গার্হস্থ্য বিজ্ঞান • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৪
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান প্রশ্ন
নবম শ্রেণির ছাত্র সুমন। সহপাঠীদের তুলনায় বেশ খাটো এবং কম ওজনের। ক্লাসের পড়া মনে রাখতে সমস্যা হয়। প্রায়ই পেটের অসুখে ভোগে, তাই স্কুলে নিয়মিত উপস্থিত থাকতে পারে না। এ অবস্থা দেখে সুমনের বাবা-মা চিন্তিত হয়ে পড়েন এবং ডাক্তারের শরণাপন্ন হন। ডাক্তার সুমনের খাদ্য তালিকা সম্পর্কে জেনে বলেন, সুমনের খাদ্য তালিকায় প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের অভাব রয়েছে। তাই তাকে বয়স উপযোগী খাদ্য তালিকা তৈরি করে খাবার খাওয়াতে বলেন।
- ক)(1)
খাদ্য উপাদান কাকে বলে?
- খ)(2)
প্রোটিনকে মুখ্য উপাদান হিসেবে গণ্য করা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে ডাক্তারের পরামর্শ মত সুমনের উপযোগী একদিনের একটি খাদ্য তালিকা তৈরি করে দেখাও।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে সুমনের খাদ্য তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের কোন কোন বিষয়ের দিকে লক্ষ রাখা উচিত? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
খাদ্যে বিদ্যমান যে রাসায়নিক উপাদান দেহের বৃদ্ধি, ক্ষয়পূরণ, শক্তি উৎপাদন ও রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে, তাকে খাদ্য উপাদান (Nutrient) বলে।
- খ)
প্রোটিন দেহের প্রতিটি কোষ ও কলার প্রধান গঠন উপাদান। এটি দেহের বৃদ্ধি ও ক্ষয়পূরণে সরাসরি কাজ করে, যা অন্য উপাদান দিয়ে সম্ভব নয়।
এছাড়া প্রোটিন এনজাইম, হরমোন ও অ্যান্টিবডি তৈরি করে, যা দেহের বিপাক ও রোগ প্রতিরোধে অপরিহার্য। প্রয়োজনে প্রোটিন থেকে শক্তিও পাওয়া যায়। এসব গুরুত্বের কারণে প্রোটিনকে মুখ্য খাদ্য উপাদান বলা হয়।
- গ)
সুমন নবম শ্রেণির কিশোর। সে খাটো ও কম ওজনের এবং তার পেটের অসুখ হয়, ফলে তার পুষ্টির ঘাটতি রয়েছে। তাই তার জন্য আমিষ, শক্তি, ভিটামিন ও খনিজ সমৃদ্ধ সুষম খাদ্য তালিকা দরকার। একদিনের নমুনা খাদ্য তালিকা:
সময় খাবারের নাম সকালের নাস্তা (৭–৮টা) রুটি বা পরোটা, ডিম ভাজি/সিদ্ধ, সবজি ভাজি, এক গ্লাস দুধ মধ্যাহ্ন নাস্তা (১০–১১টা) মৌসুমি ফল (কলা/পেয়ারা/আপেল) দুপুরের খাবার (১–২টা) ভাত, মাছ বা মুরগির মাংস, ডাল, শাক, মিশ্র সবজি, সালাদ বিকালের নাস্তা (৪–৫টা) চিঁড়া/মুড়ি ও বাদাম, বা খিচুড়ি, এক গ্লাস দুধ বা ফলের রস রাতের খাবার (৮–৯টা) ভাত বা রুটি, ডাল, মাছ বা ডিম, সবজি, দই বা এক গ্লাস দুধ এছাড়া সারাদিনে ৮–১০ গ্লাস বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে।
- ঘ)
সুমনের খাদ্য তালিকা তৈরির সময় বাবা-মায়ের নিচের বিষয়গুলোর দিকে লক্ষ রাখা উচিত:
১. বয়স ও লিঙ্গ: সুমন কিশোর, তাই তার দ্রুত বৃদ্ধির জন্য প্রচুর আমিষ, ক্যালসিয়াম ও আয়রন প্রয়োজন।
২. পুষ্টির চাহিদা ও ঘাটতি: সুমন খাটো ও কম ওজনের, তাই ঘাটতি পূরণের জন্য খাদ্যের ছয়টি উপাদানই (শর্করা, আমিষ, স্নেহ, ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি) সুষমভাবে থাকতে হবে।
৩. স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ খাবার: সুমন প্রায়ই পেটের অসুখে ভোগে। তাই খাবার পরিষ্কারভাবে রান্না ও বিশুদ্ধ পানি পান নিশ্চিত করতে হবে।
৪. রুচি ও বৈচিত্র্য: সুমনের পছন্দের দিকে লক্ষ রেখে খাবারে বৈচিত্র্য আনতে হবে, যাতে সে আগ্রহ নিয়ে খায়।
৫. আর্থিক সামর্থ্য ও মৌসুমি খাবার: পরিবারের আয় অনুযায়ী সহজলভ্য, সস্তা ও মৌসুমি খাবার বেছে নিতে হবে।
৬. নিয়মিত খাবার গ্রহণ: নির্দিষ্ট সময়ে খাবার ও নাস্তার ব্যবস্থা থাকা উচিত।সুতরাং, এসব বিষয় মাথায় রেখে খাদ্য তালিকা তৈরি করলে সুমন সুস্থ ও সবল হয়ে বেড়ে উঠবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও