হিন্দু ধর্ম • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৯
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
সুমিত চক্রবর্তী পিতার মৃত্যুর পর দশদিন যাবৎ এক বিশেষ ধরনের অন্ন ও ফলফলাদি খেয়ে জীবনধারণ করেছে। এসময় সে কঠোর সংযম পালন করেছে। কিন্তু তারই বন্ধু অবিনাশ সাহা মাতার মৃত্যুর পর পনের দিন যাবৎ বিশেষ ধরনের অন্ন ও ফলফলাদি খেয়ে জীবনধারণ করেছে। অবশ্য সেও এই দিনগুলোতে কটোর সংযম সাধন করেছে। একদিন বিষয়টি জানতে পেরে অবিনাশের শিক্ষক অমল বাবু বলেন, 'সুমিতের মতো তুমিও এই কাজটি দশ দিনেই করতে পারতে।' এরপর তিনি বিষয়টি তাকে বুঝিয়ে বলেন।
- ক)(1)
আদ্যশ্রাদ্ধ কাকে বলে?
- খ)(2)
শাস্ত্রে মৃতদেহের সৎকারের বিধান দেওয়া হয়েছে কেন? বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
সুমিত ও অবিনাশ কোন ধরনের অশৌচ পালন করেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
পাঠ্যের আলোকে শিক্ষক অমল বাবুর উক্তিটির যৌক্তিকতা মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর প্রথমে যে শ্রাদ্ধ করণীয়, তাকে আদ্যশ্রাদ্ধ বলে। অশৌচকাল শেষ হওয়ার পরদিন এটি অনুষ্ঠিত হয়।
- খ)
আত্মা দেহ থেকে বেরিয়ে গেলে দেহ প্রাণহীন জড় পদার্থে পরিণত হয় এবং ক্রমে পচে যায়। এই দেহ ভূপৃষ্ঠে পড়ে থাকলে ভীতির সঞ্চার হয় এবং পরিবেশ নষ্ট হয়। তাই শাস্ত্রে মৃতদেহের সৎকারের বিধান দেওয়া হয়েছে। এই সৎকারই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া। এর মাধ্যমে ধর্মীয় বিধি পালন, পরিবেশরক্ষা ও সামাজিক বন্ধন দৃঢ়করণ সবই হয়।
- গ)
সুমিত ও অবিনাশ মরণাশৌচ পালন করেছে।
অশৌচ দুই প্রকার: জননাশৌচ (কেউ জন্মগ্রহণ করলে যে অশৌচ হয়) এবং মরণাশৌচ (মৃত্যুর পরে যে অশৌচ হয়)। মাতা-পিতা বা জ্ঞাতিবর্গের মৃত্যুতে শোকে মন আচ্ছন্ন হয়, চিত্ত সাধন-ভজনের উপযোগী থাকে না। তাই এ সময় হবিষ্যান্ন বা ফলফলাদি খেয়ে কঠোর সংযম পালন করে শ্রাদ্ধ করার যোগ্যতা অর্জন করতে হয়।
উদ্দীপকে সুমিত পিতার মৃত্যুর পর দশদিন এবং অবিনাশ মাতার মৃত্যুর পর পনেরো দিন বিশেষ ধরনের অন্ন ও ফলফলাদি খেয়ে কঠোর সংযম পালন করেছে। এখানে উভয়ের ক্ষেত্রেই অশৌচের কারণ প্রিয়জনের মৃত্যু। সুতরাং তারা মরণাশৌচ পালন করেছে। এছাড়া বিধান অনুযায়ী সুমিত (চক্রবর্তী) ব্রাহ্মণ বর্ণের হিসেবে ১০ দিন এবং অবিনাশ (সাহা) বৈশ্য বর্ণের হিসেবে ১৫ দিন অশৌচ পালন করেছে।
- ঘ)
শিক্ষক অমল বাবুর উক্তি 'সুমিতের মতো তুমিও এই কাজটি দশ দিনেই করতে পারতে' পাঠ্যের আলোকে যথার্থ ও যৌক্তিক।
পাঠ্যবই অনুযায়ী অশৌচ পালনে প্রাচীন বিধানে বর্ণপ্রথার প্রভাব ছিল। ব্রাহ্মণের দশ দিন, ক্ষত্রিয়ের বারো দিন, বৈশ্যের পনেরো দিন ও শূদ্রের ত্রিশ দিন। সুমিত ব্রাহ্মণ হিসেবে দশ দিন, আর অবিনাশ বৈশ্য হিসেবে পনেরো দিন অশৌচ পালন করেছে। কিন্তু অমল বাবুর মতে অবিনাশও দশ দিনে তা করতে পারত। তাঁর এই বক্তব্যের পক্ষে যুক্তি নিচে দেওয়া হলো:
১. বর্ণবিভাগ জন্মগত নয়: শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, 'চাতুর্বর্ণ্যং ময়া সৃষ্টং গুণকর্মবিভাগশঃ'। অর্থাৎ গুণ ও কর্মের বিভাগ অনুসারে বর্ণ সৃষ্টি। জাতি বা বর্ণভেদ বংশগত নয়, গুণ ও কর্মগত।
২. শোক সবার সমান: মাতা-পিতার মৃত্যুতে সন্তানের শোক ও মানসিক প্রস্তুতির প্রয়োজন সকল বর্ণের জন্যই সমান। তাই দিনসংখ্যায় তারতম্য যৌক্তিক নয়।
৩. বর্তমান প্রচলন: বর্তমানে প্রায় সকল বর্ণের মানুষ দশ দিন অশৌচ পালন করে একাদশ বা ত্রয়োদশ দিবসে শ্রাদ্ধ করেন।
৪. ঐক্য ও সম্প্রীতি: সকল বর্ণের জন্য অভিন্ন বিধান হিন্দু সমাজের সামগ্রিক ঐক্য ও সম্প্রীতির জন্য প্রয়োজন।সুতরাং, অমল বাবুর উক্তি পাঠ্যবইয়ের বক্তব্যের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ এবং যুক্তিযুক্ত; অবিনাশও সুমিতের মতো দশ দিনেই অশৌচ পালন করতে পারত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও