জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
প্রজাতি কী?
- খ)(2)
ব্রায়োফাইটকে উভচর উদ্ভিদ বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের অণুজীবের বংশ বৃদ্ধির পদ্ধতিসমূহ লিখ।
- ঘ)(4)
জিন প্রকৌশলে উদ্দীপক চিত্রের 'S' এর ভূমিকা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একই বৈশিষ্ট্যযুক্ত একদল জীব যারা নিজেদের মধ্যে মিলনের মাধ্যমে উর্বর সন্তান উৎপাদনে সক্ষম কিন্তু অন্য দলের সদস্যদের সাথে প্রজননে অক্ষম, তাদের প্রজাতি (Species) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্রায়োফাইট জাতীয় উদ্ভিদ সাধারণত স্যাঁতসেঁতে স্থলজ পরিবেশে জন্মায় এবং এদের দেহ বৃদ্ধির জন্য স্থলজ পরিবেশের প্রয়োজন হয়। কিন্তু এদের যৌন জননের সময় শুক্রাণুর সক্রিয় চলন এবং নিষেক সম্পন্ন করার জন্য পানির উপস্থিতি অপরিহার্য। জীবনচক্র সম্পন্ন করতে স্থল ও জল উভয় মাধ্যমের প্রয়োজনীয়তার কারণে ব্রায়োফাইটকে উভচর উদ্ভিদ বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে প্রদর্শিত অণুজীবটি হলো একটি ব্যাকটেরিয়া। ব্যাকটেরিয়া প্রধানত তিনটি পদ্ধতিতে বংশবৃদ্ধি করে থাকে:
১. অযৌন জনন:
(ক) দ্বি-ভাজন (Binary Fission): এটি ব্যাকটেরিয়ার সবচেয়ে সাধারণ ও প্রধান বংশবৃদ্ধি প্রক্রিয়া। অনুকূল পরিবেশে ব্যাকটেরিয়ার মূল ডিএনএ প্রতিলিপিত হয় এবং মধ্যবর্তী স্থানে খাঁজ সৃষ্টি হয়ে একটি কোষ দুটি সমান অপত্য কোষে বিভক্ত হয়।
(খ) স্পোর বা রেনু উৎপাদন: প্রতিকূল পরিবেশে ব্যাকটেরিয়া এন্ডোস্পোর (অন্তঃরেণু), কনিডিয়া ইত্যাদির মাধ্যমে বংশরক্ষা বা সংখ্যাবৃদ্ধি করে থাকে।২. যৌন জনন বা জিনগত পুনর্বিন্যাস (Genetic Recombination):
প্রকৃত অর্থে ব্যাকটেরিয়ায় কোনো গ্যামেট সৃষ্টি বা নিষেক ঘটে না, তবে জিন স্থানান্তরের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি ও ভিন্নতা আসে:
(ক) কনজুগেশন (Conjugation): কনজুগেশন নালীর মাধ্যমে একটি ব্যাকটেরিয়ার প্লাজমিড বা ডিএনএ অপর ব্যাকটেরিয়ায় প্রবেশ করে।
(খ) ট্রান্সফরমেশন (Transformation): একটি ব্যাকটেরিয়া পরিবেশ থেকে সরাসরি মুক্ত বহিরাগত ডিএনএ গ্রহণ করে।
(গ) ট্রান্সডাকশন (Transduction): ব্যাকটেরিওফাজের (ভাইরাস) মাধ্যমে এক ব্যাকটেরিয়ার জিন অন্য ব্যাকটেরিয়ায় স্থানান্তরিত হয়।৩. অঙ্গজ জনন:
কোনো কোনো ক্ষেত্রে মুকুলোদগম (Budding) বা খণ্ডায়নের মাধ্যমেও ব্যাকটেরিয়া বংশবৃদ্ধি করে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্রে প্রদর্শিত অণুজীবটি একটি ব্যাকটেরিয়া এবং এতে চিহ্নিত 'S' অংশটি হলো প্লাজমিড (Plasmid)। প্লাজমিড হলো ব্যাকটেরিয়ার ক্রোমোজোম-বহির্ভূত স্বপ্রজননক্ষম, দ্বিসূত্রক ও বৃত্তাকার ডিএনএ অণু। জিন প্রকৌশল বা রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ প্রযুক্তিতে প্লাজমিডের ভূমিকা অপরিসীম:
১. বাহক বা ভেক্টর হিসেবে কাজ: জিন প্রকৌশলে কাঙ্ক্ষিত জিনকে পোষক কোষে স্থানান্তরের জন্য সবচেয়ে উপযোগী ও বহুল ব্যবহৃত বাহক (Cloning vector) হিসেবে প্লাজমিড কাজ করে।
২. নির্দিষ্ট রেস্ট্রিকশন সাইটের উপস্থিতি: প্লাজমিডে এক বা একাধিক নির্দিষ্ট রেস্ট্রিকশন এনজাইম চেনার স্থান (Restriction site) থাকে, যেখানে নির্দিষ্ট এনজাইম প্রয়োগ করে প্লাজমিড ডিএনএ-কে সুনির্দিষ্টভাবে কাটা যায় এবং কাঙ্ক্ষিত ডিএনএ খণ্ডটি সেখানে যুক্ত করা যায়।
৩. লাইগেশন ও রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ তৈরি: রেস্ট্রিকশন এনজাইম দিয়ে কাটার পর ডিএনএ লাইগেজ এনজাইমের সাহায্যে প্লাজমিডের সাথে কাঙ্ক্ষিত জিন সংযুক্ত করে রিকম্বিনেন্ট প্লাজমিড তৈরি করা সম্ভব হয়।
৪. মার্কার জিনের উপস্থিতি: প্লাজমিডে সাধারণত অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জিন থাকে, যা রিকম্বিনেন্ট কোষ শনাক্তকরণ বা নির্বাচন (Selection) প্রক্রিয়ায় সহায়ক হয়।
৫. প্রতিলিপন ও কাঙ্ক্ষিত পণ্যের সংশ্লেষণ: প্লাজমিডের নিজস্ব অরিজিন অব রেপ্লিকেশন (ori site) থাকায় এটি ব্যাকটেরিয়ার ভেতরে স্বাধীনভাবে সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে। ফলে রিকম্বিনেন্ট প্লাজমিডের অনুলিপন সৃষ্টির মাধ্যমে অল্প সময়ে কাঙ্ক্ষিত জিনের অসংখ্য ক্লোন তৈরি হয় এবং কাঙ্ক্ষিত প্রোটিন (যেমন- ইনসুলিন, ইন্টারফেরন, ভ্যাকসিন ইত্যাদি) সংশ্লেষিত হয়।
সুতরাং, আধুনিক জিন প্রকৌশল ও জৈবপ্রযুক্তির সাফল্যের মূলে প্লাজমিড 'S'-এর ভূমিকা ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবে কাজ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও