পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২২
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
মুসলিম লীগ কত সালে গঠিত হয়?
- খ)(2)
প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত স্থানে ব্রিটিশ ভারতের কোন আইনের কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উক্ত আইন ভারতবাসীরা কেন প্রত্যাখ্যান করেছিল? বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুসলিম লীগ ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর গঠিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন বলতে কেন্দ্র বা বহিঃশক্তির হস্তক্ষেপ ব্যতিরেকে সংবিধানের আওতায় প্রদেশের বিষয়াবলি পরিচালনায় প্রাদেশিক সরকারের পূর্ণ স্বাধীনতা ও কর্তৃত্বকে বোঝায়।
যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার ব্যবস্থায় সংবিধানের মাধ্যমে কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে ক্ষমতা বণ্টন করা হয়। প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের মূলকথা হলো—প্রাদেশিক তালিকায় থাকা বিষয়গুলোতে স্থানীয় নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা পরিচালিত আইনসভা ও মন্ত্রিপরিষদ স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করবে এবং কেন্দ্রের কোনো প্রকার অনুচিত হস্তক্ষেপ থাকবে না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত স্থানে ব্রিটিশ ভারতের ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনের (মন্ট্যাগু-চেমসফোর্ড সংস্কার আইন) কথা বলা হয়েছে।
উদ্দীপকের বৈশিষ্ট্যাবলিতে লক্ষ্য করা যায়—কেন্দ্রে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা (রাষ্ট্রীয় পরিষদ ও ব্যবস্থাপক সভা) প্রবর্তন, প্রদেশে দ্বৈত শাসন প্রবর্তন, যুক্তরাজ্যে ভারতীয় হাইকমিশনারের পদ সৃষ্টি এবং ভারত সচিবের ক্ষমতা সংক্রান্ত বিধান। এই বৈশিষ্ট্যগুলো সুনির্দিষ্টভাবে ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনের মূল বিধানাবলিকে নির্দেশ করে।
ব্রিটিশ সরকার ১৯১৯ সালে ভারত শাসন আইন পাস করে। এই আইনের মাধ্যমে কেন্দ্রে উচ্চকক্ষ হিসেবে রাষ্ট্রীয় পরিষদ (Council of State) এবং নিম্নকক্ষ হিসেবে ব্যবস্থাপক সভা (Legislative Assembly) গঠিত হয়। প্রদেশগুলোতে হস্তান্তরিত ও সংরক্ষিত—এ দুই ভাগে বিষয় ভাগ করে দ্বৈত শাসন (Dyarchy) চালু করা হয়। এছাড়া ভারতীয় বাণিজ্য ও আনুষঙ্গিক বিষয়াদি তদারকির জন্য লন্ডনে একজন ভারতীয় হাইকমিশনার নিয়োগের ব্যবস্থা করা হয়। অতএব, উদ্দীপকে নির্দেশিত আইনটি হলো ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনে ভারতীয়দের স্বশাসন ও দায়িত্বশীল সরকারের দাবি পূরণ না হওয়ায় এবং এতে নানা অসঙ্গতি ও ত্রুটি থাকায় ভারতীয়রা এটি প্রত্যাখ্যান করেছিল।
ভারতীয়দের এই আইন প্রত্যাখ্যানের প্রধান কারণগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. ত্রুটিপূর্ণ দ্বৈত শাসন: প্রদেশে ক্ষমতাকে 'সংরক্ষিত' ও 'হস্তান্তরিত'—এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছিল। অর্থ, পুলিশ, বিচার ও রাজস্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও ফলপ্রসূ বিষয়গুলো গভর্নরের সংরক্ষিত তালিকায় ছিল, আর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের মতো অর্থহীন ও কম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নির্বাচিত ভারতীয় মন্ত্রীদের ওপর ন্যস্ত ছিল। অর্থ ছাড়া মন্ত্রীদের পক্ষে কার্যকর কোনো কাজ করা সম্ভব ছিল না।
২. গভর্নরের একচ্ছত্র ক্ষমতা: প্রাদেশিক গভর্নর এবং কেন্দ্রীয় গভর্নর জেনারেলের হাতে ভেটো ক্ষমতা ও বিশেষ ক্ষমতা রাখা হয়েছিল, যার ফলে নির্বাচিত মন্ত্রিপরিষদ কার্যত ক্ষমতাহীন পুতুলে পরিণত হয়।
৩. সীমিত ভোটাধিকার: এই আইনের অধীনে সার্বজনীন ভোটাধিকার দেওয়া হয়নি; বরং সম্পত্তি, শিক্ষা ও করের ভিত্তিতে জনসংখ্যার মাত্র ৩ শতাংশের মতো মানুষ ভোটাধিকার পেয়েছিল।
৪. সাম্প্রদায়িক বিভাজন বৃদ্ধি: স্বতন্ত্র নির্বাচন ব্যবস্থা বজায় রেখে ধর্মীয় বিভাজন আরও তীব্র করা হয়।
৫. দায়িত্বশীল সরকারের অনুপস্থিতি: কেন্দ্রে কোনো দায়িত্বশীল সরকার গঠিত হয়নি এবং কেন্দ্রীয় আইনসভার সিদ্ধান্ত গভর্নর জেনারেলের ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল ছিল।
উপরিউক্ত সীমাবদ্ধতা ও ব্রিটিশদের ঔপনিবেশিক নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত রাখার চক্রান্ত স্পষ্টভাবে ধরা পড়ায় ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ও মুসলিম লীগসহ প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দল ও ভারতবাসী ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইন সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও