গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১: ব্যবহারিক ক্লাসে শিক্ষক সেলিনা বেগম শিক্ষার্থীদের মোম দিয়ে নকশা করে রং এর দ্রবণে ডুবিয়ে বস্ত্র রঞ্জিত করা শেখালেন।
দৃশ্যকল্প-২: মুদাবা বাণিজ্য মেলা থেকে সুতা দিয়ে বেঁধে রং করা পোশাক ক্রয় করেন। অন্যদিকে নাফিসা কাঠের নকশায় রং লাগিয়ে ছাপ দেওয়া একটি শাড়ি ক্রয় করেন।
- ক)(1)
স্ক্রিন প্রিন্ট কী?
- খ)(2)
'ক্রস ডায়িং এর মাধ্যমে বৈচিত্রময় বস্ত্র পাওয়া যায়'— ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
দৃশ্যকল্প-১ এ শিক্ষক সেলিনা বেগম কোন পদ্ধতি দ্বারা বস্ত্র রঞ্জিত করা শেখালেন? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
দৃশ্যকল্প-২ এ মুদাবা ও নাফিসার ক্রয়কৃত বস্ত্র দুটির রঞ্জনের পদ্ধতিগত পার্থক্য রয়েছে— মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
স্ক্রিন প্রিন্ট হলো এমন একটি বস্ত্র মুদ্রণ বা ছাপানোর পদ্ধতি, যেখানে একটি ফ্রেমের সাথে শক্ত করে আটকানো সূক্ষ্ম জালের মতো পর্দা (স্ক্রিন) ব্যবহার করে এবং নির্দিষ্ট নকশা অনুযায়ী রং ঢেলে স্কুইজির সাহায্যে কাপড়ে ছাপ দেওয়া হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ক্রস ডাইং হলো এমন এক বিশেষ রঞ্জন পদ্ধতি, যেখানে মিশ্র আঁশের (মিশ্র সুতা বা কাপড়ের) তৈরি বস্ত্রকে একটি মাত্র রঙের দ্রবণে এক বা একাধিক রঙের শেড তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়। মিশ্র কাপড়ে ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রকার আঁশের রঙের প্রতি আসক্তি বা শোষণক্ষমতা ভিন্ন ভিন্ন হয়। ফলে একই রঙে ভেজানো হলেও এক আঁশ বেশি রং টানে এবং অন্য আঁশ কম রং টানে বা ভিন্ন শেড ধারণ করে। এতে বস্ত্রের জমিনে বৈচিত্র্যময় শেড বা দ্বি-রঙা নকশার সৃষ্টি হয়। তাই বলা যায়, ক্রস ডাইং-এর মাধ্যমে বৈচিত্র্যময় বস্ত্র পাওয়া যায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-১ এ শিক্ষক সেলিনা বেগম 'বাটিক' (Batik) পদ্ধতি দ্বারা বস্ত্র রঞ্জিত করা শেখালেন।
বাটিক হলো মোম প্রতিরোধক (wax-resist) পদ্ধতিতে কাপড় রঞ্জিত করার একটি ঐতিহ্যবাহী শিল্প। এ পদ্ধতিতে কাপড়ের যেসব স্থানে রং লাগানোর প্রয়োজন নেই, সেখানে গলিত মোম ব্রাশ বা কোনো ডাইসের সাহায্যে লাগিয়ে নকশা তৈরি করা হয়। এরপর কাপড়টি ঠান্ডা রঙের দ্রবণে ডুবানো হয়। রঙের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে এবং কাপড় শুকিয়ে গেলে গরম পানিতে সেদ্ধ করে অথবা ইস্ত্রি করে মোম তুলে ফেলা হয়। দৃশ্যকল্প-১ এ শিক্ষক সেলিনা বেগম শিক্ষার্থীদের মোম দিয়ে নকশা করে রঙের দ্রবণে ডুবিয়ে বস্ত্র রঞ্জন করিয়েছেন, যা বাটিক প্রক্রিয়ার মূল নীতি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-২ এ মুদাবা ও নাফিসার ক্রয়কৃত বস্ত্র দুটির রঞ্জন পদ্ধতিতে সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। মুদাবার পোশাকটি 'টাই অ্যান্ড ডাই' (বাঁধনি) এবং নাফিসার শাড়িটি 'ব্লক প্রিন্ট' পদ্ধতিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। নিম্নে এদের পদ্ধতিগত পার্থক্য মূল্যায়ন করা হলো:
১. রঞ্জন পদ্ধতির ধরণ: মুদাবার পোশাকটি রঞ্জন বা ডাইং (Resist Dyeing) পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত, যেখানে কাপড়কে রঙের দ্রবণে সম্পূর্ণ ডুবিয়ে রাঙানো হয়। পক্ষান্তরে, নাফিসার শাড়িটি মুদ্রণ বা প্রিন্টিং পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত, যেখানে কাপড়ের নির্দিষ্ট অংশে রঙের ছাপ দেওয়া হয়।
২. প্রতিরোধক উপাদানের ব্যবহার: বাঁধনি বা টাই অ্যান্ড ডাই পদ্ধতিতে সুতা, মার্বেল বা দড়ি দিয়ে কাপড় শক্ত করে বেঁধে রঙের প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করা হয়। অন্যদিকে ব্লক প্রিন্টে কোনো প্রতিরোধক ব্যবহার করা হয় না; বরং খোদাই করা কাঠের ব্লক বা ডাইসে রং মেখে সরাসরি কাপড়ে নকশা তোলা হয়।
৩. রঙের রূপায়ণ: বাঁধনি পদ্ধতিতে নকশার প্রান্তে রঙ ছড়িয়ে এক ধরণের নরম ও ছায়াময় (shaded) নকশার সৃষ্টি হয়। কিন্তু ব্লক প্রিন্টে নকশা হয় সুস্পষ্ট, নিখুঁত এবং নির্দিষ্ট সীমারেখাযুক্ত।
৪. ব্যবহৃত সরঞ্জাম: মুদাবার কাপড়ের ক্ষেত্রে সূচ, সুতা, মার্বেল বা রবার ব্যান্ড প্রধান সহায়ক। আর নাফিসার শাড়ির ক্ষেত্রে কাঠের ব্লক, প্যাড ও রঙের পেস্ট প্রয়োজন হয়।অতএব, উপকরণ, কৌশল ও ফলাফলের দিক থেকে মুদাবা ও নাফিসার বস্ত্র দুটির রঞ্জন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও