হিন্দু ধর্ম • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৪
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
কমল বাবু পরিবারের সব কিছু দেখাশোনা করেন। সন্তানের খাওয়া-পরা, লেখাপড়া ও মা-বাবার ভরণপোষণের যাবতীয় খরচ বহন করেন। প্রতিদিন পাঁচটি যজ্ঞের অনুশীলন করেন। সমাজের অন্য সকল দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করেন। অন্যদিকে, সুবাস বাবু অনেক দিন হলো চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন। তিনি পরকালের কথা ভেবে বাড়ি থেকে বেরিয়ে মঠ, মন্দিরে রাত যাপন করেন। দুপুরের খাবার লোকালয় থেকে 'সংগ্রহ করেন। রাতে স্বল্প খাবার খান। সব সময় ঈশ্বর চিন্তায় বিভোর থাকেন।
- ক)(1)
ধারণা কাকে বলে?
- খ)(2)
দেহধারী জীবের পক্ষে সম্পূর্ণরূপে কর্ম ত্যাগ করা সম্ভব নয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
কমল বাবুর কার্যকলাপ মানব জীবনের কোন আশ্রমভুক্ত তা পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে সুবাস বাবুর কর্মের মাধ্যমে কি ঈশ্বর প্রাপ্তি সম্ভব? পক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
মনকে বিশেষ কোনো বিষয়ে স্থির করা বা আবদ্ধ রাখার নাম ধারণা। এটি অষ্টাঙ্গযোগের ষষ্ঠ ধাপ এবং এর অর্থ একাগ্রতা।
- খ)
কর্মই জীবন। দেহধারী জীবকে জীবনধারণের জন্য প্রতিনিয়ত কর্ম করতে হয়, তাই সম্পূর্ণ কর্মত্যাগ সম্ভব নয়। শ্রীকৃষ্ণ গীতায় বলেছেন, মোক্ষলাভের জন্য কর্মত্যাগের প্রয়োজন নেই। যাঁরা মুক্তির আশায় জাগতিক কর্ম ত্যাগ করেন, তাঁরাও অষ্টাঙ্গযোগ, শ্রবণ, মনন, আসন প্রভৃতি আধ্যাত্মিক কর্ম করতে থাকেন। তাই মুক্তিকামী সন্ন্যাসীও কর্মকে একেবারে পরিত্যাগ করতে পারেন না।
- গ)
পাঠ্যপুস্তকের আলোকে কমল বাবুর কার্যকলাপ মানবজীবনের গার্হস্থ্য আশ্রমভুক্ত।
ধারণা : হিন্দুধর্মে শতবর্ষের জীবনকে ব্রহ্মচর্য, গার্হস্থ্য, বানপ্রস্থ ও সন্ন্যাস—এই চার আশ্রমে ভাগ করা হয়েছে; প্রতিটির সময় গড়ে পঁচিশ বছর। দ্বিতীয় পঁচিশ বছর গার্হস্থ্য আশ্রম। বিবাহের মাধ্যমে সন্তান লাভ, তাদের ভরণ-পোষণ এবং প্রতিদিন পাঁচটি যজ্ঞের অনুশীলন—পিতৃযজ্ঞ, দেবযজ্ঞ, ভূতযজ্ঞ, নৃযজ্ঞ ও ঋষিযজ্ঞ—এ আশ্রমের কর্তব্য। এছাড়া সমাজের প্রতি কর্তব্য হিসেবে মঠ, মন্দির, বিদ্যালয়, চিকিৎসালয় স্থাপন ও সেবাধর্ম পালনও গার্হস্থ্য আশ্রমের কর্ম।
উদ্দীপকের সাথে প্রয়োগ : কমল বাবু পরিবারের দেখাশোনা করেন। তিনি সন্তানের খাওয়া-পরা ও লেখাপড়া এবং মা-বাবার ভরণ-পোষণের খরচ বহন করেন, যা গার্হস্থ্য আশ্রমের সংসার দায়িত্ব। তিনি প্রতিদিন পাঁচটি যজ্ঞের অনুশীলন করেন এবং সমাজের অন্য দায়িত্বও নিষ্ঠার সাথে পালন করেন। এ সবই গার্হস্থ্য আশ্রমের বৈশিষ্ট্য।
অতএব, কমল বাবুর কর্মকাণ্ড গার্হস্থ্য আশ্রমের অন্তর্গত।
- ঘ)
উদ্দীপকে সুবাস বাবুর জীবনযাপন সন্ন্যাস আশ্রমের নির্দেশনার সাথে মেলে। আমার মতে, শর্তসাপেক্ষে এ কর্মের মাধ্যমে ঈশ্বরপ্রাপ্তি সম্ভব।
ধারণা : সন্ন্যাস শব্দের অর্থ সম্পূর্ণরূপে ত্যাগ। শাস্ত্র অনুযায়ী এ আশ্রমে মানুষ জাগতিক কর্ম পরিত্যাগ করে কেবল ঈশ্বরচিন্তায় মগ্ন থাকেন, দুপুরের আহার লোকালয় থেকে সংগ্রহ করেন, বাকি দু’বেলা স্বল্প আহার করেন এবং আশ্রয়হীন অবস্থায় মন্দির বা দেবালয়ে ক্ষণকাল আশ্রয় নেন।
১. শাস্ত্রসম্মত পথ : সুবাস বাবু অবসর গ্রহণের পর পরকালের কথা ভেবে মঠ-মন্দিরে রাত যাপন করেন, দুপুরে লোকালয় থেকে খাবার সংগ্রহ করেন এবং রাতে স্বল্প আহার করেন। এ জীবনযাপন সন্ন্যাসের বিধান অনুযায়ী, তাই তা শাস্ত্রসম্মত।
২. ঈশ্বরচিন্তা ও জ্ঞানযোগ : তিনি সব সময় ঈশ্বরচিন্তায় বিভোর থাকেন। জ্ঞান ও ধ্যানের মাধ্যমে ঈশ্বরকে অন্তরে অনুভব করা মোক্ষলাভের উপায়। প্রাচীন ঋষিগণ কাম্যকর্ম ত্যাগ করে সন্ন্যাস গ্রহণকেই মুক্তির পথ বলেছিলেন।
৩. সংযম ও ভোগাসক্তি ত্যাগ : সাধারণ জীবনযাপন, স্বল্প আহার এবং সংসারের প্রতি আসক্তি ত্যাগ—এ সংযম চিত্তকে শুদ্ধ করে। সন্ন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য কর্মফলাসক্তি ও ভোগাসক্তি ত্যাগ।
৪. সতর্কতা : গীতায় বলা হয়েছে, কর্মফলের বাসনা না করে যিনি কর্তব্যকর্ম করেন তিনিই সন্ন্যাসী ও যোগী; শুধু কর্মত্যাগই সন্ন্যাস নয়। তাই সুবাস বাবু যদি নিষ্কাম ভাব, শ্রদ্ধা ও একনিষ্ঠতার সাথে সাধনা করেন, তবে ঈশ্বরপ্রাপ্তি সম্ভব। তবে কলিযুগে গার্হস্থ্য আশ্রমে থাকাই ভালো বলা হয়েছে।সুতরাং, ফলাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করে একনিষ্ঠভাবে ঈশ্বরচিন্তা করলে সুবাস বাবুর জীবনযাপনের মাধ্যমে ঈশ্বরলাভ সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও