ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৭

ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন

তালিকাভুক্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সীমাহীন ঋণ দেয়ার কারণে দেশে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক-এ তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোকে এখন ১% বেশি আমানতী টাকা জমা দিতে হচ্ছে। আর্থিক স্বচ্ছল বড় ব্যাংকগুলোর অনেকেই এটি মানতে নারাজ। বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিকাশ ঘর সুবিধাবঞ্চিত হওয়ার ভয়ে সকল তালিকাভুক্ত ব্যাংকই তা মানতে বাধ্য হচ্ছে।

  1. ক)

    ব্যাংক হার নীতি কী?

    (1)
  2. খ)

    ঋণদানের শেষ আশ্রয়স্থল বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে ঋণ নিয়ন্ত্রণের কোন পদ্ধতির কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    তালিকাভুক্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর নিকাশ ঘর সুবিধা না পাওয়ার এত ভয় কেন? উদ্দীপকের আলোকে তা ব্যাখ্যা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে সুদের হারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ঋণ দেয় বা তাদের প্রথম শ্রেণির বিল বাট্টাকরণ করে, তাকে ব্যাংক হার নীতি বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো তীব্র আর্থিক সংকটে পড়ে যখন অন্য কোনো উৎস থেকে তহবিল সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয়, তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের ঋণ দিয়ে দেউলিয়া হওয়া থেকে রক্ষা করে; এজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ঋণদানের শেষ আশ্রয়স্থল বলা হয়।

    তালিকাবদ্ধ ব্যাংকগুলোর তারল্য সংকট বা আকস্মিক আর্থিক বিপর্যয় দেখা দিলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক উপযুক্ত জামানতের বিপরীতে ঋণ প্রদান করে কিংবা বিল পুনঃবাট্টাকরণ করে তাদেরকে আর্থিক বিপর্যয় ও ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক ঋণ নিয়ন্ত্রণের সাধারণ বা পরিমাণগত পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত 'জমার হার পরিবর্তন নীতি' (বা সংবিধিবদ্ধ নগদ জমা সংরক্ষণের অনুপাত পরিবর্তন)-র কথা বলা হয়েছে।

    বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে তাদের মোট তলবি ও মেয়াদি আমানতের একটি নির্দিষ্ট অংশ বাধ্যতামূলকভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে নগদ বা তরল হিসেবে জমা রাখতে হয়। দেশে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই জমার হার বাড়িয়ে দেয়। ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণদান ক্ষমতা হ্রাস পায় এবং বাজারে ঋণের প্রবাহ কমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, তালিকাভুক্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাত্রাতিরিক্ত ঋণ প্রদানের কারণে দেশে মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর বাধ্যতামূলক আমানতের জমার পরিমাণ ১% বৃদ্ধি করেছে। এটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রচলিত 'জমার হার পরিবর্তন নীতি' পদ্ধতির সুস্পষ্ট প্রতিফলন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নিকাশ ঘর সুবিধার মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহ পারস্পরিক আন্তঃব্যাংক দেনা-পাওনা অতি সহজে ও কম খরচে নিষ্পত্তি করতে পারে; এ সুবিধা বন্ধ হয়ে গেলে ব্যাংকগুলোর দৈনন্দিন লেনদেন পরিচালনা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে বিধায় তারা এ সুবিধা হারানোর ভয় পায়।

    নিকাশ ঘর হলো এমন একটি স্থান বা ব্যবস্থা, যেখানে সদস্য ব্যাংকগুলো প্রতিদিন একত্রিত হয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে নিজেদের মধ্যকার পারস্পরিক চেক, ড্রাফট ও অন্যান্য বিনিময় বিলের দেনা-পাওনা নগদ অর্থ স্থানান্তর ছাড়াই হিসাব সমন্বয়ের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করে। নিকাশ ঘরের অনুপস্থিতিতে প্রতিটি ব্যাংকের পারস্পরিক দেনা-পাওনা নগদে নিষ্পত্তি করতে বিপুল সময়, খরচ ও মারাত্মক আর্থিক ঝুঁকির সৃষ্টি হয়। এছাড়া নিকাশ ঘরের সদস্যপদ হারানো কোনো ব্যাংকের সুনাম ও গ্রাহক আস্থার ওপর চরম নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং ব্যাংকটি দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে।

    উদ্দীপকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জমার হার ১% বৃদ্ধি করায় বড় ব্যাংকগুলো তা শুরুতে মানতে অনিচ্ছুক ছিল। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিকাশ ঘর থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার আশঙ্কায় তারা বাধ্য হয়ে তা মেনে নেয়। কারণ নিকাশ ঘর সুবিধা বঞ্চিত হলে আন্তঃব্যাংক লেনদেন অচল হয়ে পড়বে এবং তাদের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে। তাই বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিকাশ ঘর সুবিধা হারানোর এত ভয় পায়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন