‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • মূল্যবোধ, আইন, স্বাধীনতা ও সাম্য • ঢাকা সিটি কলেজ • ঢাকা সিটি কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৩

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

'ক' নামক রাষ্ট্রটিতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু একসময় এখানকার কৃষাঙ্গ শ্রেণি বর্ণবাদের শিকার হয়েছিল। কৃষ্ণাজারা শ্বেতাঙ্গদের সাথে একই স্কুলে পড়তে পারতো না। একই ট্রেনে যাতায়াত করা কিংবা একই মাঠে খেলাধুলা করতে পারত না। কৃষ্ণাঙ্গ ও শ্বেতাঙ্গদের জন্য পৃথক আইন ছিল। এসবের প্রতিবাদের সেখানকার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ আন্দোলন শুরু করে এবং পরিণামে কারাবরণ করে। অনেক বছর পর এই বৈষম্যের অবসান ঘটে।

  1. ক)

    "আইন হচ্ছে নিম্নতমের প্রতি ঊর্ধ্বতন রাজনৈতিক কর্তৃত্বের আদেশ"- কার উক্তি?

    (1)
  2. খ)

    অর্থনৈতিক সাম্য বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    'ক' নামক রাষ্ট্রের নির্ধারিত জনগোষ্ঠী কোন ধরনের সাম্য থেকে বঞ্চিত ছিল? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত সাম্য প্রতিষ্ঠার সাথে সুশাসনের সম্পর্ক মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "আইন হচ্ছে নিম্নতমের প্রতি ঊর্ধ্বতন রাজনৈতিক কর্তৃত্বের আদেশ"— এটি প্রখ্যাত ইংরেজ আইনবিদ জন অস্টিনের (John Austin) উক্তি।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অর্থনৈতিক সাম্য বলতে বোঝায় এমন একটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের যোগ্যতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ পাওয়ার অধিকার, উপযুক্ত পারিশ্রমিক এবং মৌলিক অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকে। এর মাধ্যমে সমাজে ধনী ও দরিদ্রের মধ্যকার বৈষম্য সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনা হয় এবং সম্পদ যাতে কেবল মুষ্টিমেয় লোকের হাতে পুঞ্জীভূত না হয়, তা নিশ্চিত করা হয়। মূলত বেকারত্ব, দারিদ্র্য ও শোষণমুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করাই অর্থনৈতিক সাম্যের মূল লক্ষ্য।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'ক' নামক রাষ্ট্রের নির্ধারিত জনগোষ্ঠী তথা কৃষ্ণাঙ্গরা মূলত 'সামাজিক সাম্য' এবং 'আইনগত সাম্য' থেকে বঞ্চিত ছিল।

    সামাজিক সাম্য বলতে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র বা লিঙ্গ নির্বিশেষে সমাজের সকল নাগরিকের সমান সামাজিক মর্যাদা এবং সমান সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার অধিকারকে বোঝায়। উদ্দীপকে উল্লিখিত 'ক' রাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গরা শ্বেতাঙ্গদের সাথে একই স্কুলে পড়তে পারত না, একই ট্রেনে যাতায়াত করতে বা একই মাঠে খেলাধুলা করতে পারত না। অর্থাৎ তাদের গায়ের রঙের ওপর ভিত্তি করে সমাজের স্বাভাবিক অধিকার ও নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে রাখা হতো, যা সুস্পষ্টভাবে সামাজিক সাম্যের লঙ্ঘন।

    একই সাথে, কৃষ্ণাঙ্গ ও শ্বেতাঙ্গদের জন্য পৃথক পৃথক আইন প্রচলিত ছিল। এর ফলে আইনের চোখে কৃষ্ণাঙ্গরা শ্বেতাঙ্গদের সমান সুরক্ষা ও মর্যাদা পেত না, যা 'আইনগত সাম্য' থেকেও তাদের বঞ্চিত করার দৃষ্টান্ত। সুতরাং, সার্বিকভাবে রাষ্ট্রটিতে কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠী বর্ণবাদের কারণে সামাজিক ও আইনগত সাম্য থেকে তীব্রভাবে বঞ্চিত ছিল।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত সামাজিক ও আইনগত সাম্য প্রতিষ্ঠার সাথে সুশাসনের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর ও অবিচ্ছেদ্য।

    সুশাসনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো আইনের শাসন, সমতা, ন্যায়বিচার এবং মানবাধিকার নিশ্চিতকরণ। সুশাসন এমন একটি শাসনব্যবস্থা, যেখানে রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিক জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সমান অধিকার ও সুরক্ষা লাভ করে। উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রে বর্ণবাদের কারণে যে বৈষম্য বিরাজ করছিল, তা ছিল সুশাসনের মূলনীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী। কৃষ্ণাঙ্গদের পৃথক আইনের অধীনে রেখে এবং মৌলিক নাগরিক ও সামাজিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে কখনো সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব ছিল না।

    দীর্ঘ আন্দোলনের পর যখন এই বৈষম্যের অবসান ঘটে এবং সামাজিক ও আইনগত সাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়, তখনই রাষ্ট্রে প্রকৃত সুশাসনের পথ উন্মুক্ত হয়। কারণ সাম্য প্রতিষ্ঠিত হলে সমাজে আইনের শাসন কার্যকর হয়, জাতিগত বা বর্ণগত শোষণ দূর হয় এবং সকল নাগরিকের মানবিক মর্যাদা ও মৌলিক মানবাধিকার সংরক্ষিত হয়। সাম্য ছাড়া সমাজে সামাজিক সুবিচার, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং নাগরিকদের অংশগ্রহণমূলক শাসন নিশ্চিত হতে পারে না।

    অতএব, বলা যায় যে, সামাজিক ও আইনগত সাম্য প্রতিষ্ঠা সুশাসনের পূর্বশর্ত। উদ্দীপকের মতো বর্ণবৈষম্য দূর করে সাম্য প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমেই একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সুশাসন অর্থবহ হয়ে ওঠে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন