সাহিত্য পাঠ • জাদুঘরে কেন যাব • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৯
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
দীপ্ত সম্প্রতি তার বড় ভাইয়ের সঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর দর্শন করে 'আসে। জাদুঘরে গিয়ে সে প্রচুর আনন্দ লাভ করে। জাদুঘরে সংরক্ষিত বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন থেকে জাতির ইতিহাস, ঐতিহ্য, সভ্যতা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে অনেক জ্ঞান অর্জন করে। সভ্যতা বিকাশের নানা নিদর্শন ও তথ্যচিত্র দেখে সে চমৎকৃত হয়। এতে সে মানসিক শক্তি অর্জনের প্রেরণা খুঁজে পায়। জাদুঘর দর্শন তার ভেতরে দেশপ্রেম ও জাতির প্রতি দায়িত্ববোধ বাড়িয়ে দেয়। এখন সে নিজেকে চিনে ও জানে।
- ক)(1)
পৃথিবীর প্রথম জাদুঘর স্থাপিত হয়েছিল কোথায়?
- খ)(2)
"জাদুঘর আমাদের আনন্দ দেয়"- কীভাবে?
- গ)(3)
উদ্দীপকের দীপ্তর অনুভূতির সঙ্গে 'জাদুঘরে কেন যাব' প্রবন্ধের কোন বিশেষ দিকটির সাদৃশ্য পাওয়া যায়?" ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
"উদ্দীপকটি 'জাদুঘরে কেন যাব' প্রবন্ধের সামগ্রিক বিষয়বস্তুকে ধারণ করে না"- মন্তব্যটি যাচাই করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পৃথিবীর প্রথম জাদুঘর স্থাপিত হয়েছিল প্রাচীন গ্রিসের আলেকজান্দ্রিয়ায়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জাদুঘরে সংগৃহীত মানবজাতির অতীত ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বৈচিত্র্যময় নিদর্শন প্রত্যক্ষ করে মানুষ আত্মতৃপ্তি ও নান্দনিক আনন্দ লাভ করে।
জাদুঘরে কোনো জাতির পূর্বপুরুষদের সৃষ্টিশীল কাজ, শিল্পকর্ম এবং সভ্যতার বিকাশলগ্নের দুর্লভ সামগ্রী সুশৃঙ্খলভাবে প্রদর্শিত থাকে। এসব নিদর্শন দর্শনের মাধ্যমে মানুষ শুধু জ্ঞানার্জনই করে না, বরং অতীতের হারিয়ে যাওয়া সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের সৌন্দর্য উপলব্ধি করে এক অদ্ভুত মানসিক প্রশান্তি ও গভীর আনন্দ লাভ করে। তাই বলা হয় জাদুঘর আমাদের আনন্দ দেয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের দীপ্তর অনুভূতির সঙ্গে 'জাদুঘরে কেন যাব' প্রবন্ধে বর্ণিত জাদুঘর দর্শনের মাধ্যমে জ্ঞানার্জন, আত্মপরিচয় লাভ এবং জাতীয়তাবোধ জাগ্রত হওয়ার দিকটির সাদৃশ্য পাওয়া যায়।
'জাদুঘরে কেন যাব' প্রবন্ধে লেখক আনিসুজ্জামান দেখিয়েছেন যে জাদুঘর কেবল নির্জীব বস্তুর সংগ্রহশালা নয়; এটি মানবজাতির ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির জীবন্ত দলিল। জাদুঘরে গিয়ে মানুষ অতীতের ভুলত্রুটি ও সাফল্য পর্যালোচনা করে বর্তমানকে বোঝার এবং ভবিষ্যৎ নির্মাণের অনুপ্রেরণা ও মানসিক শক্তি লাভ করে। এর মাধ্যমে মানুষের মধ্যে দেশপ্রেম ও আত্মসচেতনতা সৃষ্টি হয়।
উদ্দীপকের দীপ্ত বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর পরিদর্শন করে আনন্দ লাভের পাশাপাশি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন থেকে জাতির ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে গভীর জ্ঞান লাভ করে। সভ্যতার বিকাশ দেখে সে মানসিক শক্তি অর্জন করে এবং তার মাঝে দেশপ্রেম ও জাতীয় দায়িত্ববোধ গড়ে ওঠে, যা তাকে নিজের স্বরূপ চিনতে সাহায্য করে। দীপ্তর এই উপলব্ধি 'জাদুঘরে কেন যাব' প্রবন্ধের জাদুঘর দর্শনের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য ও শিক্ষালাভের দিকের সাথে সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"উদ্দীপকটি 'জাদুঘরে কেন যাব' প্রবন্ধের সামগ্রিক বিষয়বস্তুকে ধারণ করে না"— মন্তব্যটি যথার্থ।
উদ্দীপকে মূলত জাদুঘর দর্শনের ইতিবাচক অভিজ্ঞতা এবং এর ফলে দীপ্তর মনে দেশপ্রেম, আত্মসচেতনতা ও দায়িত্ববোধের জাগরণ ঘটার মতো নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তিগত সুফল চিত্রিত হয়েছে। দীপ্তর এই অনুভূতি জাদুঘরের জ্ঞানার্জনের ও প্রেরণামূলক দিকের সাথে সংগতিপূর্ণ হলেও প্রবন্ধের পরিধি আরও অনেক বিস্তৃত।
'জাদুঘরে কেন যাব' প্রবন্ধে লেখক জাদুঘরের উৎপত্তি, ক্রমবিকাশ এবং এর ইতিহাসের সামগ্রিক রূপরেখা তুলে ধরেছেন। আলেকজান্দ্রিয়ার প্রথম জাদুঘর থেকে শুরু করে আধুনিক জাদুঘরের বিবর্তন, ব্যক্তিগত সংগ্রহশালা থেকে জনগণের সম্পত্তিতে রূপান্তর এবং কিউরেটরের ভূমিকা প্রবন্ধে বিস্তারিত আলোচিত হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশের জাদুঘরগুলোর বর্তমান অবস্থা, সেখানে সাধারণ মানুষের আগ্রহের অভাব, জাদুঘরের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি এবং জাতীয় ঐতিহ্যের প্রতি সামগ্রিক উদাসীনতার মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সমস্যাগুলোও প্রবন্ধে বিশ্লেষিত হয়েছে।
উদ্দীপকে কেবল একজন দর্শকের মুগ্ধতা ও ব্যক্তিপর্যায়ে দেশপ্রেমের বিকাশ ফুটে উঠেছে; জাদুঘরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, প্রাতিষ্ঠানিক বিবর্তন এবং বাংলাদেশের জাদুঘর ব্যবস্থার সংকট ও সীমাবদ্ধতার মতো বিষয়গুলো অনুচ্চারিত রয়ে গেছে। অতএব, বলা যায় যে উদ্দীপকটি জাদুঘর দর্শনের একটি বিশেষ দিককে তুলে ধরলেও 'জাদুঘরে কেন যাব' প্রবন্ধের সামগ্রিক বিষয়বস্তুকে ধারণ করতে পারেনি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও