ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • ব্যবসায় পরিবেশ • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৫
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন
পঞ্চগড়ে পাথরভাঙা শিল্পের পাশাপাশি চা শিল্প গড়ে উঠেছে। এ কারণে সীমান্ত অঞ্চল হওয়া সত্ত্বেও পঞ্চগড়ে ব্যাংক বিমা গড়ে উঠেছে। এর ফলে ঐ অঞ্চলের মানুষের আয় যেমন বেড়েছে, তেমনি জীবনযাত্রার মানও উন্নত হয়েছে। তারা এখন অন্য শহরের লোকের মতো উন্নতমানের জীবন উপভোগ করে।
- ক)(1)
সাংস্কৃতিক পরিবেশ কী?
- খ)(2)
ব্যবসায়িক মূল্যবোধ কোন পরিবেশের অন্তর্ভুক্ত? বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে পঞ্চগড়ে চা শিল্প গড়ে ওঠার পিছনে কোন পরিবেশের অবদান বেশি? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
জীবনযুাত্রার মান বৃদ্ধিতে যে উপাদান ভূমিকা পালন করে তা উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জনগণের বিশ্বাস, মূল্যবোধ, ধ্যান-ধারণা, শিক্ষা, সংস্কৃতি, আচার-অনুষ্ঠান ও ঐতিহ্য নিয়ে যে পরিবেশ গঠিত হয়, তাকে সাংস্কৃতিক পরিবেশ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্যবসায়িক মূল্যবোধ সামাজিক বা সাংস্কৃতিক পরিবেশের অন্তর্ভুক্ত।
সমাজে বসবাসকারী মানুষের আচার-আচরণ, রীতিনীতি, বিশ্বাস ও সততা থেকেই মূল্যবোধের সৃষ্টি হয়। ব্যবসায়িক মূল্যবোধ হলো ব্যবসায় পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনটি ভালো বা মন্দ, ন্যায় বা অন্যায় তা অনুধাবন করার মানসিকতা। যেহেতু সমাজের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উপাদানসমূহ মানুষের মূল্যবোধ গঠনে ভূমিকা রাখে, তাই ব্যবসায়িক মূল্যবোধ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশেরই অঙ্গ।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে পঞ্চগড়ে চা শিল্প গড়ে ওঠার পেছনে 'প্রাকৃতিক বা ভৌগোলিক পরিবেশ'-এর অবদান বেশি।
প্রকৃতিপ্রদত্ত উপাদানসমূহ যেমন—ভূ-প্রকৃতি, মাটি, জলবায়ু, বৃষ্টিপাত, নদ-নদী, তাপমাত্রা ইত্যাদির সমন্বয়ে যে পরিবেশ গড়ে ওঠে, তাকে প্রাকৃতিক বা ভৌগোলিক পরিবেশ বলে। কোনো অঞ্চলে কোনো বিশেষ শিল্প গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক উপাদানের অনুকূলতা প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করে।
চা উৎপাদনের জন্য পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত, পাহাড়ি বা ঢালু উর্বর মাটি এবং বিশেষ জলবায়ুর প্রয়োজন হয়। পঞ্চগড় জেলার ভূ-প্রকৃতি, উঁচু-নিচু সমতল ভূমি ও অম্লযুক্ত মাটি চা চাষের অত্যন্ত উপযোগী। উদ্দীপকে দেখা যায়, ভৌগোলিক সুবিধার কারণেই সেখানে পাথরভাঙা শিল্পের পাশাপাশি বৃহৎ চা শিল্প গড়ে উঠেছে। সুতরাং, প্রাকৃতিক পরিবেশের অনুকূল উপাদানের ফলেই পঞ্চগড়ে চা শিল্পের দ্রুত বিকাশ সম্ভব হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধিতে মূল ভূমিকা পালন করেছে উদ্দীপকে উল্লিখিত 'অর্থনৈতিক পরিবেশ' এবং ব্যবসায়ের সহায়ক কার্যাবলি বা সেবামূলক উপাদান।
উদ্দীপকের আলোকে বিষয়টি নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধি: পঞ্চগড়ে চা শিল্প এবং পাথরভাঙা শিল্প গড়ে ওঠায় স্থানীয় জনগণের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে বেকারত্ব হ্রাস পেয়েছে এবং মানুষের আয়ের পথ উন্মুক্ত হয়েছে।
২. সহায়ক সেবামূলক প্রতিষ্ঠান (ব্যাংক ও বিমা) গড়ে ওঠা: শিল্পায়নের ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাহিদা মেটাতে সীমান্ত অঞ্চল হওয়া সত্ত্বেও পঞ্চগড়ে বাণিজ্যিক ব্যাংক ও বিমা কোম্পানি গড়ে উঠেছে। ব্যাংক মূলধন সরবরাহ ও সঞ্চয় সৃষ্টিতে এবং বিমা ব্যবসায়িক ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করছে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিবেশকে গতিশীল করেছে।
৩. অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ও উন্নত জীবনধারা: জনগণের আয় বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা এখন উন্নতমানের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ গ্রহণ করতে পারছে। উদ্দীপকে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, তাদের আয় বৃদ্ধির ফলে জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে এবং তারা আধুনিক শহরের মানুষের মতো উন্নত জীবন উপভোগ করছে।সুতরাং, উদ্দীপক অনুযায়ী শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক পরিবেশের অনুকূল উপাদানসমূহ (অর্থনৈতিক অবকাঠামো, মূলধন, ব্যাংক-বিমা সুবিধা ও কর্মসংস্থান) পঞ্চগড়ের মানুষের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধিতে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও