বাংলা ১ম পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

‘ওরা গুলি ছোড়ে এদেশের প্রাণে, দেশের দাবীকে রোখেওদের ঘৃণ্য পদাঘাত, এই বাংলার বুকে।ওরা এদেশের নয়,দেশের ভাগ্য ওরা করে বিক্রয়।’

  1. ক)

    ইংরেজরা পরাজিত হয়ে কোন জাহাজে আশ্রয় নেয়?

    (1)
  2. খ)

    ‘শুভ কাজে অযথা বিলম্ব করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়।’- সপ্রসঙ্গ উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের প্রথম দুই চরণের ভাবার্থ ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের কোন দিকটির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    “দেশের ভাগ্য ওরা করে বিক্রয়” পঙ্ক্তিতে ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের মর্মার্থই প্রতিধ্বনিত হয়েছে- উক্তিটি মূল্যায়ন কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ইংরেজরা নবাবের কাছে পরাজিত হয়ে ফলতা নামক স্থানে অবস্থানরত জাহাজে আশ্রয় নেয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উক্তিটি দ্বারা কোনো জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অহেতুক দেরি না করে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ বোঝানো হয়েছে।

    ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে নবাবের বিরুদ্ধে যখন প্রাসাদ-ষড়যন্ত্র পাকাপোক্ত রূপ নিচ্ছিল, তখন মীর জাফর ও ক্লাইভ চক্রের গোপন আঁতাত এবং দ্রুত ক্ষমতা দখলের তৎপরতার প্রসঙ্গে এই মনোভাবটি ব্যক্ত হয়। ষড়যন্ত্রকারীরা চেয়েছিল নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে সিংহাসনচ্যুত করার গোপন চুক্তি ও পরিকল্পনা কালক্ষেপণ না করে দ্রুত বাস্তবায়ন করতে, যাতে নবাব সতর্ক হওয়ার সুযোগ না পান।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের প্রথম দুই চরণের ভাবার্থ ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে ঔপনিবেশিক ইংরেজদের এদেশের নিরীহ মানুষের ওপর নিপীড়ন, অত্যাচার এবং নবাবের বিরুদ্ধে সশস্ত্র ঔদ্ধত্য প্রকাশের দিকটির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

    উদ্দীপকের 'ওরা গুলি ছোড়ে এদেশের প্রাণে, দেশের দাবীকে রোখে / ওদের ঘৃণ্য পদাঘাত, এই বাংলার বুকে' চরণ দুটিতে বিদেশি শক্তির আগ্রাসী মনোভাব, বর্বর আক্রমণ এবং দেশবাসীর ওপর তাদের নির্মম অত্যাচারের স্বরূপ তুলে ধরা হয়েছে।

    ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকেও ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঔদ্ধত্য ও আগ্রাসন স্পষ্ট ফুটে উঠেছে। ইংরেজ বণিকরা এদেশে বাণিজ্য করতে এসে নবাবের সার্বভৌমত্বকে অস্বীকার করে ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ সংস্কার করে, নবাবের নিষেধ অমান্য করে সৈন্য সমাবেশ ঘটায় এবং এদেশের প্রতিবাদী মানুষদের ওপর অস্ত্র প্রয়োগ ও নির্যাতন চালায়। তারা নবাবের দূতকে অপমান করে এবং শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে এদেশের অধিকারকে ভূলুণ্ঠিত করতে উদ্যত হয়। উদ্দীপকের চরণে বহিঃশক্তির এই নিষ্ঠুর আগ্রাসন ও শোষণ-পীড়নের যে ছবি ফুটে উঠেছে, তা নাটকের ইংরেজদের এদেশীয়দের ওপর অত্যাচার ও আগ্রাসনের দিকের সাথে সাদৃশ্য বহন করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “দেশের ভাগ্য ওরা করে বিক্রয়” পঙ্ক্তিতে ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের মর্মার্থই প্রতিধ্বনিত হয়েছে— উক্তিটি যথার্থ ও যৌক্তিক।

    ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের মূল ট্র্যাজেডি নিহিত রয়েছে বিশ্বাসঘাতকতার করুণ ইতিহাসে। নাটকে দেখা যায়, বিদেশি ইংরেজ বণিকরা এদেশের শাসনক্ষমতা দখলের যে সুযোগ পেয়েছিল, তার প্রধান ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছিল নবাবের পারিষদবর্গ ও সেনাপতিদের একটি দল। মীর জাফর, ঘসেটি বেগম, রাজবল্লভ, জগৎশেঠ, উমিচাঁদ প্রমুখ স্বার্থান্ধ ব্যক্তিরা নিজেদের লোভ ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা চরিতার্থ করতে বিদেশি শত্রু ক্লাইভের সাথে হাত মেলায় এবং পলাশীর গোপন চুক্তি সম্পাদন করে।

    উদ্দীপকের শেষ পঙ্ক্তি “ওরা এদেশের নয়, / দেশের ভাগ্য ওরা করে বিক্রয়”-এ বিদেশি আগ্রাসী ও তাদের সাথে হাত মেলানো দেশদ্রোহী বিশ্বাসঘাতকদের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা প্রকাশ পেয়েছে। পলাশীর যুদ্ধে মীর জাফর ও তার দোসররা শুধু নবাবকে সিংহাসনচ্যুত করেনি, প্রকারান্তরে সামান্য স্বার্থের লোভে সমগ্র বাংলা তথা ভারতবর্ষের স্বাধীনতা ইংরেজদের হাতে তুলে দিয়ে দেশের ভাগ্যকেই বিক্রি করে দিয়েছিল। দেশের অভ্যন্তরীণ বিশ্বাসঘাতকতার ফলেই যে জাতির স্বাধীনতা ভূলুণ্ঠিত হয়—এটাই নাটকের মূল মর্মকথা।

    সুতরাং, উদ্দীপকের উল্লিখিত পঙ্ক্তিটি মীর জাফর চক্রের দেশদ্রোহিতা এবং এর করুণ পরিণতি হিসেবে দেশের স্বাধীনতা বিসর্জনের ঐতিহাসিক বাস্তবতাকে স্পষ্টভাবে ধারণ করায় মন্তব্যটি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন