যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২২
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন
আব্দুল লতিফ গ্রামের একজন কৃষক। তিনি একটি হত্যা মামলায় সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য জেলা জজ আদালতে গেলেন। আদালতের কাঠগড়ায় ওঠার পর বিজ্ঞ জজ সাহেব তাকে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করতে বললেন। জনাব আব্দুল লতিফ ঘটনাটি যেভাবে দেখেছিলেন সেভাবে উপস্থাপন করলেন। তার সাক্ষ্যের মাধ্যমে বিজ্ঞ জজ সাহেব প্রকৃত ঘটনা বুঝতে পারেন এবং আসামীদের মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন।
- ক)(1)
জাত্যর্থ কী?
- খ)(2)
বর্ণনায় কোনো পদের কোন কোন গুণের উল্লেখ করা হয় এবং কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে আব্দুল লতিফের সাক্ষ্য যুক্তিবিদ্যার কোন বিষয়টি প্রকাশ করে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়টির সাথে যৌক্তিক সংজ্ঞার কোন কোন ক্ষেত্রে বৈসাদৃশ্য লক্ষ করা যায়? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো পদের সাধারণ ও আবশ্যিক বা অপরিহার্য গুণ বা গুণ সমষ্টিকে সেই পদের জাত্যর্থ (Connotation) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বর্ণনায় কোনো পদের উপলক্ষণ বা অবান্তর লক্ষণের উল্লেখ করা হয়। কারণ, বর্ণনার মূল উদ্দেশ্য হলো কোনো পদকে তার নিজস্ব অনন্য গুণাবলি বা পারিপার্শ্বিক লক্ষণের মাধ্যমে অন্যান্য পদ থেকে পৃথক করে চেনা বা পরিচয় করিয়ে দেওয়া। এতে পদের মৌলিক ও আবশ্যিক গুণের (জাত্যর্থ) উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক নয়; বরং বিশেষ গুণ ও বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যের বিবরণ দিয়েই পদটিকে স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে আব্দুল লতিফের সাক্ষ্য যুক্তিবিদ্যার 'বর্ণনা' (Description) প্রত্যয়টিকে প্রকাশ করে।
যুক্তিবিদ্যায় কোনো পদকে যখন তার আসন্নতম জাতি ও বিভেদক লক্ষণ দ্বারা নির্দিষ্ট না করে, কেবল তার কোনো উপলক্ষণ বা অবান্তর লক্ষণের সাহায্যে প্রকাশ করা হয়, তখন তাকে বর্ণনা বলে। বর্ণনার ক্ষেত্রে কোনো বিষয় বা ঘটনার প্রত্যক্ষ বা বাহ্যিক রূপটি বিশদভাবে তুলে ধরা হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, কৃষক আব্দুল লতিফ হত্যা মামলায় সাক্ষ্য দিতে গিয়ে আদালতে ঘটনাটি যেভাবে নিজের চোখে দেখেছিলেন, হুবহু সেভাবেই আদালতে উপস্থাপন করেছেন। তিনি কোনো তাত্ত্বিক বা মৌলিক সংজ্ঞা দেননি, বরং ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন যার মাধ্যমে বিচারক প্রকৃত ঘটনা উপলব্ধি করতে পেরেছেন। এই ধরনের বিবরণমূলক উপস্থাপন যুক্তিবিদ্যার 'বর্ণনা'-এর স্বরূপকেই নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়টি হলো 'বর্ণনা'। যুক্তিবিদ্যায় 'বর্ণনা' ও 'যৌক্তিক সংজ্ঞা'-র মধ্যে বেশ কিছু ক্ষেত্রে স্পষ্ট বৈসাদৃশ্য বা পার্থক্য লক্ষ করা যায়:
১. গুণের প্রকাশ: যৌক্তিক সংজ্ঞায় কোনো পদের শুধুমাত্র আবশ্যিক ও সাধারণ গুণ অর্থাৎ জাত্যর্থের (আসন্নতম জাতি ও বিভেদক লক্ষণ) উল্লেখ করা হয়। পক্ষান্তরে, বর্ণনায় পদের উপলক্ষণ বা অবান্তর লক্ষণের উল্লেখ থাকে, জাত্যর্থ উল্লেখ নাও থাকতে পারে।
২. সুনির্দিষ্ট নিয়মাবলী: যৌক্তিক সংজ্ঞার ক্ষেত্রে পাঁচটি সুস্পষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হয়। কোনো নিয়ম লঙ্ঘন করলে সংজ্ঞা ভ্রান্ত বা অনুপপত্তিযুক্ত হয়। কিন্তু বর্ণনার ক্ষেত্রে এমন কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়মাবলী নেই।
৩. বিজ্ঞানসম্মত ও যথার্থতা: যৌক্তিক সংজ্ঞা সবসময় সুনির্দিষ্ট, বিজ্ঞানসম্মত ও যথার্থ হয়। কিন্তু বর্ণনা ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি বা অনুভূতির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় তা পরিবর্তনশীল, ব্যক্তিভেদে ভিন্ন এবং কম সুনির্দিষ্ট হতে পারে।
৪. প্রয়োগক্ষেত্র: কেবল যেসব পদের জাত্যর্থ রয়েছে (যেমন শ্রেণিবাচক বা জাতিবাচক পদ), তাদেরই যৌক্তিক সংজ্ঞা দেওয়া সম্ভব। একক ব্যক্তি বা বিশিষ্ট নামবাচক পদের সংজ্ঞা দেওয়া যায় না। কিন্তু যে কোনো ব্যক্তি, বস্তু বা ঘটনার ক্ষেত্রে সহজেই বর্ণনা দেওয়া যায়।
সুতরাং, প্রকৃতি, নিয়মাবলী এবং উদ্দেশ্যের দিক থেকে সংজ্ঞার তুলনায় বর্ণনা একটি শিথিল ও পৃথক প্রক্রিয়া।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও