ইসলাম • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২০

ইসলাম প্রশ্ন

জনাব হামিদ সাহেব সমাজের একজন দানশীল ব্যক্তি। তিনি নিজ অর্থ ব্যয়ে গ্রামের লোকদের জন্য একটি বড় পুকুর খনন করে দেন। মুসল্লিদের সুবিধার জন্য গ্রামের মসজিদটি সম্প্রসারণ করে দেন। হামিদ সাহেবের প্রতিবেশী জাফর আহমদ পৌরসভার নির্বাচিত কমিশনার। জনাব জাফরের ছেলে মিজান মাদক সেবন করে এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। জাফর সাহেব বিষয়টি জানতে পেরে নিজেই তার ছেলেকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। ছেলেকে নিয়ে যাবার সময় পুলিশ অফিসার রোকন উদ্দিন সাহেব বলেন, জাফর সাহেবের মতো সচেতন অভিভাবক তৈরি হলে আমরা সহজেই সমাজকে মাদকমুক্ত করতে পারব।

  1. ক)

    আদর্শ জীবন কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    ইমাম গাযালি (র)-কে 'হুজ্জাতুল ইসলাম' কেন বলা হয়?

    (2)
  3. গ)

    জনাব হামিদের কর্মকান্ডে কোন মহান খলিফার আদর্শ প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    কমিশনার জাফর সাহেবের চরিত্রে যে মহান খলিফার আদর্শ ফুটে উঠেছে তা চিহ্নিতপূর্বক পলিশ অফিসার মহোদয়ের বক্তব্যের তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    যে জীবন আল্লাহর নির্দেশ ও রাসুলুল্লাহ (স)-এর আদর্শ অনুযায়ী পরিচালিত হয় এবং যা অন্যদের জন্য অনুকরণীয়, তাকে আদর্শ জীবন বলে।

  2. খ)

    হুজ্জাত অর্থ প্রমাণ বা দলিল। ইমাম গাযালি (র) ইসলামি দর্শন, ফিকহ ও আধ্যাত্মিকতায় অসাধারণ পাণ্ডিত্যের অধিকারী ছিলেন। তিনি যুক্তি ও প্রমাণ দিয়ে ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা সংশয় ও ভ্রান্ত মতবাদ খণ্ডন করেন। তাঁর রচনায় ইসলামের সত্যতা ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ কারণে তাঁকে "হুজ্জাতুল ইসলাম" বা ইসলামের প্রমাণ বলা হয়।

  3. গ)

    জনাব হামিদের কর্মকাণ্ডে হযরত উসমান (রা)-এর আদর্শ প্রতিফলিত হয়েছে।

    ব্যাখ্যা:
    ১. উসমান (রা) মদিনায় পানির সংকটে নিজ অর্থে রুমা কূপ কিনে মুসলমানদের জন্য ওয়াকফ করেছিলেন। হামিদও গ্রামবাসীর জন্য নিজ অর্থে পুকুর খনন করেছেন।
    ২. উসমান (রা) মসজিদে নববী সম্প্রসারণে অর্থ দান করেন। হামিদও গ্রামের মসজিদ সম্প্রসারণ করে দিয়েছেন।
    ৩. উভয়েই ধনী হয়েও সম্পদ জনকল্যাণে ও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ব্যয় করেছেন।

    তাই হামিদের কাজ উসমান (রা)-এর দানশীলতার আদর্শের প্রতিফলন।

  4. ঘ)

    কমিশনার জাফর সাহেবের চরিত্রে হযরত উমর (রা)-এর ন্যায়বিচারের আদর্শ ফুটে উঠেছে। উমর (রা)-এর পুত্র মদপানের অপরাধ করলে তিনি আত্মীয়তার কারণে ছাড় না দিয়ে তাকে শরিয়ত নির্ধারিত শাস্তি দেন। জাফরও মাদকাসক্ত পুত্রকে নিজেই পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন।

    পুলিশ অফিসারের বক্তব্যের তাৎপর্য:
    ১. অভিভাবক সচেতন হলে সন্তানের অপরাধ প্রাথমিক পর্যায়েই বন্ধ করা সম্ভব।
    ২. আইনের চোখে সবাই সমান। নিজের সন্তানকেও ছাড় না দেওয়া সমাজে ন্যায়ের দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।
    ৩. মাদক সমাজে অপরাধ, বিশৃঙ্খলা ও পারিবারিক ভাঙনের কারণ। আল্লাহ মদ ও জুয়াকে শয়তানের কাজ বলে বর্জন করতে নির্দেশ দিয়েছেন (সূরা মায়িদা: ৯০)।

    সুতরাং, জাফরের মতো দায়িত্বশীল অভিভাবক তৈরি হলে সমাজ মাদকমুক্ত হবে। পুলিশ অফিসারের বক্তব্য যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন