‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৩

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

দীর্ঘদিন থেকে চলা অর্থনৈতিক বৈষম্য, হত্যা, জেল-জুলুম এবং ষড়যন্ত্রমূলকভাবে দায়ের এর কথা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার কারণে 'X' রাষ্ট্রের জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণআন্দোলন শুরু করে। জনতার আন্দোলনে ভীত সরকার বাধ্য হয়ে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা প্রত্যাহার করে এবং রাজবন্দীদের মুক্তি দেয়।

  1. ক)

    অপারেশন সার্চলাইট কী?

    (1)
  2. খ)

    মুজিবনগর সরকার বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সাথে তোমার পঠিত কোনো গণআন্দোলনে সাদৃশ্য আছে কী? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত আন্দোলন জনগণকে স্বাধীনতার মন্ত্রে উদ্দীপ্ত করে- বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী নিরস্ত্র ও নিরীহ বাঙালি জাতির ওপর যে বর্বরোচিত ও পরিকল্পিত গণহত্যা পরিচালনা করেছিল, তার সামরিক নাম ছিল 'অপারেশন সার্চলাইট'।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব প্রদান, যুদ্ধ পরিচালনা এবং বহির্বিশ্বের সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত এবং ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় (মুজিবনগর) শপথ গ্রহণকারী স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকারকে 'মুজিবনগর সরকার' বলা হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ সরকারের রাষ্ট্রপতি (অনুপস্থিতিতে সৈয়দ নজরুল ইসলাম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি) এবং তাজউদ্দীন আহমদ প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সাথে আমার পঠিত ১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক 'গণঅভ্যুত্থান'-এর সাদৃশ্য রয়েছে।

    তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের ওপর আইয়ুব খানের স্বৈরশাসন, অর্থনৈতিক শোষণ, রাজনৈতিক নিপীড়ন এবং বিশেষ করে ১৯৬৮ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা 'আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা'-র প্রতিবাদে ছাত্র-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়। ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ১১ দফা এবং আওয়ামী লীগের ৬ দফার ভিত্তিতে ১৯৬৯ সালে পূর্ব পাকিস্তানে এক তীব্র গণআন্দোলন গড়ে ওঠে। এই আন্দোলনের মুখে আইয়ুব খানের সরকার নতি স্বীকার করে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে এবং শেখ মুজিবুর রহমানসহ সকল রাজবন্দীকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।

    উদ্দীপকের 'X' রাষ্ট্রেও অর্থনৈতিক বৈষম্য, নিপীড়ন ও ষড়যন্ত্রমূলক রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার প্রতিবাদে ঐক্যবদ্ধ গণআন্দোলনের মুখে সরকার মামলা প্রত্যাহার ও রাজবন্দীদের মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। এই ঘটনাপ্রবাহ ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের সাথে সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান বাঙালি জনগণকে স্বাধীনতার মূলমন্ত্রে গভীরভাবে উদ্দীপ্ত করেছিল— মন্তব্যটি অত্যন্ত যথার্থ।

    ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের এক অবিস্মরণীয় মাইলফলক। এ আন্দোলনের মাধ্যমে আইয়ুব খানের এক দশকের সামরিক একনায়কতন্ত্রের পতন ঘটে। আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ছাত্র-কৃষক-শ্রমিক-পেশাজীবী নির্বিশেষে সকল স্তরের মানুষের মধ্যে এক অভূতপূর্ব জাতীয় ঐক্য গড়ে ওঠে। আসাদ, ড. জোহা, মতিউর ও সার্জেন্ট জহুরুল হকের মতো বীর সেনানীদের আত্মত্যাগ সাধারণ জনগণের মধ্যে আত্মমর্যাদাবোধ ও জাতীয়তাবাদের তীব্র চেতনা জাগ্রত করে।

    এই অভ্যুত্থানের ফলেই আইয়ুব সরকার তথাকথিত আগরতলা মামলা প্রত্যাহার করে শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তি দেয় এবং বাঙালি জাতি তাকে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত করে অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে বরণ করে নেয়। এই আন্দোলন বাঙালিদের মনে এই বিশ্বাস তৈরি করে যে রাজপথে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের মাধ্যমে অধিকার আদায় করা সম্ভব। এই আত্মবিশ্বাসই পরবর্তীতে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বিপুল জয় এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে প্রাণ বাজি রেখে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনার প্রধান শক্তিতে পরিণত হয়।

    অতএব, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান ছিল স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতার উত্তরণের মূল সোপান, যা সমগ্র বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার মন্ত্রে চূড়ান্তভাবে উদ্দীপ্ত করেছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন