জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
নিচের উদ্দীপকটি লক্ষ কর-
ক. বিবর্তন তত্ত্ব | ল্যামার্কিজম | ডারউইনিজম
খ. বিবর্তনের প্রমাণাদি | |
- ক)(1)
এপিস্ট্যাসিস কী?
- খ)(2)
সেক্স লিংকড ইনহেরিটেন্স বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকের মতবাদ দুটির মধ্যে তুলনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের 'খ' এর সপক্ষে প্রমাণাদির মধ্যে অঙ্গ সংস্থানিক প্রমাণ অন্যতম - ব্যাখ্যা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একটি জিন যখন অন্য একটি নন-অ্যালিলিক জিনের বৈশিষ্ট্য প্রকাশে বাধা দেয়, তখন সেই প্রক্রিয়াকে এপিস্ট্যাসিস বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সেক্স ক্রোমোজোমে (প্রধানত X ক্রোমোজোমে) অবস্থিত জিনগুলোকে সেক্স-লিংকড জিন বলা হয়। এই সেক্স-লিংকড জিন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত বৈশিষ্ট্যগুলোর এক প্রজন্ম থেকে পরবর্তী প্রজন্মে সঞ্চারিত হওয়ার প্রক্রিয়াকে সেক্স লিংকড ইনহেরিটেন্স বলে। যেমন—মানুষের লাল-সবুজ বর্ণান্ধতা এবং হিমোফিলিয়া রোগের বংশানুক্রমিক সঞ্চারণ। এ ধরনের বৈশিষ্ট্যগুলো লিঙ্গভেদে ভিন্নভাবে প্রকাশিত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত মতবাদ দুটি হলো ল্যামার্কের মতবাদ (ল্যামার্কিজম) এবং ডারউইনের মতবাদ (ডারউইনিজম)। এদের মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা নিচে দেওয়া হলো:
১. মূল ভিত্তি: ল্যামার্কিজমের মূল ভিত্তি হলো অঙ্গের ব্যবহার ও অব্যবহার এবং পরিবেশের প্রভাবে অর্জিত বৈশিষ্ট্যের বংশানুসরণ। পক্ষান্তরে, ডারউইনিজমের মূল ভিত্তি হলো প্রাকৃতিক নির্বাচন, অস্তিত্বের জন্য সংগ্রাম এবং প্রকরণ।
২. প্রকরণ সৃষ্টি: ল্যামার্ক মনে করতেন পরিবেশের পরিবর্তন সরাসরি জীবের মধ্যে নতুন বৈশিষ্ট্যের (অর্জিত বৈশিষ্ট্য) জন্ম দেয়। অন্যদিকে ডারউইনের মতে, জীবে প্রকরণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে পূর্ব থেকেই বিদ্যমান থাকে এবং প্রকৃতি অনুকূল প্রকরণযুক্ত জীবকে নির্বাচন করে।
৩. নতুন প্রজাতি সৃষ্টি: ল্যামার্কের মতে, অর্জিত বৈশিষ্ট্যের ক্রমাগত সঞ্চারণের ফলেই নতুন প্রজাতির উদ্ভব হয়। ডারউইনের মতে, প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে যোগ্যতমের বেঁচে থাকা এবং বংশবৃদ্ধির ফলে দীর্ঘ সময় ধরে অনুকূল প্রকরণ জমা হয়ে নতুন প্রজাতির সৃষ্টি হয়।
৪. বৈজ্ঞানিক গ্রহণযোগ্যতা: আধুনিক জেনেটিক্সের আলোকে ল্যামার্কের অর্জিত বৈশিষ্ট্যের বংশানুসরণ নীতিটি বাতিল হয়ে গেছে, কিন্তু ডারউইনের প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্ব আধুনিক বিবর্তনবিদ্যার প্রধান ভিত্তি হিসেবে সর্বজনস্বীকৃত।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'খ' নির্দেশ করছে বিবর্তনের বিভিন্ন প্রমাণাদি, যার মধ্যে তুলনামূলক অঙ্গসংস্থানিক প্রমাণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অন্যতম শক্তিশালী প্রমাণ।
বিভিন্ন জীবগোষ্ঠীর বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ গঠন বিশ্লেষণ করে বিবর্তনের সপক্ষে যেসব প্রমাণ পাওয়া যায়, তাকে অঙ্গসংস্থানিক প্রমাণ বলে। এটি নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা যায়:
১. সমসংস্থ অঙ্গ (Homologous Organs): যেসব অঙ্গের উৎপত্তি ও অভ্যন্তরীণ গঠন এক, কিন্তু বাহ্যিক রূপ ও কাজ ভিন্ন, তাদের সমসংস্থ অঙ্গ বলে। যেমন—পাখির ডানা, বাদুড়ের ডানা, তিমির ফ্লিপার, ঘোড়ার অগ্রপদ এবং মানুষের হাত। এদের প্রত্যেকের অস্থিগুলোর বিন্যাস (হিউমেরাস, রেডিয়াস, আলনা, কার্পাল, মেটাকার্পাল ও ফ্যালাঞ্জেস) এক ও অভিন্ন। এ থেকে প্রমাণিত হয় যে এরা একটি অভিন্ন পূর্বপুরুষ থেকে বিবর্তিত হয়ে বিভিন্ন পরিবেশে অভিযোজিত হয়েছে (অপসারী বিবর্তন)।
২. সমবৃত্তি অঙ্গ (Analogous Organs): যেসব অঙ্গ উৎপত্তি ও অভ্যন্তরীণ গাঠনিক দিক থেকে ভিন্ন, কিন্তু একই ধরনের কাজ সম্পন্ন করে, তাদের সমবৃত্তি অঙ্গ বলে। যেমন—পতঙ্গের ডানা এবং পাখির ডানা। এটি প্রমাণ করে যে ভিন্ন ভিন্ন পূর্বপুরুষ থেকে উদ্ভূত হলেও একই পরিবেশগত চাহিদার কারণে তাদের মধ্যে কার্যগত সাদৃশ্য দেখা দিয়েছে (অভিসারী বিবর্তন)।
৩. নিষ্ক্রিয় বা লুপ্তপ্রায় অঙ্গ (Vestigial Organs): জীবদেহে অবস্থিত যেসব অঙ্গ অতীতে পূর্বপুরুষে সক্রিয় ও কার্যকর ছিল কিন্তু বর্তমানে অকেজো বা সংকুচিত অবস্থায় রয়েছে, তাদের নিষ্ক্রিয় অঙ্গ বলে। যেমন—মানুষের অ্যাপেন্ডিক্স, নিকটিটেটিং পর্দা, কক্সিস ইত্যাদি। এটি প্রমাণ করে মানুষ এমন কোনো পূর্বপুরুষ থেকে বিবর্তিত হয়েছে যাদের দেহে এই অঙ্গগুলো কার্যকর ছিল।
সুতরাং, অঙ্গসংস্থানিক বিভিন্ন উপাদানের সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে আধুনিক জটিল জীবসমূহ সরল পূর্বপুরুষ থেকেই বিবর্তনের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও