ইসলাম • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৬
ইসলাম প্রশ্ন
প্রেক্ষাপট-১ : ইমাম সাহেব জুমার খুতবায় একটি সূরার গুরুত্ব ও ফজিলত নিয়ে আলোচনা করছিলেন। আলোচনার এক পর্যায়ে তিনি বললেন, মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এরশাদ করেন, “নিশ্চয়ই আমি মানুষকে অতি উত্তম গঠনে সৃষ্টি করেছি”
প্রেক্ষাপট-২ : আলমনগর বিদ্যালয়ের শিক্ষক আমজাদ হোসেন মাসিক সভায় অতিরিক্ত গরমের কারণে গ্রীষ্মকালীন সমাবেশ শ্রেণিকক্ষে করার প্রস্তাব করেন। উপস্থিত সকল শিক্ষক এই প্রস্তাবের পক্ষে মতামত প্রদান করেন। সকলে একমত হওয়ার ফলে প্রধান শিক্ষক প্রস্তাবটি পাশ হলো মর্মে ঘোষণা দেন। ফলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত গরমে মাঠে সমাবেশ করা থেকে মুক্তি পায়।
- ক)(1)
কিয়াস কাকে বলে?
- খ)(2)
কাজের ফলাফল নিয়তের উপর নির্ভরশীল?—ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
প্রেক্ষাপট-১ এ তিলাওয়াতকৃত আয়াতটি চিহ্নিতপূর্বক সংশ্লিষ্ট সূরার আলোকে ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
প্রেক্ষাপট-২ এ গ্রীষ্মকালীন সমাবেশ শ্রেণিকক্ষে করার সিদ্ধান্তের প্রক্রিয়াটি ইসলামি শরিয়তের যে উৎসের সাথে সংগতিপূর্ণ তার গুরুত্ব ও তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
কুরআন, সুন্নাহ ও ইজমায় যে বিষয়ের সুস্পষ্ট বিধান নেই, সেই বিষয়ে অনুরূপ বিষয়ের সাদৃশ্যের ভিত্তিতে মুজতাহিদের দেওয়া সিদ্ধান্তকে কিয়াস বলে।
- খ)
মহানবি (স.) বলেছেন, সব কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল (বুখারি ও মুসলিম)। অর্থাৎ কাজের সওয়াব বা গুনাহ নির্ভর করে কাজটি কোন উদ্দেশ্যে করা হয়েছে তার ওপর। আল্লাহর সন্তুষ্টির নিয়তে করা ভালো কাজে সওয়াব হয়, আর লোক দেখানো বা খারাপ উদ্দেশ্যে করা কাজ ভালো দেখালেও আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তাই প্রতিটি কাজের আগে নিয়ত বিশুদ্ধ করা জরুরি।
- গ)
প্রেক্ষাপট-১-এ তিলাওয়াতকৃত আয়াতটি হলো সূরা আত-তীনের ৪ নম্বর আয়াত: ‘নিশ্চয়ই আমি মানুষকে সর্বোত্তম গঠনে সৃষ্টি করেছি।’ এই সূরায় আল্লাহ তীন, যয়তুন, তুর পর্বত ও নিরাপদ নগরী মক্কার শপথ করে মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করেছেন। মানুষকে সুন্দর দেহ, বুদ্ধি ও বিবেক দেওয়া হয়েছে। কিন্তু যারা ইমান ও সৎকর্ম থেকে দূরে থাকে, তাদের আল্লাহ হীনতম স্তরে ফিরিয়ে দেন। আর যারা ইমান আনে ও সৎকর্ম করে, তাদের জন্য অফুরন্ত পুরস্কার রয়েছে। তাই মানুষের উচিত এই মর্যাদা রক্ষা করে সৎ জীবনযাপন করা।
- ঘ)
প্রেক্ষাপট-২-এর প্রক্রিয়াটি শরিয়তের ইজমা-এর সাথে সংগতিপূর্ণ। সব শিক্ষক একমত হয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা ইজমার মূল ধারণা।
গুরুত্ব ও তাৎপর্য:
১. ইজমা শরিয়তের তৃতীয় উৎস। মহানবি (স.) বলেছেন, আমার উম্মত ভ্রান্তির ওপর একমত হবে না (ইবনে মাজাহ)।
২. নতুন সমস্যার সমাধানে এটি সহায়ক। কুরআন-সুন্নাহর মূলনীতির আলোকে আলেমগণ ঐকমত্যে পৌঁছে বিধান দেন।
৩. ঐকমত্যের সিদ্ধান্তে বিভেদ কমে, ঐক্য বাড়ে এবং সিদ্ধান্ত সর্বজনগ্রাহ্য হয়।সুতরাং, ইজমা ইসলামি আইনকে গতিশীল ও সময়োপযোগী রাখে, যেমন গ্রীষ্মকালীন সমাবেশ শ্রেণিকক্ষে করার ঐকমত্য সবার জন্য কল্যাণ এনেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও