বাংলা ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৪
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
হঠাৎ দেশে উঠল আওয়াজ 'হো হো'। চমকে সবাই তাকিয়ে দেখে সিপাহী বিদ্রোহ,আগুন হয়ে সারাটা দেশ ফেটে পড়ল রাগেছেলে বুড়ো জেগে উঠল নব্বই সন আগেএকশ বছর গোলামিতে সবাই তখন ক্ষিপ্ত বিদেশিদের রক্ত পেলে তবেই হবে তৃপ্ত।
- ক)(1)
কে চিরকালই ইংরেজদের বন্ধু?
- খ)(2)
"আসামির সে অধিকার থাকে নাকি?" কোন প্রসঙ্গে এ কথা বলা হয়েছে?
- গ)(3)
উদ্দীপকের যে দিকটি 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ তা ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
"উদ্দীপকে নির্দেশিত দেশপ্রেম ও সিরাজউদ্দৌলার দেশপ্রেম অভিন্ন হলেও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বই নির্মমতার দিকে ঠেলে দিয়েছে"-বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উমিচাঁদ চিরকালই ইংরেজদের বন্ধু।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উক্তিটি দ্বারা উমিচাঁদ নবাব সিরাজউদ্দৌলার দেওয়া নিরাপত্তা বা অধিকারের আশ্বাসের বিরুদ্ধে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
কলকাতা পুনর্দখলের পর নবাবের দরবারে উমিচাঁদের গুপ্তচরবৃত্তি ও বিশ্বাসঘাতকতা ধরা পড়ে। নবাব যখন তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন যে বিচারের আগে তাকে আসামির মতো বিবেচনা না করে সম্মান দেওয়া হচ্ছে, তখন উমিচাঁদ ব্যঙ্গ করে এ কথা বলে। অর্থাৎ, আসামি প্রমাণিত হলে স্বাভাবিকভাবেই তার আত্মপক্ষ সমর্থন বা সম্মানের অধিকার থাকে না—এই বাস্তবতার প্রতি ইঙ্গিত করে সে ক্ষোভ প্রকাশ করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বিদেশি ইংরেজ বেনিয়াদের শোষণের বিরুদ্ধে দেশবাসীর ক্ষোভ এবং রক্তক্ষয়ী বিদ্রোহের যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তা 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে নবাবের ইংরেজবিরোধী মনোভাব ও তাদের এদেশ থেকে বিতাড়িত করার আকাঙ্ক্ষার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে দেখা যায়, ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এদেশে ব্যবসা করতে এসে ক্রমে রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার করতে থাকে। নবাব সিরাজউদ্দৌলা ইংরেজদের এই উদ্ধত আচরণ, দুর্গ নির্মাণ এবং দেশের স্বাধীনতা হরণের অপচেষ্টা সহ্য করেননি। তিনি ইংরেজদের শাসন ও শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন এবং বাংলার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যুদ্ধ পরিচালনা করেছিলেন।
উদ্দীপকে ১৮৫৭ সালের ঐতিহাসিক সিপাহি বিদ্রোহের পটভূমিতে দেখানো হয়েছে কীভাবে শত বছরের গোলামির জিঞ্জির ভেঙে ইংরেজদের রক্তে দেশমাতৃকাকে শোধনের জন্য সাধারণ মানুষ জেগে উঠেছিল। উদ্দীপকের এই ইংরেজবিরোধী ক্রোধ এবং মাতৃভূমিকে পরাধীনতামুক্ত করার তীব্র স্পৃহা 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের সিরাজের ইংরেজবিরোধী সংগ্রামের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"উদ্দীপকে নির্দেশিত দেশপ্রেম ও সিরাজউদ্দৌলার দেশপ্রেম অভিন্ন হলেও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বই নির্মমতার দিকে ঠেলে দিয়েছে"—মন্তব্যটি যথার্থ।
সিরাজউদ্দৌলা ছিলেন বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার স্বাধীন নবাব এবং তাঁর অন্তরে ছিল নিখাদ দেশপ্রেম। তিনি ইংরেজদের আগ্রাসন থেকে দেশকে বাঁচাতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। উদ্দীপকেও দেশপ্রেমের একই রূপ দেখা যায়, যেখানে পরাধীনতার গ্লানি মোচনে শত বছরের শোষণের বিরুদ্ধে দেশবাসী জীবনপণ লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছিল। উভয় ক্ষেত্রেই লক্ষ্য এক—বিদেশি বেনিয়াদের হাত থেকে স্বদেশকে রক্ষা করা।
কিন্তু সিরাজউদ্দৌলার এই মহৎ দেশপ্রেম সফল পরিণতি পায়নি তাঁর দরবারের চরম অভ্যন্তরীণ কলহ, চক্রান্ত ও বিশ্বাসঘাতকতার কারণে। মীরজাফর, ঘসেটি বেগম, রায়দুর্লভ ও জগৎশেঠদের স্বার্থপরতা ও বিশ্বাসঘাতকতা সিরাজের সব প্রচেষ্টাকে নস্যাৎ করে দেয়। পলাশীর যুদ্ধে নিশ্চিত বিজয়ের মুখেও মীরজাফরের চক্রান্তে নবাবের পতন ঘটে এবং তাঁকে নৃশংসভাবে প্রাণ হারাতে হয়। দেশপ্রেম থাকা সত্ত্বেও অভ্যন্তরীণ বিভেদই সিরাজউদ্দৌলাকে এক মর্মান্তিক পরিণতির দিকে ঠেলে দেয়।
অতএব, উদ্দীপকের গণবিদ্রোহের মতো দেশপ্রেম সিরাজউদ্দৌলার মনে প্রজ্বলিত থাকলেও, গৃহশত্রু ও ষড়যন্ত্রকারীদের কুটিল দ্বন্দ্বের কারণেই তাঁর দেশরক্ষা আন্দোলন ব্যর্থ হয় এবং বাংলার স্বাধীনতা অস্তমিত হয়। তাই প্রদত্ত মন্তব্যটি যৌক্তিক ও যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও