বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৩

বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন

"রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দেবো। এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম"।

  1. ক)

    বক্তাবন্ধু কত সালে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন?

    (1)
  2. খ)

    অপারেশন সার্চলাইট বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের উক্তি বাংলাদেশের কোন মহান নেতার উক্তি? উক্তিটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের নির্দেশিত নেতার সপরিবারে নির্মম হত্যাকাণ্ড বাঙালি জাতির ইতিহাসে কলঙ্কিত অধ্যায়- বক্তব্যটির সাথে তুমি কি একমত? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন।

  2. খ)

    ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী পূর্ব পাকিস্তানের নিরস্ত্র মানুষের ওপর যে গণহত্যা শুরু করে, তার নাম অপারেশন সার্চলাইট। ১৮ মার্চ টিক্কা খান ও রাও ফরমান আলী এর পরিকল্পনা তৈরি করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণি ছিল প্রধান লক্ষ্য। এই রাত কালরাত্রি নামে পরিচিত।

  3. গ)

    উদ্দীপকের উক্তিটি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের, যা তাঁর ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ভাষণের অংশ।

    তাৎপর্য:
    ১. ‘রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দেবো’ উক্তিতে ভাষা আন্দোলন থেকে চলে আসা ত্যাগের ধারাবাহিকতা এবং ভবিষ্যৎ ত্যাগের প্রস্তুতি প্রকাশ পেয়েছে।
    ২. ‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ বলে তিনি স্বাধীনতার সংগ্রামের ডাক দেন।
    ৩. এ উক্তি জনগণকে মুক্তিযুদ্ধের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত ও ঐক্যবদ্ধ করে এবং সারা দেশে অসহযোগ আন্দোলনের ভিত্তি তৈরি করে।

  4. ঘ)

    হ্যাঁ, আমি এ বক্তব্যের সাথে একমত। উদ্দীপকের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকরা তাঁকে সপরিবারে হত্যা করে। এই ঘটনা বাঙালির ইতিহাসের কলঙ্কিত অধ্যায়। কারণ—

    ১. জাতির পিতাকে হত্যা: যে নেতা ছয় দফা, ৭ই মার্চের ভাষণ ও মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে জাতিকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন, স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে তাঁকেই স্ত্রী, পুত্র ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যসহ হত্যা করা হয়।
    ২. গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রব্যবস্থার ক্ষতি: হত্যাকাণ্ডের পর দেশে গণতান্ত্রিক ধারা ব্যাহত হয় এবং সামরিক শাসনের পথ খুলে যায়।
    ৩. বিচার ও ইতিহাস বিকৃতি: দীর্ঘদিন এ হত্যার বিচার হতে পারেনি এবং ইনডেমনিটি আইন করে বিচারের পথ বন্ধ করা হয়েছিল।

    সুতরাং, জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা বাঙালির জন্য নিঃসন্দেহে কলঙ্কজনক অধ্যায়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন