সমাজকর্ম ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)
সমাজকর্ম ২য় পত্র প্রশ্ন
'X' একটি আইনের নাম। আইনটি বাংলাদেশের সকল মুসলিম নাগরিকের জন্য প্রযোজ্য। এটি নারীদের নিরাপত্তার রক্ষাকবচ হিসেবে বিবেচিত। আইনটির কল্যাণেই স্ত্রীর দেনমোহর ও ভরণপোষণের অধিকার নিশ্চিত হয়।
- ক)(1)
সামাজিক আইন কী?
- খ)(2)
সামাজিক আইনের একটি উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে কোন সামাজিক আইনকে ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উক্ত আইনের ভূমিকা মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সামাজিক আইন হলো সমাজকল্যাণমূলক এমন এক ধরনের রাষ্ট্রীয় আইন বা বিধান, যা সমাজের অবাঞ্ছিত অবস্থা দূরীকরণ, দুর্বল ও অধিকারবঞ্চিত শ্রেণির স্বার্থরক্ষা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় কার্যকর হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সামাজিক আইনের একটি প্রধান উদ্দেশ্য হলো সমাজের অনগ্রসর, দুর্বল, অসহায় ও শোষিত জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ করা। এর মাধ্যমে সমাজে বিরাজমান কুসংস্কার, শোষণ এবং সামাজিক অসাম্য দূর করে ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ১৯৬১ সালের 'মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ' (Muslim Family Laws Ordinance, 1961)-কে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
মুসলিম সমাজের নারী অধিকার রক্ষা, বিবাহ, বহুবিবাহ নিয়ন্ত্রণ, তালাক এবং উত্তরাধিকার সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের জন্য এই আইনটি প্রবর্তন করা হয়।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, 'X' একটি আইন যা বাংলাদেশের সকল মুসলিম নাগরিকের জন্য প্রযোজ্য এবং এটি নারীদের নিরাপত্তার রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে। এছাড়া এ আইনের ফলেই স্ত্রীর দেনমোহর ও ভরণপোষণের আইনি অধিকার নিশ্চিত হয়। ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশেও দেনমোহর তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধের বিধান, বিবাহবিচ্ছেদ বা তালাকে সালিসি কাউন্সিল গঠন এবং স্ত্রী ও সন্তানের ভরণপোষণ নিশ্চিত করার সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে। ফলে উদ্দীপকের বর্ণিত 'X' আইনটি নিঃসন্দেহে ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুসলিম পারিবারিক জীবনকে সুশৃঙ্খল করতে এবং নারীদের সামাজিক ও পারিবারিক অধিকার সংরক্ষণে ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। নিম্নে এর ভূমিকা মূল্যায়ন করা হলো:
১. বহুবিবাহ নিয়ন্ত্রণ: এই আইনের অন্যতম বড় সাফল্য হলো বহুবিবাহে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। পূর্বের স্ত্রীর অনুমতি এবং সালিসি কাউন্সিলের বৈধ অনুমোদন ব্যতীত কোনো পুরুষ দ্বিতীয় বিবাহ করতে পারে না, যা পুরুষের স্বেচ্ছাচারিতা রোধে ভূমিকা রাখছে।
২. তালাক নিয়ন্ত্রণ ও পারিবারিক স্থায়িত্ব: একতরফা বা মৌখিক তালাকের প্রবণতা কমিয়ে সালিসি কাউন্সিলের মাধ্যমে আপস-মীমাংসার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। নোটিশ প্রেরণের ৯০ দিন পার না হওয়া পর্যন্ত তালাক কার্যকর হয় না, ফলে অনেক ক্ষেত্রে সংসার ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পায়।
৩. দেনমোহর ও ভরণপোষণ নিশ্চিতকরণ: স্বামী কর্তৃক দেনমোহর চাওয়ামাত্র পরিশোধ করার বাধ্যবাধকতা এবং স্ত্রীর ন্যায্য ভরণপোষণ প্রদানে ব্যর্থ হলে সালিসি কাউন্সিলের মাধ্যমে তা আদায়ের ব্যবস্থা এ আইন নিশ্চিত করেছে।
৪. এতিম নাতি-নাতনির উত্তরাধিকার অধিকার: মূল মুসলিম আইনে পিতার পূর্বে সন্তানের মৃত্যু হলে তার সন্তানরা দাদা-দাদির সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হতো। এই আইনটি সংশোধন করে এতিম পৌত্র-পৌত্রীদের উত্তরাধিকার নিশ্চিত করেছে।
৫. বিবাহ রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলককরণ: বিবাহ ও তালাক সরকারিভাবে নিবন্ধনের বাধ্যতামূলক নিয়ম করায় নারীদের আইনি নিরাপত্তা সুদৃঢ় হয়েছে।
সুতরাং পরিশেষে বলা যায়, ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশটি বাংলাদেশের পারিবারিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং নারীদের সামাজিক অধিকার ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও