বিজ্ঞান • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৩

বিজ্ঞান প্রশ্ন

আদিবা ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীতে বেড়াতে গিয়ে দেখল, নদীর আশপাশে অপরিকল্পিতভাবে ছোট বড় কলকারখানা গড়ে-উঠেছে। নদীতে এসব কলকারখানার বর্জ্য, নর্দমার পানি মিশে যাওয়ার ফলে পানি হয়ে উঠেছে কালো ও দুর্গন্ধযুক্ত।

  1. ক)

    স্ফুটনাঙ্ক কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    পানিকে সর্বজনীন দ্রাবক বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত দূষণ রোধে শিল্পপতি ও নাগরিকের করণীয় কী? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    কী ব্যবস্থা গ্রহণ করলে নদীতে পরিবেশবান্ধব অবস্থা ফিরে আসবে? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    বায়ুমণ্ডলীয় চাপে যে তাপমাত্রায় কোনো তরল পদার্থ বাষ্পে পরিণত হয়, তাকে ওই তরলের স্ফুটনাঙ্ক বলে।

  2. খ)

    পানি বেশির ভাগ অজৈব যৌগ এবং অনেক জৈব যৌগকে দ্রবীভূত করতে পারে। এই বিশেষ ধর্মের কারণে অসংখ্য পদার্থ পানিতে দ্রবীভূত হয়। এজন্য পানিকে সর্বজনীন দ্রাবক বলা হয়। লবণ বা অ্যাসিডের মতো তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থও এতে দ্রবীভূত হয়ে তড়িৎ পরিবহন করে।

  3. গ)

    উদ্দীপকের দূষণটি বুড়িগঙ্গা নদীর পানিদূষণ, যার প্রধান কারণ কলকারখানার বর্জ্য ও নর্দমার পানি। এর রোধে শিল্পপতি ও নাগরিকের করণীয় নিচে দেওয়া হলো।

    শিল্পপতির করণীয়:
    ১. কারখানায় বর্জ্য পরিশোধন ব্যবস্থা (ETP) স্থাপন করে বর্জ্যপানি পরিশোধন করে তারপর নদীতে ফেলতে হবে।
    ২. একই ধরনের কারখানা নিয়ে শিল্পাঞ্চল গড়ে বড় ইটিপিতে বর্জ্যপানি পরিশোধন করা যায়।
    ৩. পরিশোধিত পানি কারখানায় পুনরায় ব্যবহার করা যেতে পারে।

    নাগরিকের করণীয়:
    ১. ক্ষতিকর বর্জ্য, যেমন অ্যারোসল, পেইন্ট, কীটনাশকের কৌটা যেখানে-সেখানে না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে।
    ২. জলাভূমি ও বনভূমি রক্ষা করতে হবে এবং বৃক্ষরোপণ ও পরিচ্ছন্নতা কাজে অংশ নিতে হবে।
    ৩. ছাদের বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করে ব্যবহার করলে পানিদূষণ ও পানি সংকট দুই-ই কমে।
    ৪. পোস্টার ও আলোচনার মাধ্যমে অন্যদের সচেতন করতে হবে।

  4. ঘ)

    বুড়িগঙ্গা নদীতে পরিবেশবান্ধব অবস্থা ফিরিয়ে আনতে সমন্বিতভাবে নিচের ব্যবস্থাগুলো নিতে হবে।

    ১. বর্জ্য পরিশোধন: প্রতিটি কারখানায় ইটিপি স্থাপন বাধ্যতামূলক করা এবং বর্জ্যপানি পরিশোধন না করে নদীতে ফেলা বন্ধ করা। নর্দমার পানিও সরাসরি নদীতে মিশতে না দিয়ে শোধনের ব্যবস্থা করতে হবে।
    ২. পরিকল্পিত শিল্পায়ন: নদীর আশপাশে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা কারখানা সরিয়ে একই ধরনের কারখানা নিয়ে পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চল গড়তে হবে।
    ৩. জলাভূমি ও বনভূমি রক্ষা: জলাভূমি বন্যা নিয়ন্ত্রণ করে, ক্ষতিকর পদার্থ শোষণ করে এবং বিশুদ্ধ পানি সঞ্চালন করে। তাই জলাভূমি ভরাট বন্ধ ও বৃক্ষরোপণ করতে হবে।
    ৪. বৃষ্টির পানি ও আবর্জনা ব্যবস্থাপনা: শহরে বৃষ্টির পানি সংগ্রহ বা গ্রাভেলের মতো ছিদ্রযুক্ত পদার্থ ব্যবহার করে পানি ভূগর্ভে পাঠাতে হবে এবং আবর্জনা নদীতে ফেলা বন্ধ করতে হবে।
    ৫. জনসচেতনতা ও আইন প্রয়োগ: গণমাধ্যম ও স্কুল-কলেজের মাধ্যমে সচেতনতা বাড়াতে হবে এবং দূষণকারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

    সুতরাং, উৎসে বর্জ্য পরিশোধন, পরিকল্পিত শিল্পায়ন এবং সবার সচেতন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করলে নদীর পানি আবার পরিষ্কার হবে এবং পরিবেশবান্ধব অবস্থা ফিরে আসবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন