ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৭
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র প্রশ্ন
মাসুদ একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অস্থায়ী ভিত্তিতে অফিস সহকারী হিসেবে চাকরি করছেন। তিনি প্রতি মাসে বেতন ও আনুষঙ্গিক ভাতা বাবদ প্রায় সাত হাজার টাকা পান। চাকরির নিরাপত্তা চাইলে ব্যবস্থাপক তাকে ছয় মাস দক্ষতার সাথে কাজ করার শর্ত জুড়ে দেন । তবে এ শর্তেও মাসুদ আশান্বিত হন এবং সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সাথে কাজ করতে থাকেন ।
- ক)(1)
আর্থিক প্রেষণা কী?
- খ)(2)
'X ও 'Y-তত্ত্ব' বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
চাহিদা সোপান তত্ত্ব অনুযায়ী মাসুদ কোন স্তরের অভাব বোধ করছেন? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
ব্যবস্থাপক মাসুদকে যেভাবে প্রেষণা দিয়েছেন তার যথার্থতা মূল্যায়ন করো ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অর্থ বা আর্থিক সুযোগ-সুবিধার সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত যেসকল সুযোগ-সুবিধা কর্মীদের কাজের প্রতি উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করতে প্রদান করা হয়, তাকে আর্থিক প্রেষণা বলে। যেমন: বেতন, বোনাস, বাসস্থান ভাতা ইত্যাদি।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অধ্যাপক ডগলাস ম্যাকগ্রেগর মানবপ্রকৃতি ও মানুষের আচরণের ওপর ভিত্তি করে প্রেষণার দুটি বিপরীতমুখী দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন, যা 'X ও Y তত্ত্ব' নামে পরিচিত।
X-তত্ত্বে কর্মীদের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করা হয়। এতে ধরে নেওয়া হয় কর্মীরা সহজাতভাবেই কাজ অপছন্দ করে, দায়িত্ব এড়াতে চায় এবং তাদের দিয়ে কাজ করানোর জন্য ভয়ভীতি, শাস্তি ও কঠোর নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন হয়। অন্যদিকে, Y-তত্ত্বে কর্মীদের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পায়। এতে মনে করা হয় কর্মীরা কাজকে খেলার মতো স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করে, দায়িত্ব নিতে পছন্দ করে এবং সুযোগ পেলে নিজস্ব সৃজনশীলতা প্রয়োগ করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ সম্পাদন করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আব্রাহাম মাসলোর চাহিদা সোপান তত্ত্ব অনুযায়ী উদ্দীপকের মাসুদ 'নিরাপত্তাজনিত চাহিদা' (Safety/Security needs) স্তরের অভাব বোধ করছেন।
মাসলোর চাহিদা সোপান তত্ত্বের দ্বিতীয় স্তরটি হলো নিরাপত্তাজনিত চাহিদা। প্রথম স্তরের জৈবিক বা শারীরবৃত্তীয় চাহিদা (অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান ইত্যাদি) পূরণের পর মানুষ তার ভবিষ্যৎ ও বর্তমান জীবনের স্থায়িত্ব, শারীরিক নিরাপত্তা এবং কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা চায়। চাকরির স্থায়িত্ব ও ভবিষ্যৎ জীবনের নিশ্চয়তা এই স্তরের অন্তর্ভুক্ত।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মাসুদ একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অস্থায়ী ভিত্তিতে কাজ করছেন এবং প্রতি মাসে বেতন ও ভাতা বাবদ সাত হাজার টাকা পান, যা দ্বারা তার প্রাথমিক বা জৈবিক চাহিদা মেটানো সম্ভব হলেও চাকরিতে কোনো স্থায়িত্ব নেই। তাই তিনি ব্যবস্থাপকের কাছে চাকরির স্থায়িত্ব বা নিরাপত্তা প্রত্যাশা করেন। সুতরাং, মাসলোর চাহিদা সোপান তত্ত্ব অনুযায়ী মাসুদ বর্তমানে 'নিরাপত্তাজনিত অভাব' বোধ করছেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্যবস্থাপক মাসুদকে যেভাবে প্রেষণা দিয়েছেন তা পুরোপুরি যথার্থ ও ফলপ্রসূ হয়েছে বলে মনে করি।
প্রেষণা হলো কর্মীদের কার্যাবলিকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের দিকে পরিচালিত ও উৎসাহিত করার একটি মানসিক প্রক্রিয়া। কর্মীদের অবচেতন বা সুপ্ত চাহিদাকে শনাক্ত করে সে অনুযায়ী প্রেষণা প্রদান করা হলে তাদের কর্মস্পৃহা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। অনার্থিক প্রেষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো চাকরির নিরাপত্তা বা স্থায়িত্বের প্রতিশ্রুতি।
উদ্দীপকে মাসুদ ছিলেন একজন অস্থায়ী অফিস সহকারী। তিনি যখন চাকরির নিরাপত্তা চাইলেন, তখন ব্যবস্থাপক তাকে সরাসরি স্থায়ী না করে ছয় মাস দক্ষতার সাথে কাজ করার একটি ইতিবাচক শর্ত জুড়ে দেন। এটি মূলত অনার্থিক প্রেষণার একটি কৌশল। ব্যবস্থাপক বুঝতে পেরেছিলেন যে মাসুদের এই মুহূর্তে চাকরির নিরাপত্তা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। তাই তিনি শর্তসাপেক্ষে সেই চাহিদা পূরণের আশ্বাস দেন। এই প্রতিশ্রুতির ফলে মাসুদ হতাশ না হয়ে বরং আশান্বিত হন এবং সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সাথে কাজ করতে উৎসাহিত হন।
প্রতিষ্ঠানের দৃষ্টিকোণ থেকে, ব্যবস্থাপকের এই সিদ্ধান্ত একদিকে যেমন কর্মীকে সর্বোচ্চ দক্ষতায় কাজে উদ্বুদ্ধ করেছে, অন্যদিকে ছয় মাস পর্যবেক্ষণ করে তার প্রকৃত যোগ্যতা যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি করেছে। তাই কর্মীর অভাবকে ইতিবাচক ফলাফলে রূপান্তর করার জন্য ব্যবস্থাপকের গৃহীত এই প্রেষণামূলক পদক্ষেপটি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও যথার্থ ছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও