পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব : বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভ • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
তৎকালীন বাঙালি মুসলিমদের অগ্রগতিতে দুইজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের অবদান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এদের একজন ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক 'নবাব' উপাধি প্রাপ্ত হয়েছিলেন এবং অন্যজন জন্মেছিলেন নবাব পরিবারে।
- ক)(1)
'কৃষক-প্রজা পার্টি' কে প্রতিষ্ঠা করেন?
- খ)(2)
ফরায়েজি আন্দোলন বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
শিক্ষাক্ষেত্রে প্রথম ইগিতকৃত ব্যক্তিত্বের অবদান আলোচনা করো।
- ঘ)(4)
ব্রিটিশ ভারতের রাজনৈতিক আগনে দ্বিতীয় ইঙ্গিতকৃত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের অবদান মূল্যায়ন করো
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'কৃষক-প্রজা পার্টি' প্রতিষ্ঠা করেন একে ফজলুল হক (শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে হাজী শরীয়তুল্লাহ কর্তৃক পরিচালিত ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কার আন্দোলনকে 'ফরায়েজি আন্দোলন' বলা হয়। 'ফরায়েজ' আরবি 'ফরজ' শব্দের বহুবচন, যার অর্থ অবশ্য করণীয় কর্তব্য। ইসলামের মৌলিক বিধান ও ফরজ নির্দেশনাসমূহ যথাযথভাবে পালন এবং সমাজে প্রচলিত অনৈসলামিক কুসংস্কার দূর করার উদ্দেশ্যেই এ আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল। পরবর্তীতে এটি জমিদার ও নীলকরদের শোষণের বিরুদ্ধে কৃষক প্রতিরোধ আন্দোলনে রূপ নেয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে প্রথম ইঙ্গিতকৃত ব্যক্তিত্ব হলেন নবাব আব্দুল লতিফ, যিনি ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক 'নবাব' উপাধি লাভ করেছিলেন। শিক্ষাক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়া বাঙালি মুসলমানদের আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে তাঁর অবদান অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
১. মোহামেডান লিটারেরি সোসাইটি প্রতিষ্ঠা: ১৮৬৩ সালে তিনি কলকাতায় 'মোহামেডান লিটারেরি সোসাইটি' প্রতিষ্ঠা করেন, যা মুসলিম শিক্ষিত সমাজের মধ্যে আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান ও ইংরেজি শিক্ষার বিস্তার ঘটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
২. মাদ্রাসার আধুনিকায়ন: তিনি মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং সেখানে ইংরেজি ও ফারসি ভাষা শিক্ষার ব্যবস্থা করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
৩. হিন্দু কলেজের সংস্কার: তিনি হিন্দু কলেজকে প্রেসিডেন্সি কলেজে রূপান্তর করে তা সকল ধর্মের শিক্ষার্থীর জন্য উন্মুক্ত করতে ভূমিকা রাখেন এবং মুসলমানদের জন্য মোহসিন ফান্ডের সহায়তায় পৃথক সুযোগ তৈরি করেন।
৪. শিক্ষা তহবিল গঠন: তিনি পশ্চাৎপদ মুসলিম শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুবিধার্থে বৃত্তির ব্যবস্থা করেন।এভাবে নবাব আব্দুল লতিফ বাঙালি মুসলিম সমাজে আধুনিক শিক্ষার ভিত্তি স্থাপন করেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে দ্বিতীয় ইঙ্গিতকৃত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হলেন ঢাকার নবাব পরিবারের সন্তান নবাব সলিমুল্লাহ। ব্রিটিশ ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁর অবদান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও সুদূরপ্রসারী:
১. বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন: ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ কার্যকর করার পেছনে নবাব সলিমুল্লাহ মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশের রাজধানী হিসেবে ঢাকাকে কেন্দ্র করে পূর্ববঙ্গের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথ সুগম করতে তিনি লর্ড কার্জনকে সমর্থন দেন।
২. মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা: তিনিই ১৯০৬ সালে ঢাকায় সর্বভারতীয় মুসলিম শিক্ষা সম্মেলন আহ্বান করেন এবং সেখানে নিখিল ভারত মুসলিম লীগ (All India Muslim League) প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এটিই পরবর্তীতে মুসলমানদের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক মঞ্চ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
৩. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি: বঙ্গভঙ্গ রদের (১৯১১) ক্ষতিপূরণ হিসেবে এবং পূর্ববঙ্গের পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর উচ্চশিক্ষার স্বার্থে তিনি তৎকালীন বড়লাট লর্ড হার্ডিঞ্জের কাছে ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জোরালো দাবি জানান। তাঁর এই উদ্যোগের ফলেই পরবর্তীতে ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।সুতরাং, ব্রিটিশ ভারতের রাজনৈতিক মঞ্চে মুসলমানদের পৃথক রাজনৈতিক অস্তিত্ব প্রতিষ্ঠা ও নেতৃত্বের বিকাশে নবাব সলিমুল্লাহর ভূমিকা অবিস্মরণীয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও