ঞানিক আরোহ বলে।
উদ্দীপকের দৃশ্য-১ এ একজন পুষ্টিবিদ বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও পরীক্ষণ-নিরীক্ষণের মাধ্যমে আপেল, কমলা, পেয়ারা ইত্যাদির গুণাগুণ বিশ্লেষণ করে ফলের পুষ্টিগুণের অন্তর্নিহিত কার্যকারণ সম্পর্ক অনুধাবন করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন যে, 'সব ফল হয় পুষ্টিকর।' বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ এবং কার্যকারণ সম্পর্কের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় এটি বৈজ্ঞানিক আরোহ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের দৃশ্য-১ বৈজ্ঞানিক আরোহ এবং দৃশ্য-২ অবৈজ্ঞানিক আরোহকে নির্দেশ করে। নিম্নে এদের মধ্যকার পার্থক্য আলোচনা করা হলো:
১. কার্যকারণ সম্পর্ক: দৃশ্য-১ এ পুষ্টিবিদ গবেষণার মাধ্যমে ফলের পুষ্টিগুণ ও কার্যকারণ সম্পর্ক নিরূপণ করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু দৃশ্য-২ এ কোনো কার্যকারণ নির্ণয় ছাড়াই কেবল অভিজ্ঞতার আলোকে সব জাপানি পরিশ্রমী বলে মনে করা হয়েছে। বৈজ্ঞানিক আরোহ কার্যকারণ নিয়মের ওপর প্রতিষ্ঠিত, কিন্তু অবৈজ্ঞানিক আরোহ তা নয়।
২. সিদ্ধান্তের প্রকৃতি: বৈজ্ঞানিক আরোহের (দৃশ্য-১) সিদ্ধান্ত প্রায় সুনিশ্চিত। অপরদিকে, অবৈজ্ঞানিক আরোহের (দৃশ্য-২) সিদ্ধান্ত কেবলই সম্ভাব্য; কারণ ভবিষ্যতে একজন অপিরিশ্রমী জাপানি পাওয়া গেলে সিদ্ধান্তটি মিথ্যা প্রমাণিত হতে পারে।
৩. প্রক্রিয়া: বৈজ্ঞানিক আরোহে পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষণ উভয়ই ব্যবহৃত হতে পারে। কিন্তু অবৈজ্ঞানিক আরোহে শুধুমাত্র সাধারণ পর্যবেক্ষণ বা অবারিত অভিজ্ঞতার সাহায্য নেওয়া হয়।
৪. মূল ভিত্তি: বৈজ্ঞানিক আরোহ প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ নিয়ম—উভয় নিয়মের ওপর নির্ভর করে। পক্ষান্তরে, অবৈজ্ঞানিক আরোহ কেবলমাত্র অনুকূল অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে গড়ে ওঠে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও