বিজ্ঞান • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৯

বিজ্ঞান প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১: রিস্তা বেগম ও সান্তা বেগম প্রমিকে তাদের নিজের সন্তান হিসেবে দাবি করেন। কিন্তু বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়ায় তারা আদালতের শরণাপন্ন হন। পরবর্তীতে আদালত তিনজনকে একটি বিশেষ পরীক্ষার নির্দেশ প্রদান করেন।দৃশ্যকল্প-২: জিন প্রকৌশলী সাত্তার সাহেব একটি উদ্ভিদ থেকে জিন নিয়ে একটি বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে অন্য একটি উদ্ভিদে সংযোজন করেন এবং উন্নত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন নতুন উদ্ভিদ তৈরি করেন।

  1. ক)

    ক্রোমোজোম কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    ইন্টারফেরন উৎপাদন রোগ প্রতিরোধে প্রয়োজন- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-১ এ উল্লিখিত বিশেষ পরীক্ষাটি কী? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-২ এ উল্লিখিত সাত্তার সাহেবের বিশেষ প্রযুক্তিটির কৃষিক্ষেত্রে ভূমিকা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    কোষ বিভাজনের সময় নিউক্লিয়াসের ভেতরে সুতা বা ফিতার মতো যে গঠন দেখা যায় এবং যা জিন বহন করে, তাকে ক্রোমোজোম বলে।

  2. খ)

    ইন্টারফেরন এক ধরনের প্রোটিন, যা ভাইরাসে আক্রান্ত দেহকোষ থেকে নিঃসৃত হয়।

    এটি আশপাশের সুস্থ কোষে ভাইরাসের বংশবৃদ্ধি ঠেকিয়ে দেয়। এভাবে ভাইরাস ছড়াতে পারে না এবং রোগ প্রতিরোধ হয়। তাই ইন্টারফেরন রোগ প্রতিরোধে প্রয়োজন।

  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-১ এ উল্লিখিত বিশেষ পরীক্ষাটি হলো DNA ফিঙ্গারপ্রিন্টিং (DNA প্রোফাইলিং)।

    প্রতিটি মানুষের DNA অনন্য এবং সন্তান তার DNA-এর অর্ধেক মা ও অর্ধেক বাবার কাছ থেকে পায়। তাই শিশু প্রমি এবং দুই নারীর রক্ত বা কোষের নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করা হয়।

    ১. নমুনা থেকে DNA আলাদা করা হয় এবং বিশেষ উৎসেচক দিয়ে ছোট টুকরায় কাটা হয়।
    ২. টুকরোগুলো জেল ইলেকট্রোফোরেসিসের মাধ্যমে আকার অনুযায়ী আলাদা হয়ে ব্যান্ড বা দাগের আকারে সাজে।
    ৩. প্রমির ব্যান্ড-প্যাটার্ন দুই নারীর প্যাটার্নের সঙ্গে মেলানো হয়। যার সঙ্গে প্রমির প্যাটার্নের অর্ধেক মিলবে, তিনিই প্রমির প্রকৃত মা।

    এই পরীক্ষার মাধ্যমে আদালত বিষয়টির নিষ্পত্তি করতে পারে।

  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-২ এ সাত্তার সাহেব একটি উদ্ভিদ থেকে জিন নিয়ে অন্য উদ্ভিদে যুক্ত করেছেন। এই প্রযুক্তি জিন প্রকৌশল বা জিনগত প্রকৌশল (রিকম্বিন্যান্ট DNA প্রযুক্তি)। কৃষিক্ষেত্রে এর ভূমিকা নিম্নরূপ :

    ১. উচ্চ ফলন : জিন প্রকৌশলের মাধ্যমে বেশি ফলনশীল ফসলের জাত উদ্ভাবন করা যায়। এতে খাদ্য উৎপাদন বাড়ে।
    ২. রোগ ও পোকামাকড় প্রতিরোধ : ক্ষতিকর পোকামাকড় বা রোগ প্রতিরোধ করতে পারে এমন জিন যুক্ত করে ফসলের জাত তৈরি করা যায়। এতে কীটনাশকের ব্যবহার কমে।
    ৩. প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকা : খরা, লবণাক্ততা ও বন্যা সহনশীল ফসল তৈরি করা সম্ভব।
    ৪. পুষ্টিগুণ বৃদ্ধি : ফসলের পুষ্টিমান বাড়ানো যায়, যেমন ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ ধান (গোল্ডেন রাইস)।
    ৫. সংরক্ষণকাল : ফল ও সবজির সংরক্ষণকাল বাড়ানো সম্ভব হয়।

    সুতরাং, জিন প্রকৌশল প্রযুক্তি উন্নত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ফসল উৎপাদন করে কৃষিক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটাতে পারে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন