‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • সরকার কাঠামো ও সরকারের অঙ্গসমূহ • নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ • নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৪

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

রাতুলের দেশের সব জনগণের দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে। সেখানে কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকার রয়েছে এবং প্রতিটি সরকার নিজ নিজ ক্ষেত্রে স্বাধীন। দেশটিতে সংবিধানের মাধ্যমে দুটি সরকারের মধ্যে ক্ষমতা বণ্টন করা হয়েছে।

  1. ক)

    রাজতন্ত্র কী?

    (1)
  2. খ)

    বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রয়োজন কেন?

    (2)
  3. গ)

    রাতুলের দেশের সরকারের ধরন ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত সরকারের সাথে বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থার তুলনামূলক আলোচনা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতা কোনো একক ব্যক্তি বা রাজার হাতে বংশানুক্রমিকভাবে ন্যস্ত থাকে, তাকে রাজতন্ত্র বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অপরিহার্য। বিচার বিভাগ স্বাধীন না হলে আইন বিভাগ ও শাসন বিভাগের হস্তক্ষেপের কারণে নিরপেক্ষ ও ন্যায়বিচার প্রদান সম্ভব হয় না। দুর্বল ও নিরীহ জনগণ যাতে শক্তিশালী পক্ষের অন্যায় ও অবিচার থেকে সুরক্ষা পেতে পারে এবং সংবিধানের অভিভাবক হিসেবে ভূমিকা পালন করতে পারে, সেজন্য বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা ও স্বাধীনতা প্রয়োজন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    রাতুলের দেশের সরকার ব্যবস্থাটি হলো 'যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার ব্যবস্থা' (Federal Government)।

    যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার ব্যবস্থায় একটি কেন্দ্রীয় সরকার এবং একাধিক প্রাদেশিক বা অঙ্গরাজ্য সরকার বিদ্যমান থাকে। এই ব্যবস্থায় সংবিধানের মাধ্যমে কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে সুস্পষ্টভাবে ক্ষমতা বণ্টন করা হয় এবং প্রতিটি সরকার নিজ নিজ এখতিয়ারভুক্ত বিষয়ে স্বাধীন ক্ষমতা প্রয়োগ করে। এ ছাড়া এই শাসনব্যবস্থায় সাধারণত দ্বৈত নাগরিকত্ব (কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক নাগরিকত্ব) এবং লিখিত ও দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধান বিদ্যমান থাকে।

    উদ্দীপকে রাতুলের দেশে দ্বৈত নাগরিকত্ব, কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকারের উপস্থিতি এবং সংবিধান অনুযায়ী ক্ষমতা বণ্টনের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকায় এটি একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে রাতুলের দেশের সরকার ব্যবস্থা হলো 'যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার', অন্যদিকে বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থা হলো 'এককেন্দ্রিক সরকার'। এদের তুলনামূলক আলোচনা নিচে উপস্থাপন করা হলো:

    ১. ক্ষমতা বণ্টন ও সরকারের স্তর: রাতুলের দেশে কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক—এই দুই স্তরের সরকার রয়েছে এবং সংবিধান অনুযায়ী উভয়ের মাঝে ক্ষমতা বণ্টন করা হয়। পক্ষান্তরে, বাংলাদেশে কেবল একটি কেন্দ্রীয় সরকার রয়েছে এবং সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১ অনুযায়ী রাষ্ট্রটি এককেন্দ্রিক; এখানে কোনো প্রাদেশিক সরকার নেই।
    ২. নাগরিকত্ব: রাতুলের দেশের সংবিধানে জনগণের দ্বৈত নাগরিকত্বের বিধান রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে কেবল একক নাগরিকত্ব বিদ্যমান; সকল নাগরিক কেবলই 'বাংলাদেশি' হিসেবে পরিচিত।
    ৩. প্রশাসনিক কর্তৃত্ব: যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় প্রদেশগুলো নিজ নিজ ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র ও স্বায়ত্তশাসিত। অন্যদিকে, বাংলাদেশে কেন্দ্রীয় সরকার সমগ্র রাষ্ট্রের জন্য আইন প্রণয়ন ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ পরিচালনা করে থাকে।
    ৪. সংবিধানের প্রকৃতি: যুক্তরাষ্ট্রীয় রাষ্ট্রের সংবিধান সাধারণত কঠোরভাবে লিখিত ও দুষ্পরিবর্তনীয় হয় যাতে কেন্দ্রের স্বেচ্ছাচারিতায় প্রদেশের ক্ষমতা খর্ব না হয়। বাংলাদেশের সংবিধান লিখিত হলেও সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে তা তুলনামূলক সহজে সংশোধনযোগ্য।

    অতএব, গঠনগত বৈশিষ্ট্য, ক্ষমতার উৎস ও বিন্যাসের দিক দিয়ে রাতুলের দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার সাথে বাংলাদেশের এককেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থার মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন