জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২২

জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

P অঙ্গাণু: প্রোটিন তৈরির কারখানা।Q অঙ্গাণু: আত্মঘাতী থলিকা।

  1. ক)

    কোষ কী?

    (1)
  2. খ)

    কোষের শক্তিঘর বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত 'P' অঙ্গাণুর গঠন বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত 'Q' অঙ্গাণুর গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোষ হলো জীবদেহের গঠন ও কাজের একক, যা স্বনির্ভর ও আত্মপ্রজননশীল, বৈষম্যভেদ্য পর্দা দিয়ে পরিবেষ্টিত এবং অন্য কোনো সজীব মাধ্যম ছাড়াই নিজের অনুরূপ সৃষ্টি করতে পারে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোষের শক্তিঘর বা পাওয়ার হাউস বলতে মাইটোকন্ড্রিয়াকে বোঝায়।

    জীবের যাবতীয় জৈবনিক কাজের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি শ্বসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উৎপন্ন হয়। কোষীয় শ্বসনের গুরুত্বপূর্ণ ধাপসমূহ—যেমন ক্রেবস চক্র ও ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম—মাইটোকন্ড্রিয়ার ভেতরেই সম্পন্ন হয় এবং এখানেই সবচেয়ে বেশি পরিমাণ শক্তি (ATP) উৎপন্ন ও সঞ্চিত থাকে। এ কারণে মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের শক্তিঘর বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত 'P' অঙ্গাণুটি হলো রাইবোসোম, কারণ রাইবোসোমকে কোষের প্রোটিন তৈরির কারখানা বলা হয়।

    রাইবোসোমের গঠন নিচে বর্ণনা করা হলো:
    ১. ভৌত গঠন:

    • রাইবোসোম মূলত দ্বি-এককবিশিষ্ট অঙ্গাণু। প্রতিটি রাইবোসোম একটি বড় এবং একটি ছোট—এই দুটি সাব-ইউনিট নিয়ে গঠিত। যেমন: প্রোক্যারিওটিক কোষে ৭০S রাইবোসোম (৫০S ও ৩০S সাব-ইউনিট) এবং ইউক্যারিওটিক কোষে ৮০S রাইবোসোম (৬০S ও ৪০S সাব-ইউনিট) থাকে। প্রোটিন সংশ্লেষণের সময় এই সাব-ইউনিট দুটি একত্রিত হয়।
    • এটি কোনো আবরণী বা মেমব্রেন দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকে না।
    • এতে mRNA সংযুক্তি স্থান এবং প্রোটিন তৈরির জন্য তিনটি কার্যকরী স্থান থাকে: অ্যামিনোঅ্যাসাইল বা A-সাইট, পেপটিডাইল বা P-সাইট এবং এক্সিট বা E-সাইট।

    ২. রাসায়নিক গঠন:

    • রাইবোসোম মূলত রাইবোসোমাল আরএনএ (rRNA) এবং প্রোটিন দ্বারা গঠিত। এর শুষ্ক ওজনের প্রায় ৬০% rRNA এবং ৪০% প্রোটিন। এতে অল্প পরিমাণে বিভিন্ন ধাতব আয়ন (যেমন: Mg²⁺, Ca²⁺) উপস্থিত থাকে।
  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত 'Q' অঙ্গাণুটি হলো লাইসোজোম। জীবদেহে লাইসোজোমের গুরুত্ব অপরিসীম, যা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. ফ্যাগোসাইটোসিস ও প্রতিরক্ষা: লাইসোজোম ফ্যাগোসাইটোসিস পদ্ধতিতে দেহে প্রবেশকারী ক্ষতিকর জীবাণু ও বহিরাগত বস্তুকে ধ্বংস করে দেহকে রোগাক্রমণ থেকে রক্ষা করে।

    ২. অন্তঃকোষীয় পরিপাক: লাইসোজোমে প্রায় ৪০-৫০ ধরনের তীব্র আর্দ্র-বিশ্লেষক বা হাইড্রোলাইটিক এনজাইম থাকে। কোষের ভেতরে খাদ্য পরিপাকে এসব এনজাইম সহায়তা করে।

    ৩. অটোফ্যাগি বা স্বভক্ষণ: তীব্র খাদ্যভাব বা পুষ্টির অভাব দেখা দিলে লাইসোজোমের এনজাইমগুলো কোষের অভ্যন্তরীণ অপ্রয়োজনীয় বা পুরনো অঙ্গাণুগুলোকে পরিপাক করে কোষকে বাঁচিয়ে রাখতে সহায়তা করে।

    ৪. অটোলাইসিস ও কোষীয় নিয়ন্ত্রণ: তীব্র প্রতিকূলতা, বার্ধক্য বা ক্ষতিকর অবস্থায় লাইসোজোমের আবরণ ফেটে গিয়ে ভেতরের এনজাইম উন্মুক্ত হয় এবং সমগ্র কোষটিকে ধ্বংস করে ফেলে (অটোলাইসিস)। এ কারণে একে 'আত্মঘাতী থলিকা' বলা হয়। ব্যাঙাচির রূপান্তরের সময় লেজ বিলুপ্তিতে এবং ভ্রূণীয় বিকাশে অপ্রয়োজনীয় কোষ অপসারণে এটি মুখ্য ভূমিকা রাখে।

    ৫. শুক্রাণুর ডিম্বাণু প্রবেশ: শুক্রাণুর অ্যাক্রোসোমে অবস্থিত লাইসোজোম বিশেষ এনজাইম ক্ষরণ করে ডিম্বাণুর প্রাচীর গলিয়ে নিষেকে সহায়তা করে।

    অতএব, কোষের প্রতিরক্ষা, পুষ্টিসাধন এবং স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় ভারসাম্য রক্ষায় লাইসোজোমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন