হিন্দু ধর্ম • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৪

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

বিমল বাবু পরলোকগমন করলে জ্যেষ্ঠ পুত্র ইন্দ্রজিৎ হিন্দুধর্মের বিধান অনুযায়ী সৎকার এবং অশৌচ পালন শেষে আদ্যশ্রাদ্ধ সম্পন্ন করেন। বিমল বাবুর পরলোকগত আত্মার সকল কর্ম তার পুত্র ইন্দ্রজিৎ শ্রদ্ধা ও ভক্তিসহকারে পালন করেন।

  1. ক)

    আদ্যশ্রাদ্ধের পূর্ণনাম কী?

    (1)
  2. খ)

    বিবাহে শুভদৃষ্টি ও যজ্ঞানুষ্ঠান করা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    বিমল বাবুর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়েছিল তা আলোচনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    বিমল বাবুর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    আদ্যশ্রাদ্ধের পূর্ণ নাম আদ্য একোদ্দিষ্ট শ্রাদ্ধ।

  2. খ)

    শুভদৃষ্টিতে বর-কনে প্রথমবার পরস্পরের দিকে তাকিয়ে নতুন জীবনের সঙ্গীকে গ্রহণ করে। এতে তাদের মধ্যে সম্পর্কের সূচনা হয় এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার ভিত তৈরি হয়।
    যজ্ঞানুষ্ঠানে বেদমন্ত্র উচ্চারণ করে মনের অহংকার, হিংসা-বিদ্বেষসহ সকল অসাধু চিন্তা আগুনে আহুতি দেওয়া হয়। অগ্নিকে সাতবার প্রদক্ষিণ করে সাতপাকে বেঁধে নবদম্পতি বিশুদ্ধ নবজীবন লাভ করে।
    এভাবে অগ্নিদেবের কাছে বর-কনে আমৃত্যু বাঁধা থাকে। তাই এ দুটি অনুষ্ঠান করা হয়।

  3. গ)

    বিমল বাবুর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া হিন্দুধর্মের বিধান অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছিল।
    অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার ধারণা: 'অন্ত্য' মানে শেষ এবং 'ইষ্টি' মানে যজ্ঞ। অন্ত্যেষ্টি মানে শেষযজ্ঞ, অর্থাৎ অগ্নিতে মৃতদেহকে আহুতি দেওয়া। মৃত্যু মানে দেহ থেকে আত্মার বহির্গমন। আত্মা চলে গেলে দেহ প্রাণহীন হয়ে পচে যায়। তাই শাস্ত্রে মৃতদেহের সৎকারের বিধান আছে।
    পদ্ধতি: মৃতদেহকে বস্ত্রাবৃত করে মালা-চন্দনে সাজিয়ে শ্মশানে নেওয়া হয়। সেখানে মাথা দক্ষিণ দিকে রেখে কুশের ওপর শোয়ানো হয়। দাহাধিকারী তেল ও কাঁচা হলুদ মাখিয়ে স্নান করান এবং নতুন কাপড় ও চন্দন পরিয়ে পিণ্ডদান করেন। আমকাষ্ঠ বা চন্দনকাষ্ঠে চিতা সাজিয়ে শবকে শোয়ানো হয়। শব প্রদক্ষিণ করে মন্ত্র পাঠের পর জ্যেষ্ঠ পুত্র মুখাগ্নি করেন। শেষে চিতা নিভিয়ে সকলে স্নান করেন।
    উদ্দীপকের সঙ্গে সম্পর্ক: জ্যেষ্ঠ পুত্র ইন্দ্রজিৎ বিধান অনুযায়ী পিতার সৎকার করেছেন, অশৌচ পালন করেছেন এবং অশৌচের শেষে আদ্যশ্রাদ্ধ করেছেন। তিনি সব কর্ম শ্রদ্ধা ও ভক্তিসহকারে সম্পন্ন করেছেন।

  4. ঘ)

    বিমল বাবুর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ধর্মীয় ও সামাজিক উভয় দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ।
    অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার পরিচয়: শাস্ত্র অনুসারে মৃতদেহের সৎকারই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া। এটি ধর্মীয় বিধি-বিধানের অংশ।
    ১. ধর্মীয় গুরুত্ব: অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার মন্ত্র পাঠ করে বলা হয়, মৃত ব্যক্তি যেন দুষ্কর্মের ফল থেকে মুক্ত হয়ে দিব্যলোকে গমন করেন। মন্ত্র উচ্চারণের ফলে আত্মা পবিত্র হয়। ইন্দ্রজিৎ শাস্ত্রীয় বিধান মেনে এ দায়িত্ব পালন করেছেন।
    ২. পরিবেশগত গুরুত্ব: দেহ ভূপৃষ্ঠে পড়ে থাকলে পচে ভীতির সঞ্চার হয় এবং পরিবেশ নষ্ট হয়। সৎকারের ফলে এই সমস্যা দূর হয়।
    ৩. সামাজিক গুরুত্ব: কেউ মারা গেলে পাড়া-প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজন দেখতে আসেন, পরিবারের পাশে দাঁড়ান। এতে সামাজিক অনুশাসনের বন্ধন দৃঢ় হয় এবং সবার মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ মন তৈরি হয়।
    ৪. পারিবারিক ও নৈতিক গুরুত্ব: পরিবার ও জ্ঞাতিবর্গ অশৌচ পালন করে মৃত ব্যক্তির আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এতে সন্তানের কর্তব্যবোধ ও সামাজিক মূল্যবোধ গড়ে ওঠে।
    সুতরাং, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া কেবল ধর্মীয় আচার নয়, এটি পরিবেশ রক্ষা, আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা এবং সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন