বাংলা ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৩
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরায় ঘটে যাওয়া রক্তাক্ত বিভীষিকা আজও আমায় স্তম্ভিত করে। দেয়। বিপন্ন মানবতার আর্তচিৎকারে ভারি হয়ে উঠে আকাশ-বাতাস। ফারাজ আইয়াজ হোসেন, এক প্রাণবন্ত যুবক। বিপদের মুখে বন্ধুদের ছেড়ে আসতে রাজি না হওয়ায় দুষ্কৃতিকারীদের হাতে প্রাণ হারায়। সে প্রকৃত বন্ধুত্বের দৃষ্টান্ত স্থাপন করে, বন্ধুত্বের জন্য জীবন উৎসর্গ করে। দৃঢ়তার সাথে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে ভালোবাসা ও সহানুভূতির মাধমে ভিন্ন ভিন্ন গোষ্ঠী, ধর্ম ও জাতীয়তার মানুষের মানবিকতাকে একসূত্রে গ্রথিত করেছে। ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে তার এই অসাধারণ চারিত্রিক দৃঢ়তা প্রদর্শন বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করেছে।
- ক)(1)
সুকান্ত ভট্টাচার্যের 'আঠারো বছর বয়স' কবিতাটি কোন ছন্দে রচিত?
- খ)(2)
"দুর্যোগে হাল ঠিকমতো রাখা ভার”—উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের আলোকে 'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় বর্ণিত 'এ বয়স জানে রক্তদানের পুণ্য' —উক্তিটির সাদৃশ তুলো ধর।
- ঘ)(4)
"এ দেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে”—কবির এ প্রত্যাশা উদ্দীপকের ফারাজ আইয়াজ কতটুকু পূরণ করেছে? তোমার মতামত ব্যক্ত কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সুকান্ত ভট্টাচার্যের 'আঠারো বছর বয়স' কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"দুর্যোগে হাল ঠিকমতো রাখা ভার"—উক্তিটি দিয়ে আঠারো বছর বয়সের চরম আবেগ, অস্থিরতা এবং সংকটময় মুহূর্তের বিপজ্জনক দিক নির্দেশ করা হয়েছে।
আঠারো বছর বয়স হচ্ছে কৈশোর থেকে তারুণ্যে পদার্পণের সন্ধিক্ষণ। এ বয়সে তীব্র আবেগ ও উচ্ছ্বাসের কারণে সঠিক পথ ও লক্ষ্য স্থির রাখা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। জীবনের নানা প্রতিকূলতা, ঝড়-ঝঞ্ঝা ও মোহের মুখে তরুণরা সহজেই বিভ্রান্ত হতে পারে। তাই কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে দুর্যোগপূর্ণ মুহূর্তে সংযত থেকে জীবনের সঠিক পথে চলা এই বয়সে অত্যন্ত কঠিন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ফারাজ আইয়াজ হোসেনের আত্মত্যাগে 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার 'এ বয়স জানে রক্তদানের পুণ্য' উক্তিটির নিখুঁত সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়।
'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য তুলে ধরেছেন যে তরুণরা অন্যায়ের কাছে মাথা নত করে না এবং দেশ, জাতি ও মানবতার কল্যাণে নিজের রক্ত বা জীবন বিসর্জন দিতে কুণ্ঠাবোধ করে না। মহৎ উদ্দেশ্য সাধনে নিঃস্বার্থভাবে প্রাণ দেওয়াই তারুণ্যের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
উদ্দীপকে দেখা যায়, গুলশানের হলি আর্টিজানে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়ে প্রাণবন্ত তরুণ ফারাজ আইয়াজ হোসেন নিজের জীবনের নিশ্চিত ঝুঁকি জেনেও বন্ধুদের একাকী ফেলে পালিয়ে আসেননি। তিনি বিপদের মুখে আত্মস্বার্থ ত্যাগ করে বন্ধুত্বের মর্যাদা রক্ষা করেছেন এবং অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করে হাসিমুখে নিজের প্রাণ উৎসর্গ করেছেন। তাঁর এই রক্তদান ও মহৎ আত্মত্যাগ কবিতার 'রক্তদানের পুণ্য'-এরই জীবন্ত প্রতিফলন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"এ দেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে"—কবির এই মহতী প্রত্যাশা উদ্দীপকের ফারাজ আইয়াজ হোসেন তাঁর অনন্য আত্মত্যাগ ও মানবিকতার মাধ্যমে শতভাগ পূরণ করেছেন বলে আমি মনে করি।
'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য চেয়েছিলেন এই দেশের জাতীয় জীবনে আঠারো বছরের তারুণ্যের তেজ, আত্মত্যাগ, নির্ভীকতা ও মানবিক মূল্যবোধ ছড়িয়ে পড়ুক। যে তারুণ্য অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়, সংকীর্ণ ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে ওঠে এবং অপরের জীবন বাঁচাতে নিজের জীবন বাজি রাখতে দ্বিধা করে না, সেই তেজস্বী চেতনাকেই কবি প্রত্যাশা করেছিলেন।
উদ্দীপকের ফারাজ আইয়াজ হোসেন এই তারুণ্যেরই এক অনন্য প্রতীক। হলি আর্টিজানের ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার মুখে তাঁর সামনে বাঁচার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি একা আত্মরক্ষা করেননি। বন্ধুদের প্রতি ভালোবাসা, ভিন্ন ভিন্ন গোষ্ঠী ও জাতীয়তার প্রতি গভীর মানবিক সহানুভূতি এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানের মাধ্যমে তিনি বন্ধুত্বের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাঁর এই নির্ভীকতা ও আত্মত্যাগ ব্যক্তিস্বার্থের গণ্ডি ছাড়িয়ে মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
অতএব, ফারাজ আইয়াজ হোসেন তাঁর সাহসিকতা, মানবিক বন্ধন ও চরম আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে প্রমাণ করেছেন কীভাবে আঠারোর ইতিবাচক ও বীরত্বপূর্ণ শক্তি সমাজ ও দেশকে পথ দেখাতে পারে। এভাবে তিনি কবির কাঙ্ক্ষিত প্রত্যাশাকে সার্থকভাবে বাস্তবায়ন করেছেন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও