ব্যবসায় উদ্যোগ • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৪
ব্যবসায় উদ্যোগ প্রশ্ন
সুমন, মোহন ও রাজন তিন বন্ধু মিলে একটি অংশীদারি ব্যবসায় স্থাপন করেছিলেন। কিন্তু উক্ত ব্যবসায়ে মূলধনের অপ্রতুলতা, আইনগত সীমাবদ্ধতা ও অসীম দায়ের কারণে তারা বৃহদায়তন ব্যবসায়ে আগ্রহী হলেন। উক্ত ব্যবসায় গঠনের জন্য তারা বিভিন্ন দলিলপত্র প্রণয়নের প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। তারা মনে করেন বর্তমানে ব্যবসায়টি বেকারত্ব দূর করে জাতীয় আয় বৃদ্ধিতে মুখ্য ভূমিকা রাখবে।
- ক)(1)
অংশীদারি ব্যবসায় কাকে বলে?
- খ)(2)
সমবায় সমিতির দুইটি মূলনীতি ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে কী কী ধরনের দলিল প্রণয়নের কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের ব্যবসায়টি কীভাবে জাতীয় আয় বৃদ্ধিতে মুখ্য ভূমিকা রাখবে? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে দুই বা ততোধিক ব্যক্তির মধ্যে চুক্তিবদ্ধ সম্পর্কের মাধ্যমে গঠিত যে ব্যবসায় তারা সকলে অথবা তাদের মধ্য থেকে একজন সবার পক্ষে পরিচালনা করেন, তাকে অংশীদারি ব্যবসায় বলে।
- খ)
সমবায় সমিতির দুইটি মূলনীতি হলো—
১. একতা: সমমনা, সমপেশা ও সমশ্রেণির লোকদের একতা। 'একতাই বল' নীতির ভিত্তিতেই সমবায়ের উৎপত্তি।
২. সাম্য: সদস্যরা অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক বা ধর্মীয়ভাবে যেমনই হোক, সবাই সমান মর্যাদা ও অংশগ্রহণের অধিকারী। - গ)
উদ্দীপকে সুমন, মোহন ও রাজন অংশীদারি ব্যবসায় থেকে মূলধনের অপ্রতুলতা, আইনগত সীমাবদ্ধতা ও অসীম দায়ের কারণে বৃহদায়তন ব্যবসায়, অর্থাৎ কোম্পানি গঠনে আগ্রহী হয়েছেন। কোম্পানি গঠনের জন্য তারা যে দলিলপত্র প্রণয়ন করবেন, সেগুলো হলো—
১. স্মারকলিপি: এটি কোম্পানির মূল দলিল বা সংবিধান। এতে কোম্পানির নাম, নিবন্ধিত কার্যালয়ের ঠিকানা, উদ্দেশ্য, মূলধনের পরিমাণ, শেয়ারমালিকদের দায়দায়িত্ব, ন্যূনতম চাঁদা ইত্যাদি থাকে।
২. পরিমেল নিয়মাবলি: এতে কোম্পানির অভ্যন্তরীণ পরিচালনাসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সকল বিষয় লিপিবদ্ধ থাকে। - ঘ)
উদ্দীপকের ব্যবসায়টি কোম্পানি (যৌথমূলধনি) ব্যবসায়। এটি নিচের উপায়ে জাতীয় আয় বৃদ্ধিতে মুখ্য ভূমিকা রাখবে—
১. বিপুল মূলধন সংগ্রহ: শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে কোম্পানি বিশাল মূলধন সংগ্রহ করে বড় শিল্পকারখানা গড়তে পারে, ফলে উৎপাদন ও আয় বাড়ে।
২. কর্মসংস্থান সৃষ্টি: বৃহদায়তন ব্যবসায়ে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান হয়। এতে বেকারত্ব কমে, জীবনযাত্রার মান উন্নত হয় ও মাথাপিছু আয় বাড়ে।
৩. সসীম দায় ও বড় বিনিয়োগ: সদস্যদের দায় সীমিত হওয়ায় বড় ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ সম্ভব হয়, যা একমালিকানা বা অংশীদারি ব্যবসায়ে কঠিন।
৪. উন্নত প্রযুক্তি: কোম্পানি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প গড়ে তুলতে পারে, ফলে পণ্যের মান ও পরিমাণ বাড়ে।সুতরাং, উদ্দীপকের ব্যবসায়টি কর্মসংস্থান ও উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে জাতীয় আয় বৃদ্ধিতে মুখ্য ভূমিকা রাখবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও