পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • রাজনৈতিক দল, নেতৃত্ব ও সুশাসন • ঢাকা সিটি কলেজ • ঢাকা সিটি কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৩
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
হিরন, কিরন ও মিরন তিন ভাই। রাজনৈতিক আদর্শের ক্ষেত্রে তিন ভাইয়ের মধ্যে কিছুটা পার্থক্য বিদ্যমান। হিরন সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রের আদলে একদলীয় ব্যবস্থায় বিশ্বাসী, কিরন দ্বি-দলীয় ব্যবস্থায় বিশ্বাসী এবং মিরন বহুদলীয় ব্যবস্থায় বিশ্বাসী। তবে তারা তিনজনই একমত যে, সব ধরনের শাসনব্যবস্থাতেই রাজনৈতিক দলের গুরুত্ব অপরিসীম।
- ক)(1)
বাংলাদেশে কোন ধরনের দল ব্যবস্থা প্রচলিত আছে?
- খ)(2)
উপদল কী?
- গ)(3)
উদ্দীপকে তিন ভাই যে সংগঠনিক গুরুত্বের বিষয়ে একমত, তার সাথে স্বার্থবাদী গোষ্ঠীর পার্থক্য তুলে ধরো।
- ঘ)(4)
উক্ত সংগঠনটির ভূমিকা গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার প্রেক্ষিতে মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশে বহুদলীয় দলব্যবস্থা প্রচলিত আছে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উপদল (Faction) হলো কোনো রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠী, যারা দলের মূল আদর্শের আওতাভুক্ত থেকেও ব্যক্তিগত স্বার্থ, আঞ্চলিক প্রভাব বা নির্দিষ্ট নেতার প্রতি আনুগত্যের কারণে দলের ভেতরে আলাদা একটি বলয় বা উপ-দল গড়ে তোলে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে তিন ভাই 'রাজনৈতিক দল'-এর সাংগঠনিক গুরুত্বের বিষয়ে একমত পোষণ করেছে। রাজনৈতিক দল ও স্বার্থবাদী গোষ্ঠীর মধ্যকার মূল পার্থক্যগুলো নিচে দেওয়া হলো:
১. লক্ষ্যগত পার্থক্য: রাজনৈতিক দলের প্রধান লক্ষ্য হলো নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল ও সরকার গঠন করা। অন্যদিকে, স্বার্থবাদী বা চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর লক্ষ্য সরাসরি ক্ষমতা দখল নয়, বরং সরকারের নীতিকে প্রভাবিত করে নিজস্ব গোষ্ঠীর স্বার্থ হাসিল করা।
২. সদস্যপদ ও পরিধি: রাজনৈতিক দলের সদস্যপদ উন্মুক্ত এবং এর আদর্শ ও কর্মসূচি সমগ্র দেশ ও জাতির কল্যাণকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়। কিন্তু স্বার্থবাদী গোষ্ঠীর সদস্যপদ সাধারণত নির্দিষ্ট পেশা, শ্রেণি বা স্বার্থের মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।
৩. দায়বদ্ধতা: রাজনৈতিক দল জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করে বিধায় তারা সমগ্র জাতির কাছে দায়বদ্ধ থাকে। কিন্তু স্বার্থবাদী গোষ্ঠী কেবল তাদের নিজস্ব সংগঠনের সদস্যদের কাছে দায়বদ্ধ থাকে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত রাজনৈতিক দলটি গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে। নিম্নে এর ভূমিকা মূল্যায়ন করা হলো:
১. সরকার গঠন ও পরিচালনা: গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দল সরকার গঠন করে এবং নীতি নির্ধারণ ও দেশ পরিচালনায় নেতৃত্ব দেয়।
২. জনমত গঠন: রাজনৈতিক দলগুলো সভা-সমাবেশ, বক্তৃতা ও প্রচারণার মাধ্যমে রাজনৈতিক ও সামাজিক সমস্যাবলি জনগণের সামনে তুলে ধরে এবং জনমত গঠনে সহায়তা করে।
৩. বিরোধী দলের ভূমিকা পালন: নির্বাচনে পরাজিত দল সংসদে বিরোধী দল হিসেবে সরকারের ভুলত্রুটি ও অন্যায়ের গঠনমূলক সমালোচনা করে সরকারকে স্বৈরাচারী হওয়া থেকে বিরত রাখে।
৪. নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি: জনগণের মাঝে রাজনৈতিক শিক্ষা ও সচেতনতা ছড়িয়ে দিয়ে সক্রিয় নাগরিক তৈরিতে রাজনৈতিক দল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৫. সেতু হিসেবে কাজ: এটি সরকার ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগের মাধ্যম বা সেতু হিসেবে কাজ করে। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা সরকারের কাছে এবং সরকারের গৃহীত কর্মসূচি জনগণের কাছে পৌঁছে দেয়।
অতএব, রাজনৈতিক দল ছাড়া আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র কল্পনা করা অসম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও