পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২২
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
স্বাধীনতা লাভের পরে 'ক' দেশের পরিষদ আলাপ-আলোচনের মাধ্যমে একটি সংবিধান প্রদান করে। উক্ত সংবিধানের সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা, এক কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি ও মৌলিক অধিকারের বিধানবলি সন্নিবেশিত হয়।পরবর্তীতে রাষ্ট্রের প্রয়োজনে উক্ত সংবিধানের বিভিন্ন পরিবর্তন আনা হয়।
- ক)(1)
মুসলিম লীগ কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
- খ)(2)
বঙ্গভঙ্গের কারণ কী?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' দেশের সংবিধানের সাথে বাংলাদেশের সংবিধানে সাদৃশ্য রয়েছে- ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
'ক' দেশের সংবিধানের অনুরূপ বাংলাদেশের সংবিধানে কী কী মৌলিক অধিকারসমূহ সন্নিবেশিত হয়েছে তা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুসলিম লীগ ১৯০৬ সালের ৩০শে ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯০৫ সালে লর্ড কার্জন কর্তৃক বাংলাকে বিভক্ত করার প্রধান কারণ ছিল প্রশাসনিক সুবিধা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য। অবিভক্ত বাংলা ছিল আয়তন ও জনসংখ্যার দিক থেকে অত্যন্ত বিশাল, যা একক কেন্দ্র থেকে শাসন করা কঠিন ছিল। এছাড়া ব্রিটিশদের অন্যতম রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল তৎকালীন জাতীয়তাবাদী আন্দোলন দুর্বল করতে হিন্দু-মুসলিম ঐক্য বিনষ্ট করা এবং 'ভাগ কর ও শাসন কর' নীতি প্রয়োগ করা।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' দেশের সংবিধানের সাথে ১৯৭২ সালে প্রণীত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের সুস্পষ্ট সাদৃশ্য রয়েছে।
বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয় এবং ১৬ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়। এই সংবিধানের মূল বৈশিষ্ট্যগুলো হলো সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার ব্যবস্থা, এক কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা (জাতীয় সংসদ), রাষ্ট্র পরিচালনার চারটি মূলনীতি (জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা) এবং তৃতীয় ভাগে নাগরিকদের জন্য মৌলিক অধিকারের সন্নিবেশ।
উদ্দীপকে 'ক' দেশের সংবিধানেও সংসদীয় সরকার, এক কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি এবং মৌলিক অধিকারসমূহ সন্নিবেশিত রয়েছে। সুতরাং উদ্দীপকের 'ক' দেশের সংবিধানের মূল কাঠামোর সাথে বাংলাদেশের সংবিধানের হুবহু সাদৃশ্য বিদ্যমান।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশের সংবিধানে নাগরিকদের ব্যক্তিস্বাধীনতা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার জন্য তৃতীয় ভাগে (অনুচ্ছেদ ২৭ থেকে ৪৪) মৌলিক অধিকারসমূহ সুস্পষ্টভাবে সন্নিবেশিত হয়েছে।
প্রধান মৌলিক অধিকারসমূহ নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. আইনের দৃষ্টিতে সমতা: অনুচ্ছেদ ২৭ অনুযায়ী সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী। ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গভেদে কোনো বৈষম্য করা যাবে না (অনুচ্ছেদ ২৮)।
২. জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার: আইনানুযায়ী ছাড়া কোনো ব্যক্তিকে জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না (অনুচ্ছেদ ৩২)।
৩. চলাফেরা ও সমাবেশের স্বাধীনতা: বাংলাদেশের সর্বত্র অবাধে চলাফেরা, বসবাস এবং শান্তিপূর্ণ ও নিরস্ত্রভাবে সমাবেশের অধিকার রয়েছে (অনুচ্ছেদ ৩৬ ও ৩৭)।
৪. চিন্তা, বিবেক ও বাক-স্বাধীনতা: প্রত্যেক নাগরিকের চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতাসহ বাক-স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে (অনুচ্ছেদ ৩৯)।
৫. ধর্মীয় স্বাধীনতা: প্রত্যেক নাগরিকের যেকোনো ধর্ম পালন ও প্রচারের পূর্ণ অধিকার রয়েছে (অনুচ্ছেদ ৪১)।
৬. সম্পত্তির অধিকার: আইন অনুযায়ী সম্পত্তি অর্জন, ধারণ, হস্তান্তর বা অন্যভাবে বিলি-ব্যবস্থা করার অধিকার রয়েছে (অনুচ্ছেদ ৪২)।
৭. মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ: মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে সুপ্রিম কোর্টে রিট করার মাধ্যমে তা বলবৎ করার অধিকার প্রদান করা হয়েছে (অনুচ্ছেদ ৪৪)।সুতরাং, উদ্দীপকের 'ক' দেশের অনুরূপ বাংলাদেশের সংবিধানে নাগরিকদের সার্বিক বিকাশের লক্ষ্যে এই মৌলিক অধিকারসমূহ সন্নিবেশিত করা হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও