পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২২
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
X প্রদেশের জনগণ স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের জন্য আন্দোলন করছে। এ আন্দোলন দমনের জন্য X প্রদেশকে এমনভাবে ভাগ করা হয় যাতে দুটি সম্প্রদায় পরস্পরের বিরুদ্ধে স্বার্থের সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে এর মধ্যে একটি সম্প্রদায় তাদের আন্দোলন সুসংঘটিত করার জন্য একটি রাজনৈতিক দল গঠন করে।
- ক)(1)
সিপাহী বিদ্রোহ সংঘটিত হয় কত সালে?
- খ)(2)
"ভাগ কর শাসন কর" নীতি বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনার সাথে ব্রিটিশ ভারতের কোন ঐতিহাসিক ঘটনার মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের অনুরূপ একটি রাজনৈতিক দল ব্রিটিশ ভারতের মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষার জন্য ভূমিকা পালন করেছে -বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সিপাহী বিদ্রোহ ১৮৫৭ সালে সংঘটিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"ভাগ কর ও শাসন কর" (Divide and Rule) নীতি বলতে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসকদের অনুসৃত সেই কৌশলকে বোঝায়, যার মাধ্যমে তারা শাসিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে ধর্মীয়, আঞ্চলিক বা জাতিগত বিভেদ ও সংঘাত সৃষ্টি করে নিজেদের শাসন ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী ও সুদৃঢ় করত। এর মূল লক্ষ্য ছিল জনগণের ঐক্য বিনষ্ট করে সাম্রাজ্যবাদী কর্তৃত্ব বজায় রাখা।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনার সাথে ব্রিটিশ ভারতের ১৯০৫ সালের ঐতিহাসিক 'বঙ্গভঙ্গ' (Partition of Bengal) ঘটনার মিল রয়েছে।
ব্রিটিশ শাসনামলে অবিভক্ত বাংলা প্রদেশ ছিল জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। লর্ড কার্জন প্রশাসনিক সুবিধার অজুহাত দিলেও মূলত বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনকে নস্যাৎ করার লক্ষ্যে বাংলাকে হিন্দু ও মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দুটি ভাগে বিভক্ত করার সিদ্ধান্ত নেন। উদ্দীপকে X প্রদেশকে এমনভাবে বিভক্ত করার কথা বলা হয়েছে যাতে দুটি সম্প্রদায় পরস্পরের বিরুদ্ধে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে, যা বঙ্গভঙ্গের মাধ্যমে হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে কৃত্রিম বিভেদ সৃষ্টির ব্রিটিশ কৌশলের সাথে হুবহু মিলে যায়। সুতরাং, উদ্দীপকের ঘটনাটি ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গকেই নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের অনুরূপ রাজনৈতিক দলটি হলো ১৯০৬ সালে গঠিত 'নিখিল ভারত মুসলিম লীগ', যা ব্রিটিশ ভারতের মুসলমানদের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
বঙ্গভঙ্গের (১৯০৫) পটভূমিতে ব্রিটিশ ভারতে হিন্দু সম্প্রদায়ের তীব্র বিরোধিতার মুখে মুসলিম নেতৃবৃন্দ উপলব্ধি করেন যে, মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষার জন্য একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক সংগঠন অপরিহার্য। এর ফলশ্রুতিতে ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকায় নওয়াব সলিমুল্লাহর উদ্যোগে 'নিখিল ভারত মুসলিম লীগ' প্রতিষ্ঠিত হয়।
মুসলিম লীগ মুসলমানদের রাজনৈতিক স্বার্থ সংরক্ষণ, পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থার দাবি উত্থাপন ও তা ১৯০৯ সালের মর্লে-মিন্টো সংস্কারে অন্তর্ভুক্তকরণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। এ দলটির নেতৃত্বেই পরবর্তীতে মুসলমানদের স্বতন্ত্র জাতীয়তাবোধের ভিত্তিতে লাহোর প্রস্তাব (১৯৪০) গৃহীত হয় এবং ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান নামক পৃথক স্বাধীন রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে।
সুতরাং, ব্রিটিশ ভারতে মুসলিম জনগোষ্ঠীর স্বার্থরক্ষা ও তাদের স্বাধিকার অর্জনে মুসলিম লীগের ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক ও অনন্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও