বাংলা ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৫

বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন

4.

বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ

উত্তর ও ব্যাখ্যা

AI-তৈরি নমুনা উত্তর

বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ

ভূমিকা:
বাংলাদেশ একটি ভৌগোলিক ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি হলেও এটি বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ হিসেবে পরিচিত। ভৌগোলিক অবস্থান, জলবায়ুর পরিবর্তন এবং নদীমাতৃক প্রকৃতির কারণে বাংলাদেশকে প্রতি বছরই কোনো না কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হতে হয়।

প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণ:
ভৌগোলিক অবস্থান, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, বঙ্গোপসাগরের ফানেল আকৃতির উপকূলীয় গঠন, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়া ইত্যাদি বাংলাদেশের প্রধান প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর মূল কারণ। এছাড়া বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও পরিবেশ ধ্বংসের ফলেও দুর্যোগের তীব্রতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বাংলাদেশের প্রধান প্রাকৃতিক দুর্যোগসমূহ:
১. বন্যা: প্রতি বছর বর্ষাকালে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত এবং উজানের পানির ঢলে বাংলাদেশের বিশাল অঞ্চল প্লাবিত হয়ে জানমালের ব্যাপক ক্ষতি হয়।
২. ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস: উপকূলীয় এলাকায় প্রায়ই প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়। অতীতে সিডর, আইলা, আম্পান ইত্যাদির তাণ্ডব এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
৩. নদীভাঙন: বর্ষাকালে ও বর্ষার শেষে খরস্রোতা নদ-নদীগুলোর পাড় ভেঙে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন ও নিঃস্ব হয়ে পড়ে।
৪. খরা: দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অনাবৃষ্টির কারণে মারাত্মক খরা দেখা দেয়, যার ফলে কৃষিকাজ ব্যাহত হয়।
৫. ভূমিকম্প ও ভূমিধস: সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ভূমিকম্পের ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে পরিণত হয়েছে এবং পাহাড়ি অঞ্চলে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে ভূমিধস ঘটছে।

দুর্যোগের প্রভাব:
প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে জানমালের অপূরণীয় ক্ষতি হয়। ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও অবকাঠামো বিনষ্ট হয়, কৃষিজমি বিনষ্ট হয়ে খাদ্যাভাব সৃষ্টি হয় এবং বিশুদ্ধ পানির অভাবে মহামারীর আকার ধারণ করে নানা রোগব্যাধি।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও প্রতিকার:
প্রাকৃতিক দুর্যোগ পুরোপুরি প্রতিরোধ সম্ভব নয়, তবে সঠিক প্রস্তুতির মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা যায়:
১. দুর্যোগের পূর্ব সতর্কবার্তা আধুনিকায়ন ও তা দ্রুত জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
২. উপকূলীয় এলাকায় অধিক সংখ্যক সাইক্লোন শেল্টার ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ।
৩. নদী খনন এবং বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে বনায়ন বৃদ্ধি করা।
৪. দুর্যোগকালীন ও দুর্যোগোত্তর দ্রুত ত্রাণ বিতরণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা।

উপসংহার:
দুর্যোগের সাথে যুদ্ধ করেই বাংলাদেশের মানুষ টিকে আছে। বিজ্ঞানসম্মত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দুর্যোগজনিত ক্ষয়ক্ষতি ন্যূনতম পর্যায়ে রাখা সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন