বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৫
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন
দৃশ্যপট-১: রহিম সাহেব একটি ভিডিও ক্লিপে তার শিক্ষার্থীদের দেখান যে, একজন বিধবা মহিলাকে নিরামিষ আহার করে বিলাসিতা ত্যাগ করতে হতো, এমন কি মৃত স্বামীর চিতায় সহমরণে যেতে হতো।দৃশ্যপট-২: অন্য একটি ভিডিওতে দেখা যায় গ্রামের লোকদের দরকারি জিনিসপত্র গ্রামেই তৈরি করত। এমনকি বিশ্ব বিখ্যাত মসলিন এই বাংলাতেই তৈরি হতো।
- ক)(1)
শালবন বিহার কোথায় অবস্থিত?
- খ)(2)
প্রাচীন বাংলার অর্থনীতিকে কৃষিনির্ভর অর্থনীতি বলার কারণ ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
দৃশ্যপট-১ এর ঘটনাটিতে প্রাচীন বাংলার কোন ধরনের অবস্থার কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
দৃশ্যপট-২ এর অবস্থা দেখে কি বোঝা যায় যে, একসময় প্রাচীন বাংলা শিল্পে অত্যন্ত সমৃদ্ধ ছিল? মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
শালবন বিহার কুমিল্লার কোটবাড়ি-সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থিত।
- খ)
প্রাচীন বাংলার অধিকাংশ মানুষ গ্রামে বাস করত এবং গ্রামের আশপাশের জমি চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করত। ধান ছিল প্রধান ফসল। এছাড়া পাট, ইক্ষু, তুলা, নীল, সরিষা ও পানের চাষও হতো। অর্থনীতির মূল ভিত্তি ছিল কৃষি, আর শিল্প ও বাণিজ্যও কৃষিজ দ্রব্যের ওপর অনেকটা নির্ভর করত। এ কারণে প্রাচীন বাংলার অর্থনীতিকে কৃষিনির্ভর বলা হয়।
- গ)
দৃশ্যপট-১-এর ঘটনায় প্রাচীন বাংলার নারীর অধঃস্তন সামাজিক অবস্থা ও সতীদাহের মতো কুপ্রথার কথা বলা হয়েছে।
প্রাচীন বাংলায় সমাজে নারীর মর্যাদা কম ছিল। বিধবাকে নিরামিষ আহার করে সব ধরনের বিলাসিতা ত্যাগ করতে হতো। স্বামীর মৃত্যু হলে স্ত্রীকে মৃত স্বামীর চিতায় সহমরণে যেতে হতো, যাকে সতীদাহ প্রথা বলে। ধন-সম্পত্তিতে নারীদের আইনগত অধিকার ছিল না। উদ্দীপকে বিধবার নিরামিষ আহার, বিলাসিতা ত্যাগ ও সহমরণের বর্ণনা এই সামাজিক অবস্থাকেই তুলে ধরে।
- ঘ)
হ্যাঁ, দৃশ্যপট-২-এর অবস্থা দেখে বোঝা যায় যে প্রাচীন বাংলা শিল্পে অত্যন্ত সমৃদ্ধ ছিল।
১. উদ্দীপকে বলা হয়েছে, গ্রামের লোকদের দরকারি জিনিসপত্র গ্রামেই তৈরি হতো। প্রাচীন বাংলায় কুটির শিল্প উন্নত ছিল। মাটির কলস-হাঁড়ি, লোহার দা-কোদাল-লাঙ্গল, কাঠের আসবাব, পাল্কি, গরুর গাড়ি ও নৌকা গ্রামেই তৈরি হতো। স্বর্ণ-রৌপ্য ও মণি-মাণিক্য শিল্পও উন্নত ছিল।
২. বিশ্বখ্যাত মসলিন প্রাচীনকাল থেকেই বাংলায় তৈরি হতো। এ কাপড় এত সূক্ষ্ম ছিল যে ২০ গজ মসলিন একটি দিয়াশলাইয়ের বাক্সের মতো ছোট বাক্সে ভরা যেত। সুতি ও রেশমি বস্ত্রের জন্যও বাংলা প্রসিদ্ধ ছিল।
৩. শিল্পদ্রব্যের চাহিদা ছিল ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ও বিদেশে। সুতি ও রেশমি কাপড়, চিনি, মশলা ইত্যাদি রপ্তানি হতো।
সুতরাং, গ্রামভিত্তিক স্বয়ংসম্পূর্ণ কুটির শিল্প ও মসলিনের খ্যাতি প্রমাণ করে যে প্রাচীন বাংলা শিল্পে সমৃদ্ধ ছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও