কৃষিশিক্ষা • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৩

কৃষিশিক্ষা প্রশ্ন

নেত্রকোণা জেলার আমশোলা গ্রামের কদম আলী ৫টি গাভি নিয়ে একটি দুগ্ধখামার গড়ে তোলেন। গাভিগুলোকে খাওয়ানোর জন্য তিনি খামারের পার্শ্ববর্তী ১৫ শতক জমিতে ভুট্টার চাষ করেন। প্রতিদিন তিনি গাভিগুলোকে দানাদার খাদ্যের পাশাপাশি ভুট্টা গাছ টুকরা করে খেতে দেন। কিন্তু চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি হওয়ায় ভবিষ্যতে প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য ভুট্টা গাছগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ করেন। তাকে অনুসরণ করে তার গ্রামের অনেকেই গাভি পালনে উদ্বুদ্ধ হয়।

  1. ক)

    ঔষধি উদ্ভিদ কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    দোআঁশ মাটিতে সবধরনের ফসল ভালো হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত ফসলটি ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য কীভাবে সংরক্ষণ করবেন? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    কদম আলীর উদ্যেগাটি মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    যে উদ্ভিদের পাতা, ফুল, ফল, মূল বা ছাল রোগ নিরাময়ে ঔষধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তাকে ঔষধি উদ্ভিদ বলে।

  2. খ)

    দোআঁশ মাটি হলো বালি, পলি ও কাদার সুষম মিশ্রণ। এতে পানি ধরে রাখার ক্ষমতা ও পানি নিষ্কাশনের ক্ষমতা দুটোই ভালো। মাটির ভেতর বায়ু চলাচল ভালো হওয়ায় গাছের মূল সহজে বাড়তে পারে। এছাড়া এতে জৈব পদার্থ ও পুষ্টি উপাদান বেশি থাকে এবং চাষ করাও সহজ। তাই দোআঁশ মাটিতে সব ধরনের ফসল ভালো হয়।

  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত ফসলটি ভুট্টা। ভুট্টা গাছ সাইলেজ (Silage) পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা যায়।

    সাইলেজ তৈরির পদ্ধতি:

    ১. ভুট্টা গাছ সবুজ অবস্থায় (দানা দুধের মতো থাকা অবস্থায়) কেটে ছোট ছোট টুকরা করা হয়।
    ২. একটি গর্ত বা সাইলো তৈরি করে তাতে স্তরে স্তরে টুকরাগুলো ভরে ভালোভাবে চেপে বাতাস বের করে দেওয়া হয়। প্রয়োজনে চিটাগুড় মেশানো যায়।
    ৩. গর্ত পলিথিন বা মাটি দিয়ে বায়ুরোধীভাবে ঢেকে দেওয়া হয়।
    ৪. বায়ুহীন অবস্থায় গাঁজন প্রক্রিয়ায় সাইলেজ তৈরি হয়, যা কয়েক সপ্তাহ পরে ব্যবহারযোগ্য হয়।

  4. ঘ)

    কদম আলীর উদ্যোগটি প্রশংসনীয় ও অনুকরণীয়।

    ১. খাদ্যের নিশ্চয়তা: তিনি নিজের জমিতে ভুট্টা চাষ করে গাভির জন্য সবুজ খাদ্য নিশ্চিত করেছেন এবং দানাদার খাদ্যের সাথে সুষম খাদ্য দিচ্ছেন।
    ২. খরচ সাশ্রয়: নিজের জমির ফসল ব্যবহার করায় বাইরে থেকে খাদ্য কিনতে হয় না।
    ৩. সংরক্ষণ: উদ্বৃত্ত ভুট্টা গাছ সংরক্ষণ করায় খাদ্য সংকটের সময় তা ব্যবহার করা যাবে এবং অপচয় রোধ হবে।
    ৪. আয় ও কর্মসংস্থান: দুগ্ধখামার থেকে দুধ বিক্রি করে নিয়মিত আয় হবে এবং অন্যদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
    ৫. অনুপ্রেরণা: গ্রামের অনেকেই তাঁকে দেখে গাভি পালনে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে।

    সুতরাং, কদম আলীর উদ্যোগ ব্যক্তিগত ও সামাজিক উভয় দিক থেকে লাভজনক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন