যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৭
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন
করিম স্যার শ্রেণিকক্ষে বলেন, বস্তুর মিল ও অমিল লক্ষ করে বস্তুদের বিভাজন করা যায়। আবার অনেক সময় প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভর করতে হয়। এ প্রসঙ্গে একজন ছাত্রী বলল, তথ্যপ্রযুক্তির যুগে মানুষ আর প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে বস্তুর বিভাজন করছে না।
- ক)(1)
শ্রেণিকরণ কত প্রকার?
- খ)(2)
শ্রেণিকরণকে কেন মানসিক প্রক্রিয়া বলা হয়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত করিম স্যারের বক্তব্য কোন শ্রেণিকরণের নির্দেশ করে?
- ঘ)(4)
স্যার ও ছাত্রীর বক্তব্যে উল্লিখিত শ্রেণিকরণ দুটির মধ্যে পার্থক্য দেখাও?
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শ্রেণিকরণ প্রধানত দুই প্রকার: ১. প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণ এবং ২. কৃত্রিম শ্রেণিকরণ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শ্রেণিকরণ কোনো বাহ্যিক যান্ত্রিক বিভাজন নয়; এটি মানুষের মনের মধ্যে বিভিন্ন বস্তু বা বিষয়ের মধ্যকার মিল-অমিল এবং গুরুত্বপূর্ণ সাদৃশ্য-বৈসাদৃশ্য পর্যালোচনা করে তাদের একটি মানসিক কাঠামোতে সাজানোর প্রক্রিয়া। যেহেতু বিভিন্ন বস্তু বা বিষয়কে উদ্দেশ্য অনুযায়ী সুশৃঙ্খলভাবে মনে মনে সন্নিবেশিত ও বিন্যস্ত করা হয়, তাই শ্রেণিকরণকে মানসিক প্রক্রিয়া বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত করিম স্যারের বক্তব্য 'প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণ' (Natural Classification)-কে নির্দেশ করে।
কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনের পরিবর্তে বস্তুর মধ্যকার মৌলিক, গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভর করে যে শ্রেণিকরণ করা হয়, তাকে প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণ বলে। এ পদ্ধতিতে বস্তুর অন্তর্নিহিত অপরিহার্য সাদৃশ্যের ওপর জোর দেওয়া হয়।
উদ্দীপকে করিম স্যার বলেছেন, "বস্তুর মিল ও অমিল লক্ষ করে বস্তুদের বিভাজন করা যায়। আবার অনেক সময় প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভর করতে হয়।" তাঁর এই বক্তব্য প্রাকৃতিক নিয়ম ও গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে শ্রেণিকরণ নির্দেশ করায় এটি প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণের পরিচায়ক।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে করিম স্যারের বক্তব্যে 'প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণ' এবং ছাত্রীর বক্তব্যে কৃত্রিম বা 'ব্যবহারিক শ্রেণিকরণ'-এর ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। নিম্নে এদের পার্থক্য তুলে ধরা হলো:
১. উদ্দেশ্যের ভিন্নতা: প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণ কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিগত লাভের জন্য নয়, বরং জ্ঞান অর্জন ও বস্তুর প্রকৃতি জানার উদ্দেশ্যে করা হয়। অন্যদিকে, কৃত্রিম শ্রেণিকরণ মানুষের দৈনন্দিন কোনো বিশেষ বা ব্যবহারিক উদ্দেশ্য সাধনের জন্য করা হয় (যেমন তথ্যপ্রযুক্তির সুবিধা অনুযায়ী বিন্যাস)।
২. বৈশিষ্ট্যের গুরুত্ব: প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণে বস্তুর মৌলিক, গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করা হয়। কিন্তু কৃত্রিম শ্রেণিকরণে বাহ্যিক, আকস্মিক বা কম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভর করা হয়।
৩. স্থায়িত্ব ও সর্বজনীনতা: প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণ বিজ্ঞানের নিয়মের ওপর প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় এটি অপেক্ষাকৃত স্থায়ী ও সর্বজনীন। অপরপক্ষে, মানুষের প্রয়োজন পরিবর্তনের সাথে সাথে কৃত্রিম শ্রেণিকরণ পরিবর্তিত হতে পারে।
৪. জ্ঞানের বিস্তার: প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণ বস্তুর বহুবিধ অজানা গুণ প্রকাশে সাহায্য করে বিজ্ঞানের জ্ঞান বৃদ্ধি করে। কিন্তু কৃত্রিম শ্রেণিকরণ কেবল নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য হাসিলের বাইরে কোনো গভীর বৈজ্ঞানিক জ্ঞান প্রদান করে না।
অতএব, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর বক্তব্য যুক্তিবিদ্যার দুই বিপরীতমুখী শ্রেণিকরণ ধারা—প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম শ্রেণিকরণের সুস্পষ্ট বৈসাদৃশ্যকে উন্মোচিত করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও