‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৩

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

'ক' রাষ্ট্রের জনপ্রিয় নেতাকে দীর্ঘদিন বিনা বিচারে কারাগারে রাখার পর ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়। এতে জনগণ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। এক পর্যায়ে সরকার মিথ্যা মামলার প্রত্যাহার করে জনপ্রিয় নেতাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।

  1. ক)

    মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?

    (1)
  2. খ)

    বাঙালির ম্যাগনাকার্টা বলা হয় কোন কর্মসূচিকে?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সাথে তোমার পঠিত কোন ঐতিহাসিক ঘটনার সাদৃশ্য আছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনা জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে বেগবান করে- বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৭১ সালের মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক ঘোষিত ঐতিহাসিক 'ছয় দফা' কর্মসূচিকে বাঙালির ম্যাগনাকার্টা (মুক্তির সনদ) বলা হয়। কারণ এটি ছিল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের স্বায়ত্তশাসন, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করার সনদ।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সাথে আমার পঠিত ঐতিহাসিক 'আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা' (রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য) এবং এর পরবর্তী প্রেক্ষাপটের সাদৃশ্য রয়েছে।

    ১৯৬৬ সালে ছয় দফা পেশ করার পর পাকিস্তানি স্বৈরশাসক আইয়ুব খান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে কারারুদ্ধ করেন। দীর্ঘদিন কারাগারে রাখার পর ১৯৬৮ সালের জানুয়ারি মাসে শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রধান আসামি করে ৩৫ জন সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মিথ্যা 'আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা' দায়ের করা হয়। এতে বাঙালির মাঝে চরম ক্ষোভের জন্ম হয়।

    উদ্দীপকেও দেখা যায়, জনপ্রিয় নেতাকে বিনা বিচারে কারাগারে রাখার পর ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা দেওয়া হয় এবং গণবিক্ষোভের মুখে সরকার তা প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হয়। বাস্তব ইতিহাসেও ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের ফলে আইয়ুব সরকার মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধুসহ সকল বন্দিকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে বাধ্য হয়েছিল। সুতরাং উদ্দীপকটি ঐতিহাসিক আগরতলা মামলার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনা অর্থাৎ ১৯৬৮ সালের আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে চূড়ান্তভাবে বেগবান ও ঐক্যবদ্ধ করেছিল—বিশ্লেষণটি যথার্থ।

    পাকিস্তান সরকার বঙ্গবন্ধুকে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলিয়ে বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন স্তব্ধ করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে আগরতলা মামলা দায়ের করেছিল। কিন্তু এতে হিতে বিপরীত হয়। বাংলার সর্বস্তরের ছাত্র-জনতা এই মিথ্যা মামলার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ১৯৬৯ সালে ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান গড়ে তোলে। ছাত্রসমাজের ১১ দফা কর্মসূচি আন্দোলনের তীব্রতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

    এই আন্দোলনের ফলে পাকিস্তানি স্বৈরাচারী শাসক মামলা প্রত্যাহার করে ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। এর মাধ্যমেই শেখ মুজিবুর রহমানকে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত করা হয় এবং তিনি বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতায় পরিণত হন। এই আন্দোলন বাঙালিকে আপসহীন সংগ্রামের পথ দেখায় এবং জাতীয়তাবাদী ঐক্য সুদৃঢ় করে, যা পরবর্তীকালে ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের নিরঙ্কুশ বিজয় এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতা অর্জনে মূল ভূমিকা পালন করে।

    অতএব, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা বাঙালির জাতীয়তাবাদী চেতনা ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে দুর্বার গতিতে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন