অর্থনীতি ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৩
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
একটি দেশের ২০১৪ এবং ২০১৫ সালের বিভিন্ন ভোগ্যদ্রব্যের দাম ও পরিমানের তালিকা নিম্নরূপ:দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রব্য মূল্য নিয়ন্ত্রণে ব্যাংক হার ও নগদ জমার অনুপাত বৃদ্ধি করে এবং সরকারি ব্যয় হ্রাস করে।

- ক)(1)
মুদ্রা সংকোচন কি?
- খ)(2)
সামাজিক নিরাপত্তার আওতা বৃদ্ধির ফলে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয় - ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের আলোকে দেশটির ভোক্তার মূল্য সূচক নির্ণয় করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত হাতিয়ার গুলো দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কিভাবে ভূমিকা পালন করে? বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সামগ্রিক উৎপাদনের তুলনায় অর্থের যোগান হ্রাস পাওয়ার ফলে দ্রব্যমূল্যের সাধারণ স্তর ক্রমাগত হ্রাস পাওয়া এবং অর্থের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়াকে মুদ্রা সংকোচন (Deflation) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সামাজিক নিরাপত্তার আওতা বৃদ্ধি পেলে দরিদ্র, বয়স্ক, বিধবা ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কাছে সরকারি ভাতা ও আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে সরাসরি অর্থের প্রবাহ বাড়ে। এর ফলে সমাজে প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও ব্যয়যোগ্য আয় বৃদ্ধি পায়। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভোগপ্রবণতা বেশি হওয়ায় তারা ভোগ্যপণ্যের পেছনে অর্থ ব্যয় বাড়ায়, যার ফলে সামগ্রিক চাহিদা (Aggregate Demand) দ্রুত বৃদ্ধি পায়। কিন্তু স্বল্পমেয়াদে সেই অনুপাতে পণ্যের উৎপাদন বা যোগান বাড়ানো সম্ভব না হলে অতিরিক্ত চাহিদার চাপে দ্রব্যমূল্য বেড়ে যায় এবং মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
এখানে ভিত্তি বছর হলো ২০১৪ সাল এবং চলতি বছর হলো ২০১৫ সাল।
ভিত্তি বছরের দামকে , পরিমাণকে এবং চলতি বছরের দামকে ধরা হলো।ভোক্তার মূল্য সূচক (Consumer Price Index - CPI) নির্ণয়ের সূত্র:
উদ্দীপক অনুসারে হিসাবের সারণি নিম্নরূপ:
১. চাল: , ,২. ডাল: , ,
৩. আটা: , ,
৪. তেল: , ,
৫. লবণ: , ,
মোট:
টাকা
টাকাঅতএব, ভোক্তার মূল্য সূচক (CPI):
সুতরাং, ২০১৪ সালের সাপেক্ষে ২০১৫ সালের ভোক্তার মূল্য সূচক হলো ১২৭.৯৪।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত হাতিয়ারগুলো হলো মুদ্রানীতির হাতিয়ার (ব্যাংক হার ও নগদ জমার অনুপাত বৃদ্ধি) এবং রাজস্ব নীতির হাতিয়ার (সরকারি ব্যয় হ্রাস)। দ্রব্যমূল্য তথা মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এই হাতিয়ারগুলো অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। নিচে এদের ভূমিকা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. ব্যাংক হার (Bank Rate) বৃদ্ধি: কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে সুদে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ঋণ প্রদান করে তাকে ব্যাংক হার বলে। ব্যাংক হার বৃদ্ধি করলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ ব্যয়বহুল হয়। ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো তাদের সাধারণ গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের ঋণের ওপর সুদের হার বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে বাজারে ঋণ গ্রহণের প্রবণতা ও সামগ্রিক ঋণের পরিমাণ কমে যায়, যা জনগণের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে সামগ্রিক চাহিদা হ্রাসের মাধ্যমে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
২. নগদ জমার অনুপাত (Cash Reserve Ratio - CRR) বৃদ্ধি: বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে তাদের মোট আমানতের একটি নির্দিষ্ট অংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বাধ্যতামূলকভাবে নগদ জমা রাখতে হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই অনুপাত বাড়িয়ে দিলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণ প্রদান সক্ষমতা বা তারল্য হ্রাস পায়। এর ফলে বাজারে অতিরিক্ত অর্থের প্রবাহ বা মুদ্রার যোগান সংকুচিত হয়, যা পণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রবণতা কমায়।
৩. সরকারি ব্যয় হ্রাস (Reduction in Government Expenditure): এটি সরকারের সংকোচনমূলক রাজস্ব নীতির একটি অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। সরকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও বিভিন্ন খাতে ব্যয় কমালে জনগণের হাতে অর্থের প্রবাহ হ্রাস পায়। ফলে সামগ্রিক বাজারে অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ প্রশমিত হয় এবং চাহিদা কমে দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসে।
পরিশেষে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকার যৌথভাবে ঋণ সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি এবং রাজস্ব নীতির হাতিয়ারগুলো প্রয়োগ করে বাজারে অর্থের যোগান এবং সামগ্রিক চাহিদা হ্রাস করার মাধ্যমে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সফল ভূমিকা পালন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও