অর্থনীতি ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
'ক' দেশের আয়তনের তুলনায় জনসংখ্যা অত্যাধিক। দেশটির জলবায়ু উষ্ণ ও আর্দ্র। ভূমি উর্বর ও সমতল। এদেশের জনগণের প্রধান খাদ্য ভাত। এছাড়া এখানে শিক্ষার হার অত্যন্ত কম। অধিক জনসংখ্যার কারণে এদেশ খাদ্য, বাসস্থান, কর্মসংস্থান, জীবন-যাত্রার নিম্নমান ইত্যাদি সমস্যা লেগেই আছে। উদ্ভূত সমস্যা সমাধানে উক্ত দেশের সরকার শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের উপর গুরুত্বারোপ করছে।
- ক)(1)
বেকারত্ব কী?
- খ)(2)
জনসংখ্যা বাড়লে জনসংখ্যার ঘনত্ব বাড়ে কেন? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে 'ক' দেশের জনাধিক্যের কারণগুলো ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত অধিক জনসংখ্যার প্রভাব মোকাবিলায় 'ক' দেশের সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের কার্যকারিতা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রচলিত বা বিদ্যমান মজুরিতে কোনো ব্যক্তির কাজ করার ইচ্ছা, সামর্থ্য ও যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও যদি সে উপযুক্ত কাজ না পায়, তবে সেই অবস্থাকে বেকারত্ব বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো দেশের প্রতি বর্গকিলোমিটার এলাকায় গড়ে যত জন লোক বসবাস করে, তাকে জনসংখ্যার ঘনত্ব বলে। অর্থাৎ, জনসংখ্যার ঘনত্ব = মোট জনসংখ্যা / মোট আয়তন।
একটি নির্দিষ্ট দেশের ভৌগোলিক আয়তন সাধারণত স্থির বা অপরিবর্তনীয় থাকে। তাই আয়তন স্থির থাকা অবস্থায় যদি জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায়, তবে প্রতি একক স্থানে বাস করা মানুষের সংখ্যা আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি পায়। এই কারণে জনসংখ্যা বাড়লে জনসংখ্যার ঘনত্ব বেড়ে যায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'ক' দেশের জনাধিক্যের পেছনে প্রধানত ভৌগোলিক, সামাজিক ও খাদ্যাভ্যাসগত কারণগুলো বিদ্যমান। নিচে কারণগুলো ব্যাখ্যা করা হলো:
১. অনুকূল জলবায়ু ও উর্বর সমতল ভূমি: উদ্দীপকে উল্লিখিত দেশটির জলবায়ু উষ্ণ ও আর্দ্র এবং জমি উর্বর ও সমতল। এমন ভৌগোলিক পরিবেশ কৃষিকাজের জন্য অত্যন্ত সহায়ক, যা মানুষের জীবনধারণ সহজ করে এবং উচ্চ প্রজনন ক্ষমতা ও ঘনবসতি গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখে।
২. খাদ্যাভ্যাস: দেশটির জনগণের প্রধান খাদ্য ভাত। কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ খাবার মানুষের প্রজনন ক্ষমতা বা উর্বরতা বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলে বলে বিবেচনা করা হয়, যা জনসংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
৩. শিক্ষার অভাব: উদ্দীপকে বলা হয়েছে দেশটিতে শিক্ষার হার অত্যন্ত কম। শিক্ষার অভাব ও অজ্ঞতার কারণে মানুষের মাঝে পরিবার পরিকল্পনার অভাব, কুসংস্কার এবং জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির অসচেতনতা দেখা যায়। ফলে জন্মহার দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে জনাধিক্য সৃষ্টি হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত অধিক জনসংখ্যার নেতিবাচক প্রভাব (যেমন- খাদ্য ও বাসস্থান সংকট, বেকারত্ব, জীবনযাত্রার নিম্নমান) মোকাবিলায় 'ক' দেশের সরকার শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। এ পদক্ষেপটি অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং কার্যকর।
এ পদক্ষেপের কার্যকারিতা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. মানবসম্পদ উন্নয়ন: কেবল জনসংখ্যা বাড়লে তা দেশের জন্য বোঝা হয়, কিন্তু সেই জনসংখ্যাকে সাধারণ শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তুললে তা জনসম্পদ বা মানবসম্পদে রূপান্তরিত হয়।
২. কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বেকারত্ব হ্রাস: প্রশিক্ষিত ও দক্ষ জনশক্তি সহজেই আধুনিক শিল্প, সেবা খাত কিংবা আত্মকর্মসংস্থানে নিয়োজিত হতে পারে। ফলে দেশে বিরাজমান কর্মসংস্থানের অভাব দূর হবে।
৩. উৎপাদনশীলতা ও জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি: শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ শ্রমিকের উৎপাদনশীলতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এতে তাদের ব্যক্তিগত আয় বৃদ্ধি পাবে এবং জনগণের সামগ্রিক জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।
৪. সচেতনতা বৃদ্ধি ও জন্মহার হ্রাস: শিক্ষার আলো মানুষের মধ্যে কুসংস্কার দূর করে এবং পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ায়। ফলে দীর্ঘমেয়াদে দেশটির জন্মহার ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার নিয়ন্ত্রণে আসবে।
৫. বৈদেশিক কর্মসংস্থান: দক্ষ জনগোষ্ঠী বিদেশে উন্নত কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়, যা দেশে বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্স প্রেরণে সহায়তা করে জাতীয় অর্থনীতি সমৃদ্ধ করে।অতএব, অধিক জনসংখ্যাকে সমস্যা না রেখে সম্পদে পরিণত করার জন্য শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের প্রসারই সর্বোৎকৃষ্ট পদক্ষেপ, যা 'ক' দেশের অর্থনৈতিক সংকট নিরসনে চূড়ান্তভাবে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও