বাংলা ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

দেশে মুক্তিযুদ্ধ চলছে। হাবু মিঞা দেশের স্বাধীনতা চাইলেও সাহসের অভাবে যুদ্ধে যোগদান করেনি। একদিন মধ্যরাতে একদল মুক্তিযোদ্ধা তার বাসায় এসে আশ্রয় নেয়। ভোর হওয়ার আগেই চলে যাওয়ার সময় ভুল করে জুতা বদল করে রেখে যায়। সেই জুতা জোড়া পরে বাজারে যাবার সময় হাবু মিঞা এক নতুন চেতনায় উদ্দীপ্ত হয়। সিদ্ধান্ত নেয় যুদ্ধে যোগদান করবে।

  1. ক)

    নুরুল হুদার সাথে মিন্টুর সম্পর্ক কী?

    (1)
  2. খ)

    "দেশে একটা কলেজে শহীদ মিনার আর অক্ষত নাই।"— কেন? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে 'রেইনকোট' গল্পের প্রতিফলিত দিকটি বর্ণনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের "হাবু মিঞা আর 'রেইনকোট' গল্পের নুরুল হুদার চেতনায় উদ্দীপ্ত হওয়া একই সূত্রে গাঁথা।"—মন্তব্যটির যথার্থতা যাচাই কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নুরুল হুদার সাথে মিন্টুর সম্পর্ক হলো মিন্টু তার শ্যালক (স্ত্রীর ছোট ভাই)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাঙালি জাতীয়তাবোধ ও ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে নিশ্চিহ্ন করার উদ্দেশ্যে কলেজের শহীদ মিনারগুলো গুঁড়িয়ে দিয়েছিল।

    আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের 'রেইনকোট' গল্পে বর্ণিত হয়েছে যে, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি দখলদার সেনাবাহিনী বাঙালির চেতনার প্রতীক শহীদ মিনারগুলোর ওপর তীব্র আক্রোশ প্রকাশ করে। তাদের চোখে শহীদ মিনার ছিল পাকিস্তানবিরোধিতা ও বাঙালি বিদ্রোহের মূল উৎস। সেই অন্ধ বিদ্বেষ থেকেই তারা ঢাকা শহরের পাশাপাশি দেশের প্রায় প্রতিটি কলেজের শহীদ মিনার কামানের গোলা বা ডিনামাইট দিয়ে ধ্বংস করে দিয়েছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'রেইনকোট' গল্পের মুক্তিযোদ্ধাদের সংস্পর্শে এসে সাধারণ মানুষের ভেতর দেশপ্রেম ও সাহসিকতার রূপান্তরের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।

    'রেইনকোট' গল্পে দেখা যায়, কলেজের রসায়নের শিক্ষক নুরুল হুদা ছিলেন অত্যন্ত ভীতু স্বভাবের এবং সবসময় মিলিটারিদের ভয়ে তটস্থ থাকতেন। কিন্তু যখন তিনি মুক্তিযোদ্ধা শ্যালক মিন্টুর ফেলে যাওয়া রেইনকোটটি গায়ে জড়ান, তখন তাঁর ভেতর এক অভাবনীয় দেশপ্রেম ও মানসিক সাহসের সঞ্চার ঘটে। পাকিস্তানি বাহিনীর নির্মম নির্যাতনের মুখেও তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের গোপন তথ্য প্রকাশ করেননি, বরং নিজেকে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের একাত্ম একজন সঙ্গী হিসেবে অনুভব করেছিলেন।

    উদ্দীপকের হাবু মিঞাও দেশের স্বাধীনতা চেয়েও ভীরুতার কারণে যুদ্ধে অংশ নিতে পারেনি। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের ফেলে যাওয়া জুতা পায়ে দিয়ে তার ভেতরেও এক নতুন চেতনা ও সাহসের জাগরণ ঘটে এবং সে মুক্তিযুদ্ধে যোগদানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। সুতরাং, মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিবিজড়িত বস্তুর মাধ্যমে সাধারণ কাপুরুষ মানুষের মধ্যে দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হওয়ার দিকটিই উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "উদ্দীপকের হাবু মিঞা আর 'রেইনকোট' গল্পের নুরুল হুদার চেতনায় উদ্দীপ্ত হওয়া একই সূত্রে গাঁথা"—মন্তব্যটি যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত।

    'রেইনকোট' গল্পের মূল চরিত্র নুরুল হুদা পরিবার-পরিজন নিয়ে নিরাপদে বেঁচে থাকার চিন্তায় সবসময় ভীতসন্ত্রস্ত থাকতেন। মিলিটারির হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার কোনো উপায় তিনি খুঁজে পেতেন না। কিন্তু প্রিন্সিপালের তলবে কলেজে যাওয়ার সময় তিনি মুক্তিযোদ্ধা মিন্টুর রেখে যাওয়া রেইনকোটটি পরিধান করেন। সেই রেইনকোটটি গায়ে দেওয়ার পরই তাঁর ভেতরে এক অলৌকিক পরিবর্তন আসে; রেইনকোটের উষ্ণতা যেন মুক্তিযোদ্ধাদের উষ্ণ সাহস ও দেশপ্রেমে রূপান্তরিত হয়। ফলে মিলিটারির হাতে ধরা পড়ে অকথ্য নির্যাতনের শিকার হয়েও তিনি আত্মমর্যাদাবোধ ও স্বাধীনতার প্রত্যয়ে অবিচল থাকেন।

    উদ্দীপকের হাবু মিঞাও একইভাবে দেশের স্বাধীনতা চাইলেও সাহসের অভাবে সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নিতে পারেনি। তবে তার ঘরে আশ্রয় নেওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের ভুলবশত রেখে যাওয়া জুতা জোড়া পায়ে গলিয়ে বাজারে যাওয়ার পথে তার ভেতরে ঘুমন্ত দেশপ্রেম ও সাহসের তীব্র স্ফুরণ ঘটে। সে আর ঘরে বসে না থেকে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার বলিষ্ঠ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

    উভয় চরিত্রেই সাধারণ ও ভীরু মনের মানুষের রূপান্তর ঘটেছে মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিচিহ্ন বা ব্যবহৃত পোশাক-আশাকের (জুতা ও রেইনকোট) স্পর্শে। এই বাহ্যিক বস্তুটি তাদের ভেতর স্বাধীনতা ও দেশপ্রেমের সুপ্ত চেতনাকে জাগ্রত করেছে এবং তাদের নির্ভীক হতে অনুপ্রাণিত করেছে। অতএব, চেতনায় উদ্দীপ্ত হওয়ার এই মনস্তাত্ত্বিক রূপান্তরটি একই ভাবধারায় রচিত হওয়ায় মন্তব্যটি পুরোপুরি সংগত ও যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন